বাংলা হান্ট ডেস্ক : উপনির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যৎ নিয়েই এখন বড় প্রশ্ন। দলের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষের হাতে থাকবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে টানাপড়েন। সেই বিরোধের মীমাংসার পথ খুঁজতেই শনিবার দিল্লিতে দুই পক্ষের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে বেল আগাম মন্তব্য করেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় (Ritabrata Banerjee)।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকের পর কী বললেন ঋতব্রত (Ritabrata Banerjee) ?
তৃণমূল দলের সাংগঠনিক বৈধতা নিয়ে ঋতব্রত শিবিরের দাবি, সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা-কর্মীর সমর্থন এখন তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে। সেই কারণেই তাঁরাই প্রকৃত তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার যোগ্য বলে মনে করছেন ঋতব্রতরা। অন্যদিকে, মমতার শিবিরের বক্তব্য, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা থেকে শুরু করে সংগঠন তৈরি—সবকিছুর কেন্দ্রেই রয়েছেন মমতা। তাঁর নেতৃত্বকে বাদ দিয়ে দলের পরিচয় নির্ধারণ করা যায় না।
শনিবারের বৈঠক শেষে অবশ্য রাজনৈতিক আক্রমণের সুর চড়ান ঋতব্রত। বলেন, “ভিতরে যা বলেছি তা সংবাদমাধ্যমের সামনে বলব না। তবে এটুকু বলতে পারি, ‘না খাতা না বহি, জো মমতা ব্যানার্জি কহে ওহি সহি’— এ ভাবে কোনও গণতান্ত্রিক দল চলতে পারে না। তৃণমূল কোনও পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি নয়। এটা তৃণমূলস্তরের কর্মীদের পার্টি।” নিজেদের দাবির পক্ষে কমিশনের হাতে তথ্য তুলে দেওয়ার কথাও জানান তিনি। তাঁর বক্তব্য, “আমরা তথ্যের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য কমিশনকে জানিয়েছি। কমিশন বিবেচনা করবে, আমরা আশাবাদী।”
জানা যাচ্ছে, শুধু মৌখিক বক্তব্য নয়, সাংগঠনিক ব্যবস্থার অতীত ও বর্তমান চিত্র বোঝাতে বেশ কিছু নথিও কমিশনের কাছে জমা পড়েছে। তৃণমূলের ওয়ার্কিং কমিটির পুরনো বৈঠক কীভাবে পরিচালিত হত, বর্তমানে সেই প্রক্রিয়ায় কী পরিবর্তন এসেছে, তার সঙ্গে সম্পর্কিত কাগজপত্র এবং বৈঠকের কার্যবিবরণীও দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন প্রকাশ্যে আসে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দলের একাংশ আলাদা অবস্থান নেয়। ঋতব্রতকে সামনে রেখে তৈরি হয় পৃথক রাজনৈতিক শিবির। এরপর থেকেই দলীয় নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতীকের অধিকার নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ ক্রমশ তীব্র হয়েছে।

আরও পড়ুন : আধার কার্ডের ঠিকানা বদলাতে কী কী নথি লাগে? বাড়ি বসে কীভাবে বদলাবেন জানুন
প্রসঙ্গত, বিরোধের জেরেই নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল উভয় শিবির। সেই আবেদনের ভিত্তিতে শনিবারের শুনানি। আসন্ন উপনির্বাচনের আগে কমিশনের সিদ্ধান্তের গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছে। আগামী উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হচ্ছে ১৬ সেপ্টেম্বর। তার আগে তৃণমূলের নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে কমিশনের অবস্থান স্পষ্ট হয় কি না, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।













