বাংলাহান্ট ডেস্ক: তামিলনাড়ুর রাজনীতি নিয়ে এখন চারিদিকে চর্চা চলছে। এরই মাঝে এমন একজন আজ তামিল সন্তানের সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প (Success Story) বলব যা অবাক করবে আপনাকেও। তিনি ডঃ এ. ভেলুমণি, দেশের অন্যতম বৃহৎ ডায়াগনস্টিক সংস্থা থাইরোকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা। চরম দারিদ্র্য থেকে উঠে এসে নিজের জেদ, পরিশ্রম এবং দূরদর্শিতার জোরে কীভাবে তিনি কোটি কোটি টাকার ব্যবসা গড়ে তুললেন, সেই গল্প আজও বহু তরুণকে অনুপ্রাণিত করে। গ্রামবাংলার এক সাধারণ পরিবার থেকে দেশের স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা এই উদ্যোক্তার জীবন এখন অনেকের কাছেই এক বাস্তব ‘কেস স্টাডি’।
ড. ভেলুমানির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
তামিলনাড়ুর একটি ছোট গ্রামে জন্ম ভেলুমণির। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। জমিজমা হারিয়ে তাঁর বাবা কার্যত নিঃস্ব হয়ে পড়েছিলেন। সংসার চালানোর দায় এসে পড়ে তাঁর মায়ের কাঁধে। দুটি মহিষের দুধ বিক্রি করে দিনে মাত্র ১০ টাকা আয় করেও তিনি পাঁচ সন্তানকে পড়াশোনা শেখান। ভেলুমণি বারবার বলেছেন, তাঁর মা কখনও ধার করে সংসার চালাননি। ছোটবেলা থেকেই সেই আত্মসম্মান, সঞ্চয় এবং আর্থিক শৃঙ্খলার শিক্ষা তাঁর জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছিল। পড়াশোনাতেও ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী। দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০০-তে ২০০ নম্বর পেয়ে নজর কেড়েছিলেন তিনি।
আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় হারে DA, থেকে নয়া পে-কমিশন, বাংলার সরকারি কর্মচারীদের জন্য আসছে ‘সুখবর’
বিজ্ঞানে স্নাতক হওয়ার পর ভেলুমণি ভেবেছিলেন চাকরি পেতে আর সমস্যা হবে না। কিন্তু বাস্তব ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। কোয়েম্বাটুরে একের পর এক সাক্ষাৎকার দিলেও প্রত্যাখ্যাত হতে হয় তাঁকে। জানা যায়, প্রায় ৫০টি ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হয়েছিলেন তিনি। এই সময় অনেকেই ভেঙে পড়লেও ভেলুমণি হার মানেননি। বরং তিনি বুঝতে পারেন, অভিজ্ঞতার অভাবই তাঁকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তখনই তাঁর মাথায় আসে এমন একটি সংস্থা তৈরির ভাবনা, যেখানে নতুনদের সুযোগ দেওয়া হবে। এই ব্যর্থতাগুলিই পরবর্তীকালে তাঁর উদ্যোক্তা জীবনের ভিত্তি গড়ে দেয়।
পরবর্তীতে তিনি মুম্বইয়ের ভাবা অ্যাটমিক রিসার্চ সেন্টার বা বার্কে সরকারি চাকরি পান। জীবন কিছুটা স্থিতিশীল হলেও নিজের কোম্পানি গড়ার স্বপ্ন তিনি ছাড়েননি। একটি সাক্ষাৎকারে থাইরয়েড সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারার অভিজ্ঞতা তাঁকে নতুন পথে নিয়ে যায়। তিনি প্রাণরসায়নে পিএইচডি করেন এবং থাইরয়েড বিষয়ে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেন। ১৯৯৫ সালে মাত্র ২ লক্ষ টাকা সঞ্চয় নিয়ে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন স্ত্রীও। পরের বছরই শুরু হয় থাইরোকেয়ারের যাত্রা।

ডঃ ভেলুমণি লক্ষ্য করেছিলেন, বিদেশ থেকে আমদানি করা মেডিকেল রিএজেন্টের দাম অত্যন্ত বেশি। অথচ দেশেই তা অনেক কম খরচে তৈরি করা সম্ভব। সেই ভাবনা থেকেই তিনি কম খরচে উন্নতমানের ডায়াগনস্টিক পরিষেবা দেওয়ার মডেল তৈরি করেন। কোনও ঋণ বা বড় বিনিয়োগ ছাড়াই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে থাইরোকেয়ার। আজ তাঁর সংস্থা দেশের অন্যতম পরিচিত স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্র্যান্ড। ডঃ ভেলুমণি প্রায়ই বলেন, “দারিদ্র্য আপনাকে দু’টি রাস্তা দেখায় এক, তাকে অভিশাপ ভাবুন; দুই, তাকে সুযোগে পরিণত করুন।” তাঁর জীবন প্রমাণ করে, সঠিক মানসিকতা থাকলে প্রতিকূলতাও সাফল্যের (Success Story) সিঁড়ি হয়ে উঠতে পারে।













