যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় মিলবে ‘শাস্তি’? গোপনে এই দেশের বিরুদ্ধে ছক কষছে আমেরিকা

Published on:

Published on:

Will America punish this country for not cooperating in the war?
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান ও আমেরিকার (America) মধ্যে সংঘাত নিয়ে এখনও উত্তেজনা বজায় রয়েছে। এরই মাঝে নতুন এক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতে আমেরিকার পাশে যে দেশ ছিল না তার বিরুদ্ধে এবার ন্যাটো জোটের ভেতরেই কড়া অবস্থান নিতে পারে বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, পেন্টাগনের একটি গোপন ইমেলে ন্যাটোর সদস্য স্পেনকে সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে। ওই ইমেলে স্পেনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের পাশাপাশি ফকল্যান্ড দ্বীপ নিয়ে ব্রিটেনের দাবিও পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধে সহযোগিতা না করায় স্পেনকে শাস্তি দেবে আমেরিকা (America)?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই নীতিগত প্রস্তাবের পিছনে রয়েছেন পেন্টাগনের শীর্ষ উপদেষ্টা এলব্রিজ কলবি। এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, ইরান ইস্যুতে মিত্র দেশগুলির অনীহা দেখে হতাশ হয়েই এই ধরনের বিকল্প চিন্তা করা হয়েছে। ইমেলে উল্লেখ রয়েছে, যেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাশিত সহযোগিতা করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে ন্যাটোর ভেতরেই কিছু পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়লেও কমেনি সংঘর্ষ! লেবাননে ফের হামলা ইজরায়েলের, মৃত একাধিক

প্রসঙ্গত, ইরানের সঙ্গে সংঘর্ষের জেরে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালী সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যার ফলে বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়। এই পরিস্থিতিতে সামরিক সহায়তা দিতে এগিয়ে আসেনি স্পেন। এমনকি তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনও সামরিক অভিযান চালাতে দেওয়া হবে না। এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হন ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি প্রকাশ্যে ন্যাটো সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ন্যাটো চুক্তি অনুযায়ী কোনও সদস্য রাষ্ট্রকে একতরফাভাবে সাসপেন্ড করার স্পষ্ট বিধান নেই। পেন্টাগন নিজেও স্বীকার করেছে যে, এই ধরনের পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি দুর্বল। তবুও, ভবিষ্যতে মিত্র দেশগুলির কাছ থেকে আরও সক্রিয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।Will America punish this country for not cooperating in the war?

আরও পড়ুন: চলতি বছরের জুনেই হতে চলেছে G7 সামিট! ফের সাক্ষাতের সম্ভাবনা ট্রাম্প-মোদীর

অন্যদিকে, ব্রিটেন ও ফ্রান্স সরাসরি ইরান-আমেরিকার (America) এই সংঘাতে অংশ না নিলেও হরমুজ় প্রণালী খোলা রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং সংঘর্ষবিরতির আহ্বান জানিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের অভ্যন্তরে মতভেদের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে।