বাংলা হান্ট ডেস্ক : বাংলায় পর্যটন মানেই শুধু দার্জিলিংয়ের পাহাড়, দীঘার সমুদ্র বা সুন্দরবনের জঙ্গল নয়। বাঙালির উৎসব, ঐতিহ্য, খাবার এবং সংস্কৃতির মধ্যেও যে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা রয়েছে, এবার সেই দিকেই নজর দিচ্ছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। পর্যটকদের কাছে বাংলাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে সারা বছর ধরে বিভিন্ন উৎসবকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পর্যটন নিয়ে নয়া পরিকল্পনা সরকারের (West Bengal Government)
পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য, বছরের বিভিন্ন সময় বাংলার নিজস্ব সংস্কৃতি ও স্থানীয় বৈশিষ্ট্যকে সামনে রেখে অনুষ্ঠান করা হবে। দুর্গাপুজো থেকে শুরু করে চা, কমলালেবু কিংবা ঘুড়ি-বেলুন—প্রতিটি বিষয়কেই পর্যটনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। জানা যাচ্ছে, আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর কলকাতার গড়ের মাঠে এই অনুষ্ঠান হবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গকেও উৎসবকেন্দ্রিক পর্যটনের আওতায় আনতে শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং মলে আয়োজন করা হবে ‘টি ফেস্টিভ্যাল’। বাংলার চায়ের পরিচিতিকে আরও বড় বাজারে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। চায়ের পাশাপাশি সিটংয়ে হতে চলেছে ‘অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল’। অর্থাৎ, স্থানীয় পণ্য ও ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করেই তৈরি হবে নতুন পর্যটন আকর্ষণ।
রাজ্যের সবচেয়ে বড় পর্যটন হিসেবে দুর্গাপুজোকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাঙালির এই উৎসবকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরে বিদেশি পর্যটকদের বাংলায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পর্যটনমন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ বলেন, “দুর্গাপুজো বাঙালির সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই সারা বিশ্বের পর্যটকদের বাংলায় টানতে সরকার সর্বাত্মকভাবে কাজ করবে।”
পর্যটন দফতরের কাজের মধ্যেও বাংলার সংস্কৃতির উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটি দিনে দফতরের কর্মী এবং আধিকারিকদের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি পোশাক পরার জন্য বিশেষ ড্রেস কোড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। পর্যটন ব্যবস্থাকে আরও নিয়মবদ্ধ করার দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে।
কোনও পর্যটক বাংলায় এসে যেন শুধু একটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে ফিরে না যান, বরং এখানকার উৎসব, সংস্কৃতি, পোশাক, খাবার, স্থানীয় পণ্য এবং মানুষের জীবনযাত্রার সঙ্গে পরিচিত হন—সেই লক্ষ্যেই একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই ভাবনাই তুলে ধরে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, “আগামী দিনে পর্যটনের প্রতিটি উদ্যোগের মধ্যেই বাংলার সংস্কৃতি ও অনুভূতিকে তুলে ধরা হবে। আমাদের প্রতিটা কাজের মধ্যে বাংলাকে খুঁজে পাবেন, বাংলার অনুভূতি খুঁজে পাবেন।”

আরও পড়ুন : মার্চের মধ্যে রাজ্যে ১ লক্ষ সরকারি চাকরি! শিক্ষক-পুলিশ থেকে PSC, কোথায় কত নিয়োগ?
রাজ্য সরকারের এই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা সাড়া ফেলে, সেটাই এখন দেখার। তবে উৎসব ও সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ সফল হলে বাংলার পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রগুলির পাশাপাশি স্থানীয় ঐতিহ্য এবং আঞ্চলিক উৎসবগুলিও নতুন করে পর্যটনের মানচিত্রে জায়গা করে নিতে পারে।













