বাংলা হান্ট ডেস্কঃ হকার উচ্ছেদ (Hawker Eviction) থেকে শুরু করে জ্ঞানেশ কুমার (Gyanesh Kumar), একাধিক ইস্যুকে কেন্দ্র করে, শ্রীরামপুরের সভা থেকে পুরনো মেজাজে ধরা দিলেন রাজ্যের বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এস আই এর তালিকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার কড়া সমালোচনা করে মমতা এদিন বললেন, ‘বাংলা থেকেই শুধু ৯২ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়েছেন। ‘
হকার উচ্ছেদ-জ্ঞানেশ কুমার নিয়ে শ্রীরামপুর থেকে সুর চড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার কি বলুন তো? যাদের ক্ষমতা আছে, প্রভাব আছে, প্রতিপত্তি আছে, যাদের অনেক কিছু আছে তারা খেতে পাবেন। কিন্তু যারা গরীব মানুষ, যাদের নাম গুলো বাদ দিয়েছেন, তারা আজকে রেশন পর্যন্ত পাচ্ছেন না। তারা ছেলেমেয়ের শিক্ষার স্কলারশিপ পাচ্ছেন না। তাদের কোন অধিকার নেই, সব অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। ‘
স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতেই প্রকাশ্য সভা থেকে শাসক শিবিরকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘সাহস থাকে তো ইলিগ্যাল ঘরবাড়ি ভেঙে দেখান। তা নয় গরিব হকারদের চাকরি খাচ্ছেন। রুজি রোজগার খাচ্ছেন, বেকার করে দিচ্ছেন মানুষকে। লক্ষাধিক মানুষকে বেকার করেছেন আপনারা। আমি হকারদের কেস নিয়ে কোর্টে লড়বো।’
আরও পড়ুনঃ ফেরাতে হবে সমস্ত বাদ যাওয়া নাম, SIR ইস্যুতে বিস্ফোরক মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়
তারপরই বিরাট দাবী জানিয়ে তৃণমূল নেত্রী বললেন, ‘এদের বিকল্প কাজের সন্ধান দিতে হবে। কম্পেন্সেশন দিতে হবে। এদের লাইভ অ্যান্ড লাইভলিহুড কাড়া যায় না। রাইট টু লিভ ইস আওয়ার কনস্টিটিউশনাল রাইট, অ্যান্ড রাইট টু স্পিক আওয়ার কাসটিটিউশনাল রাইট, রাইট টু স্পিক ইজ আওয়ার ডেমোক্রেটিক রাইট। ইউ ক্যান নট ইগনোর। তোমরা যে অত্যাচার করছো খুব শিগগিরই জবাব পাবে। ‘
এরপরেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনের জ্ঞানেশ কুমার কে কটাক্ষ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘কালকে দেখেছেন আপনারা, আমি তো নামটা দিয়েছিলাম ভ্যানিশ কুমার। প্রথম নামটা আমি দিয়েছিলাম। কেন দিয়েছিলাম, সবার নাম ভ্যানিশ করে দিচ্ছে। অক্সিজেন নিয়ে মাকে লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে। কবার লাইন দেবে? ‘
এরপরেই অন্নপূর্ণা ভান্ডার নিয়ে রাজ্যের মা-বোনেদের হয়রানির প্রসঙ্গ তুলে ধরে শাসক শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, ‘অন্নপূর্ণার নামে বিজেপির ধনধন্যা, কেউ পাবে কেউ পাবে না। কই লক্ষীর ভান্ডার তো সবাই পেত। ইলেকশনের আগে তো বলেননি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাবেন না। তখন ফর্ম ফিল আপ করিয়েছিলেন, তখন কোন রেস্ট্রিকশন দেয়নি। তখন প্রতারণা করেছিলেন। মা বোনেদের সাথে সবাই পাবে বলে, আর আজ এক দেড় কোটি মা বোনেরা পায়না। লক্ষীর ভান্ডার কিন্তু মাসে মাসে মা বোনেরা পেতেন। ১৮ থেকে একেবারেই সারা জীবন। আজকে বলছে সাইকেল থাকলে দেব না,বাইক থাকলে দেব না, ফোন থাকলে দেব না, ওয়াশরুম থাকলে দেবে না। এরপর কবে বলবে জামা কাপড় থাকলে দেব না। সবটাই যেন নিজেদের অধিকার। আর সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করছে পুলিশ।’













