বাংলাহান্ট ডেস্ক: হরমুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) ঘিরে আমেরিকা (America) ও ইরানের (Iran) মধ্যে উত্তেজনার মধ্যেই কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়েছে তেহরান। গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে ওমানের সঙ্গে একটি পৃথক ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে ইরান। ইরানের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা অনেকটাই এগিয়েছে। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যান্য বিষয় নিয়ে দুই দেশের কথাবার্তা এখনও চলছে। তাঁর দাবি, আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা এবং নৌ অবরোধের পরিস্থিতিতে হরমুজে এখনই আগের মতো সম্পূর্ণ নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।
হরমুজে নিরাপদে জাহাজ চলাচলের জন্য ওমানের সঙ্গে চুক্তি ইরানের (Iran):
হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সাম্প্রতিক উত্তেজনার অন্যতম কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি মন্তব্য। শুক্রবার নিউ ইয়র্কের একটি রাজনৈতিক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের (Iran) বিরুদ্ধে চলা সংঘাতে আমেরিকা জয়ী হবে। একইসঙ্গে তিনি বলেন, ইরানকে পরাজিত করার পর খুব শীঘ্রই হরমুজ প্রণালীকে আমেরিকার ভূখণ্ড ঘোষণা করবেন। তাঁর এই বক্তব্য সামনে আসতেই আন্তর্জাতিক মহলে চর্চা শুরু হয়। যদিও পরে ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের একটি প্রতিবেদনে এক হোয়াইট হাউস আধিকারিকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, ট্রাম্প ওই মন্তব্যটি মজা করে করেছিলেন।
আরও পড়ুন: বকেয়া DA নিয়ে ফের দায়ের মামলা! গ্রান্ট ইন এইড কর্মচারীদের অভিযোগ শুনবেন জাস্টিস অমৃতা সিনহা
তবে ট্রাম্পের বক্তব্যকে হালকা ভাবে নেয়নি তেহরান। ইরানের উপ বিদেশমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি স্পষ্ট করে দেন, হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনও আপসের প্রশ্ন নেই। সমাজমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, হরমুজ প্রণালী ইরানের ছিল, এখনও ইরানের এবং ভবিষ্যতেও ইরানেরই থাকবে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ কখন বন্ধ থাকবে এবং কখন আবার খুলবে, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ইরানেরই। ফলে আমেরিকার বক্তব্যের পাল্টা জবাব দেওয়ার পাশাপাশি হরমুজের উপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও স্পষ্ট করেছে তেহরান।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও হরমুজের গুরুত্ব অপরিসীম। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য জ্বালানি পরিবহণের অন্যতম প্রধান পথ এই জলপথ। বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবহণ হয় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক হিসাব জানায়। ফলে এই জলপথে জাহাজ চলাচল কোনও কারণে ব্যাহত হলে তার প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়। বাড়তে পারে পরিবহণ খরচ এবং তেলের দাম নিয়েও নতুন করে চাপ তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন: ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়! অরুণাচল প্রদেশে ধস ও হড়পা বানে মৃত্যু ৪ শ্রমিকের, নিখোঁজ ৫ সেনা জওয়ান
এই পরিস্থিতিতে ওমানের সঙ্গে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের ব্যবস্থা নিয়ে ইরানের (Iran) আলোচনা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। হরমুজ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা যেমন তেহরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই এই জলপথের নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কমানো গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারের জন্যও জরুরি। আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের আবহে একদিকে হরমুজের উপর নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখার বার্তা দিচ্ছে ইরান, অন্যদিকে ওমানের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জাহাজ চলাচলের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে। ফলে আগামী দিনে এই কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক মহলের।













