বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেরালার (Kerala) ত্রিশূর থেকে উঠে এসে সফলভাবে (Success Story) আন্তর্জাতিক গহনার ব্যবসায় নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছেন জয় আলুক্কাস (জয় Alukkas)। একসময় পড়াশোনা শেষ করার আগেই তাঁকে পারিবারিক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে হয়েছিল। ১৫ ভাইবোনের মধ্যে একাদশ সন্তান জয় খুব অল্প বয়সেই ব্যবসার বাস্তব জগতের সঙ্গে পরিচিত হন। সেই অভিজ্ঞতাকেই পরবর্তীকালে কাজে লাগিয়ে তিনি গড়ে তোলেন এমন একটি গহনার ব্র্যান্ড, যার ব্যবসা আজ ভারত ছাড়িয়ে একাধিক দেশে ছড়িয়ে রয়েছে। ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১২ অগস্ট পর্যন্ত তাঁর আনুমানিক সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা।
জয় আলুক্কাসের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
জয়ের ব্যবসায়িক যাত্রার ভিত্তি অবশ্য তৈরি হয়েছিল তাঁর বাবার হাতেই। ১৯৫৬ সালে তাঁর বাবা আলুক্কা জোসেফ ভার্গিস ত্রিশূরে গহনার ব্যবসা শুরু করেছিলেন। পরে ব্যবসা কোঝিকোড় পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। আশির দশকে উপসাগরীয় দেশগুলিতে মালয়ালি সম্প্রদায়ের মানুষের যাতায়াত ও বসবাস বাড়তে থাকায় জয়ের সামনে নতুন বাজারের সম্ভাবনা তৈরি হয়। তিনি বুঝতে পারেন, কেরালার গণ্ডির মধ্যে থেকে ব্যবসা চালানোর বদলে প্রবাসী ভারতীয়দের কাছে পৌঁছনো গেলে আরও বড় বাজার তৈরি করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই ১৯৮৮ সালে আবুধাবিতে প্রথম দোকান খোলেন জয়। প্রবাসী মালয়ালিদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সেই ছোট পদক্ষেপই পরবর্তীকালে আন্তর্জাতিক সম্প্রসারণের ভিত তৈরি করে (Success Story)।
আরও পড়ুন: বিদেশে লুকনো টাকা-সম্পত্তি প্রকাশের সুযোগ, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জানালেই মিলবে বিশেষ ছাড়
তবে শুধু নতুন নতুন দোকান খোলাই তাঁর সাফল্যের কারণ ছিল না। গহনার ব্যবসাকে আরও আধুনিক ও সংগঠিত করার দিকে বিশেষ নজর দেন জয়। তাঁর ধারণা ছিল, বড় ব্যবসা শুধুমাত্র দোকানের কাউন্টারে বসে পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই প্রযুক্তি, সফটওয়্যার এবং নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতির ব্যবহার শুরু করেন তিনি। কর্মীদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক, গ্রাহকদের ধরে রাখতে লয়ালটি প্রোগ্রাম এবং সব দোকানে একই ধরনের ব্র্যান্ড পরিচয় চালু করেন। ২০০০-এর দশকের শুরুতে পারিবারিক ব্যবসায় বিভাজন হওয়ার পর গালফের ব্যবসার দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে। পরে ২০০৫ সালে ব্র্যান্ডটির নাম পরিবর্তন করে ‘জয়ালুক্কাস’ রাখা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও অভিন্ন ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে তিনি ব্যবসাটিকে আরও বড় পরিসরে নিয়ে যান।
গালফে সাফল্যের পর ভারতের বাজারেও নতুন করে জোর দেন জয়। চেন্নাই, মুম্বই ও দিল্লির মতো বড় শহরে একের পর এক শোরুম খোলা হয়। ইতিমধ্যেই তানিষ্ক, কল্যাণ জুয়েলার্স এবং মালাবার গোল্ডের মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতা থাকলেও জয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের বদলে নিজস্ব দোকান পরিচালনার কৌশল বেছে নেন। বর্তমানে ভারতে তাঁর সংস্থার ১০০টিরও বেশি আউটলেট রয়েছে বলে সংস্থার তথ্য অনুযায়ী। পাশাপাশি ইউএই, আমেরিকা, ব্রিটেন, সৌদি আরব এবং কাতার-সহ বিদেশের বিভিন্ন দেশেও প্রায় ৬০টি স্টোর রয়েছে। গহনার পাশাপাশি ব্যবসাকে আরও বৈচিত্র্যময় করতে মানি এক্সচেঞ্জ, টেক্সটাইল এবং রিয়েল এস্টেট ক্ষেত্রেও পা রেখেছে গ্রুপটি।

আরও পড়ুন: হরমুজে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য বড় পদক্ষেপ! ওমানের সঙ্গে চুক্তি ইরানের, ট্রাম্পকে দেওয়া হল জবাব
জয়ালুক্কাসের ব্যবসার আর্থিক বৃদ্ধিও তাঁর দীর্ঘ যাত্রার অন্যতম বড় সাফল্য (Success Story)। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে সংস্থার ভারতীয় ব্যবসা থেকে রাজস্ব প্রায় ২৪,৪৩৯.৪৫ কোটি টাকা হয়েছে, যা আগের অর্থবর্ষের প্রায় ২০,২৩২.৮৯ কোটি টাকার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। একই সময়ে নিট মুনাফাও বেড়ে প্রায় ৩,৩৬৭ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। তবে জয়ের গল্প শুধু বিপুল সম্পদ তৈরির কাহিনি নয়; সীমিত সুযোগ থেকে শুরু করে সময়ের সঙ্গে ব্যবসার ধরন বদলে নেওয়া, নতুন বাজার চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর গল্পও। ত্রিশূরের পারিবারিক গহনার দোকান থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত হওয়ার এই যাত্রাই তাঁকে বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ভারতীয় গহনা ব্যবসায়ীদের তালিকায় জায়গা করে দিয়েছে।













