১৮ মাস DA বন্ধ, এক কর্মীরই ২৫ হাজার ক্ষতি! নয়া পে কমিশনে বড় দাবি

Published on:

Published on:

Dearness Allowance
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কোভিড-১৯-এর সময় দেশের অর্থনীতি চাপে পড়েছিল। আর সেই পরিস্থিতিতে কেন্দ্র সরকার একটি বড় সিদ্ধান্ত নেয়। সেই সময় সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ (Dearness Allowance) কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়। তখন অনেকেই বিষয়টি গুরুত্ব দেননি, কিন্তু এখন হিসাব কষে দেখা যাচ্ছে, সেই সিদ্ধান্তে সরকারি কর্মীদের পকেটে সরাসরি প্রভাব পড়েছে। নতুন করে সামনে আসা এক হিসাব বলছে, মাত্র একজন গ্রুপ সি লেভেল ১ কর্মীরই প্রায় ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে এই ১৮ মাসে।

কীভাবে হল এই ক্ষতি? বিস্তারিত হিসাব সামনে (Dearness Allowance)

২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু হয় এই ডিএ (Dearness Allowance) স্থগিতের পর্ব। তখন একজন গ্রুপ সি লেভেল ১ কর্মীর বেসিক বেতন ছিল ১৮,০০০ টাকা। সেই অনুযায়ী ৪% হারে ডিএ মিলত ৭২০ টাকা। এর সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্স ৯০০ টাকা এবং তার উপর ডিএ ২৭ টাকা—এই হিসাবেই চলছিল সব। কিন্তু জুলাই ২০২০-তে যে ডিএ বাড়ার কথা ছিল, তা আর বাড়েনি। একইভাবে ২০২১ সালের জানুয়ারিতেও সংশোধন আটকে দেওয়া হয়। ফলে কর্মীরা আগের মতোই কম হারে ডিএ পেতে থাকেন, যদিও বাজারে তখন দাম বাড়ছিল লাগাতার।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে ইনক্রিমেন্টের ফলে বেসিক বেতন বেড়ে ১৮,৫০০ টাকা হয় ঠিকই, কিন্তু ডিএ (Dearness Allowance) তখনও পুরনো হারেই আটকে ছিল। পরে যখন স্থগিতাদেশ তোলা হয়, তখন একসঙ্গে নতুন হারে ডিএ কার্যকর হয়, কিন্তু আগের ১৮ মাসের বকেয়া আর দেওয়া হয়নি।

মোট ক্ষতির অঙ্ক কত?

পুরো ১৮ মাসে শুধু ডিএ বাবদ একজন কর্মীর প্রায় ২৪,০৯০ টাকা পাওনা ছিল। এর সঙ্গে ট্রান্সপোর্ট অ্যালাউন্সের ডিএ (Dearness Allowance) যোগ করলে আরও ১,১৩৪ টাকা। সব মিলিয়ে মোট ক্ষতি দাঁড়ায় ২৫,২২৪ টাকা। এই হিসাব শুধুমাত্র সর্বনিম্ন স্তরের এক কর্মীর জন্য। এর মধ্যে পেনশনভোগী বা উচ্চ বেতনের কর্মীদের ক্ষতি ধরা হয়নি।

কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল?

সরকারি ব্যাখ্যা অনুযায়ী, কোভিড পরিস্থিতিতে রাজস্ব কমে গিয়েছিল, অন্যদিকে স্বাস্থ্য ও ত্রাণ খাতে খরচ বেড়েছিল। সেই চাপ সামলাতে ডিএ (Dearness Allowance) স্থগিত রাখার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে প্রায় ৪৮ লক্ষ কর্মী রয়েছেন। ডিএ স্থগিত সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ছিল। ফলে মোট ক্ষতির অঙ্ক কয়েক হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

dearness allowance(168)

আরও পড়ুনঃ অভিনয় ছেড়ে রাজনীতি? ভোটের আগে নতুন ভূমিকায় পরমব্রত, তৃণমূলের হয়ে প্রচার শুরু

৮ম বেতন কমিশনে কেন উঠছে এই ইস্যু?

এখন ৮ম বেতন কমিশনের আলোচনায় এই বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, ডিএ (Dearness Allowance) স্থগিতের সময় যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর নির্ধারণের সময় বিবেচনা করতে হবে। ৭ম বেতন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। এবার অনেকেই চাইছেন তা ৩.০ বা তার বেশি হোক, যাতে আগের ক্ষতির কিছুটা হলেও পোষানো যায়। কেন্দ্রীয় কর্মী ও পেনশনভোগীরা চাইলে নিজেদের মতামত ৮ম বেতন কমিশনের কাছে জমা দিতে পারেন। অনলাইনে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ এপ্রিল ২০২৬।