বাংলা হান্ট ডেস্কঃ SIR তালিকা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অসংবিধানিক, এই দাবি তুলে শনিবার কলকাতার রাজপথে নেমেছিলেন সিপিএমের মহিলা নেতৃত্বরা (CPIM Womens Wing)। ভোটার তালিকায় আমার নাম ফিরিয়ে দাও। এই দাবিকে সামনে রেখেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে পুলিশের কাছে বাধা পেয়ে কলকাতার ধর্মতলায় জমায়েতে বসেছিলেন মহিলা সমিতির সদস্যরা।
SIR সম্পূর্ণ বেআইনি, নাম ফেরাতে হবে দাবিতে ধর্মতলায় মহিলা সমিতির সদস্যরা
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেখান থেকেই এদিন মহিলা সমিতির তরফ থেকে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা ডেপুটেশনে যাব। ওখানে যাব, যতক্ষণ আমাদের দাবি না মানবে ততক্ষণ ওখানে বসে থাকবো। আমরা কোন অশান্তি করতে আসিনি। এবার নির্বাচন কমিশনকে তার জবাব দিতে হবে। আমাদের নাম আমাদেরকে ফিরিয়ে দিতে হবে। আমরা এসেছি সিইও দপ্তরে আবেদন করতে। আমাদের নাম ফিরিয়ে দিতে হবে। এই পুলিশ উর্দি পরে আছে। আগে ১৫ বছর অব্দি যে ঝান্ডা ধরেছিল, এখন বিজেপির ঝান্ডা ধরেছে। আমাদের নাম, আমাদের ফিরিয়ে দিতে হবে। পুলিশ আমাদের মারছে কেন? কীসের জন্য আমাদের গায়ে হাত তুলছে? কীসের জন্য?’
তাঁদের আরও দাবী, ‘আমরা চেয়েছিলাম নির্বাচন কমিশনের কাছে এই মানুষগুলোর দাবি নিয়ে যেতে। আমাদেরকে যেভাবে আটকানো হলো, আমরা সেই কারণে আমাদের কমরেডকে যারা আমাদের নাম তোলার জন্য আমাদের সাথীরা এসেছিল তাদেরকে আমরা একত্রিত করেছি। কারণ আমরা কোন অশান্তি চাইনি। সেই জন্য আমরা তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছি।’
আরও পড়ুনঃ নির্বাচন কমিশনে সত্যিই কোন্দল? একফ্রেমে ৩ কমিশনারের ছবি প্রকাশ করে জল্পনায় জল ঢালল ECI
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সিপিএম নেত্রী মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় বললেন, ‘আমরা ডেপুটেশনে দিতে এসেছিলাম। টেবিলে কথা হবে। কেন নাম বাদ দিয়েছে বলতে হবে। আর এখন এটা পরিষ্কার, গোটা এস আই আর প্রক্রিয়াটা ভুল-অনৈতিক-বেআইনি এবং অসাংবিধানিক। যেখানে গোটা এসআইআরটা বেআইনি অসাংবিধানিক সেখানে যে নাম বাদ গেছে সেই নাম ফিরে ভোটার লিস্টে আগে তুলতে হবে, পরে অন্য কথা হবে।’
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠছে। এপ্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে, মীনাক্ষী এদিন আরও একবার স্পষ্ট বললেন, ‘আগে নাম ফেরাতে হবে। জানিস কুমারকে তো অ্যারেস্ট করতেই হবে, পদত্যাগও করতে হবে। কিন্তু এই ৩৮ লক্ষ মানুষ, ২৭ লক্ষ মানুষ তাদের নাম আগে ফেরাতে হবে। তবে অন্য কিছু।’
প্রসঙ্গত ভোটার লিস্টের নাম ফেরানোর পাশাপাশি অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এএ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মীনাক্ষী এদিন আবারও বললেন, ‘আগে নাম তুলতে হবে, আগের নাম ফেরাতে হবে । কি অপরাধ ছিল? আগে নাম ফেরাতে হবে তারপর সব কথা। ‘ একইসঙ্গে জোড় গলায় মীনাক্ষী দেবী বললেন, ‘ব্যারিকেড দিয়ে আটকানো হলেও প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। নির্বাচন কমিশনের কাছে মহিলা সমিতির প্রশ্নের উত্তর নেই, তাই পুলিশ আটকাচ্ছে। যদি প্রশ্নের উত্তর থাকতো তাহলে পুলিশ আটকাতো না।’
এখানেই শেষ নয়, বিস্ফোরক অভিযোগ এনে এদিন সিপিএম নেত্রী দাবি করলেন, ‘পুলিশ এতদিন মমতা ব্যানার্জির, সেভ গার্ড করে এসছে, এখন নির্বাচন কমিশনকে করছে। এরপরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে করবে। রাজ্যের সরকারকে করবে। পুলিশ যদি মনে করে এইভাবে, পশ্চিমবঙ্গের গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি কে দাবিয়ে রাখবে পুলিশ ভুল করছে।’ সবশেষে মীনাক্ষীরা দাবি করলেন, ‘বাংলার মহিলাদেরকে পুলিশ ভয় পাচ্ছে, সরকার ভয় পাচ্ছে। অবশ্যই ভয় পাচ্ছে। ভয় পেতে হবে।’













