সরকার কনটেন্ট মুছে ফেলতে বললেই ‘এক্স’ ব্যবহারকারীদের জানানো হবে কারণ! ঘোষণা মাস্কের

Published on:

Published on:

Elon Musk announces X's new policy on censorship on social media.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) কোনও পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে তার পিছনে সরকারি নির্দেশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রশ্ন ওঠে প্রায়ই। এবার সেই নিয়েই বড় ঘোষণা করলেন ইলন মাস্ক (Elon Musk)। এই বিষয়টিকে আরও স্বচ্ছ করার দাবি বহুদিনের। তবে ‘এক্স’ (X)-এর বর্তমান নীতিতে সরকারি বা আইনি অনুরোধে কোনও কনটেন্ট আটকে দিলে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীকে তা জানানোর ব্যবস্থা আগে থেকেই রয়েছে। এক্স-এর নিয়ম অনুযায়ী, কোনও বৈধ আইনি আবেদনের ভিত্তিতে কনটেন্ট সরানো বা নির্দিষ্ট দেশে তা দেখানো বন্ধ করা হলে, সম্ভব হলে ব্যবহারকারীকে সেই আবেদনের কপিও দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে পাওয়া অনুরোধের পরিসংখ্যান নিয়মিত ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্টে প্রকাশ করে প্ল্যাটফর্মটি।

সোশ্যাল মিডিয়ায় সেন্সরশিপ নিয়ে এক্স- এর নতুন নীতি ঘোষণা মাস্কের (Elon Musk):

এক্স-এর নিয়মে আরও বলা হয়েছে, কোনও সরকারি সংস্থা স্থানীয় আইনের ভিত্তিতে কোনও পোস্ট বা অ্যাকাউন্ট আটকে দেওয়ার আবেদন করতে পারে। সেই আবেদনে কোন আইন লঙ্ঘন হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তার উল্লেখ থাকা প্রয়োজন। আবেদনটি বৈধ কি না, সেটিও এক্স-এর পক্ষ থেকে পর্যালোচনা করা হয়। আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলে কোনও নির্দিষ্ট দেশের ব্যবহারকারীদের জন্য কনটেন্ট ‘withheld’ করা হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অন্য দেশের ব্যবহারকারীরা একই পোস্ট দেখতে পেলেও সংশ্লিষ্ট দেশে সেটি দেখা নাও যেতে পারে। অর্থাৎ কনটেন্ট পুরো বিশ্ব থেকে মুছে ফেলা এবং নির্দিষ্ট দেশে তার অ্যাক্সেস বন্ধ করা—দুটি বিষয়কে এক করে দেখার সুযোগ নেই (Elon Musk)।

আরও পড়ুন: স্কুলছুট কিশোর থেকে ৪৮,০০০ কোটির ব্যবসার মালিক! সিনেমার গল্পকেও হার মানাবে জয় আলুক্কাসের জীবন

এই নীতির গুরুত্ব অবশ্য নতুন করে সামনে এসেছে সরকারি সেন্সরশিপ এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কের আবহে। এক্স-এর নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, সরকার, আদালত এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কাছ থেকে নিয়মিত কনটেন্ট সরানো বা অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত অনুরোধ আসে। প্ল্যাটফর্মটি জানিয়েছে, প্রতিটি অনুরোধের আইনি বৈধতা যাচাই করা হয় এবং অতিরিক্ত বিস্তৃত বা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অযথা বাধাগ্রস্ত করতে পারে এমন আবেদনের ক্ষেত্রে আপত্তি জানানো হতে পারে।

তবে ইলন মাস্কের নেতৃত্বে এক্স যে ‘স্বাধীন মতপ্রকাশ’-কে নিজেদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নীতি হিসেবে তুলে ধরে, তা নতুন নয়। একই সঙ্গে বাস্তবে সরকারি অনুরোধে কনটেন্ট আটকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের সরকারি দাবির পর সেদেশে এক্স ৬০টিরও বেশি সৌদি ভিন্নমতাবলম্বী অ্যাকাউন্ট জিওব্লক করেছে বলে একটি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। সেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারীদের জানানো হয়েছিল যে স্থানীয় আইনি বাধ্যবাধকতার কারণেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ফের প্রশ্ন তুলেছে—সরকারি আইনি নির্দেশ মানা এবং বাক্‌স্বাধীনতা রক্ষা, এই দুইয়ের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলি কীভাবে ভারসাম্য রাখবে।

Elon Musk announces X's new policy on censorship on social media

আরও পড়ুন: জার্মানির সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পে বড় পদক্ষেপ! শীঘ্রই সম্পন্ন হবে ৭০,০০০ কোটির ডুবোজাহাজ চুক্তি?

সহজ কথায়, ‘সরকার যাই ঢাকতে চাইবে, এবার সবকিছু প্রকাশ্যে চলে আসবে’—এমন দাবি করার আগে বিষয়টি একটু সতর্কভাবে দেখা জরুরি। কারণ সরকারি অনুরোধের তথ্য প্রকাশ এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইনের সম্পূর্ণ বিবরণ সবার সামনে তুলে ধরা—দুটি এক বিষয় নয়। এক্স ইতিমধ্যেই সরকারি ও আইনি অনুরোধ নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি রিপোর্ট প্রকাশ করে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের নোটিস দেয়। ফলে নতুন কোনও ঘোষণাকে ‘সম্পূর্ণ নতুন’ নীতি হিসেবে দেখার বদলে, এটিকে এক্স-এর দীর্ঘদিনের কনটেন্ট-উইথহোল্ডিং ও স্বচ্ছতা ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা বেশি সঙ্গত (Elon Musk)।