পেট্রোল-ডিজেলের দামের মাঝেই ভোজ্য তেল নিয়েও বাড়ছে চিন্তা! কী পরিকল্পনা সরকারের?

Published on:

Published on:

Concerns are also growing about edible oil.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে অপরিশোধিত তেল এবং ভোজ্য তেল (Edible Oil) আমদানির বিশাল খরচ নিয়ে ভারত ক্রমশ চাপের সম্মুখীন হচ্ছে। এমতাবস্থায়, শুক্রবার সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে তেল কোম্পানিগুলিকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবে, সাধারণভাবে দেখলে মনে হতে পারে যে, অপরিশোধিত তেলই আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা; কিন্তু, গভীর বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে আসল চ্যালেঞ্জটি ভোজ্য তেলের মধ্যেই নিহিত। এমনকি, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি উভয় প্রকার তেল সাশ্রয়ের আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

ভারতের অপরিশোধিত তেল এবং ভোজ্য তেলের (Edible Oil) পরিকল্পনা:

জানিয়ে রাখি যে, ২০২৬ সালের মার্চে সমাপ্ত হওয়া অর্থবর্ষে ভারত অপরিশোধিত তেলের জন্য ১২.১৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। ভারত অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৮৮ শতাংশ আমদানি করে। তবে, ভারত অপরিশোধিত তেলের চেয়ে ভোজ্য তেলের জন্য বেশি ব্যয় করেছে। ভারত ভোজ্য তেলের জন্য ১৭.৫৯ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১.৬১ লক্ষ কোটি টাকা) ব্যয় করেছে। ভারত ভোজ্য তেলের চাহিদার ৬০ শতাংশ আমদানি করে।

Concerns are also growing about edible oil.

মূলত, অপরিশোধিত তেল ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু, ভারত গত ৩ বছরে এটি মোকাবিলার জন্য একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করেছে।ইকোনমিক টাইমসের মতে, ২০১৯-২০ অর্থবর্ষে রাশিয়া থেকে আমদানি ছিল মাত্র ১.৭ শতাংশ। যা ২০২৪-২৫ সালের মধ্যে বেড়ে ৩৫.১ শতাংশ হয়েছে। পশ্চিমী নিষেধাজ্ঞার মধ্যে ভারত কৌশলগতভাবে রাশিয়া থেকে তেল কিনে তার তেলের খরচ সামাল দিয়েছে। এদিকে, বিশাখাপত্তনম, ম্যাঙ্গালুরু এবং পাদুরে ভারতের কৌশলগত পেট্রোলিয়াম ভাণ্ডার রয়েছে।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সঙ্কটের আবহে ভারতের ‘মাস্টারস্ট্রোক’, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর সঙ্গে সম্পন্ন মেগা ডিল

ভোজ্য তেলেও রয়েছে চিন্তা: জানিয়ে রাখি যে, অপরিশোধিত তেল যেকোনও জায়গা থেকে সংগ্রহ করা যেতে পারে। কিন্তু, ভারত পাম তেলের জন্য ইন্দোনেশিয়া/মালয়েশিয়া, সয়াবিন তেলের জন্য আর্জেন্টিনা/ব্রাজিল এবং সূর্যমুখী তেলের জন্য ইউক্রেন/রাশিয়ার ওপর নির্ভরশীল। ইন্দোনেশিয়া তার পাম তেলের একটি বড় অংশ নিজস্ব বায়োডিজেল (বি৪০ এবং ভবিষ্যৎ বি৫০) কর্মসূচিতে ব্যবহার করে। এর অর্থ হল, বিশ্বে রফতানির জন্য তেলের মজুত কমে আসছে। এদিকে, রুপির দুর্বলতাও একটি বড় সমস্যা। রুপির দর রেকর্ড সর্বনিম্ন প্রায় ৯৬-এ পৌঁছেছে। মূলত, ভোজ্য তেলের খরচ ডলারে পরিশোধ করা হয়। ফলে আমদানি আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। ভারতে ভোজ্য তেলের ব্যবহারও বাড়ছে। গত ৬০ বছরে ভারতে মাথাপিছু তেল ব্যবহারের পরিমাণ ৩.২ কেজি থেকে বেড়ে ১৯.৭ কেজি হয়েছে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণের প্রায় দ্বিগুণ। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিকেল রিসার্চ (ICMR) বছরে মাথাপিছু ১০ কেজি তেল ব্যবহারের সুপারিশ করে।

আরও পড়ুন: ‘হাঁ’ করে তাকিয়ে দেখল চিন! ভারতের এই কোম্পানি আমেরিকায় ৭,১৭৫ কোটি টাকায় করল বড় ডিল

সরকারের পরিকল্পনা: মূলত, ভারত এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত হয়েছে। ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ভোজ্য তেলে ৭২ শতাংশ আত্মর্ভরতা অর্জন করাই ভারতের লক্ষ্য। ২১,০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে সরষে, চিনাবাদাম এবং সয়াবিনের উৎপাদন ৩৯ মিলিয়ন টন থেকে বাড়িয়ে ৬৯.৭ মিলিয়ন টন করা হবে। তবে, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল বর্ষা। ভারতের তৈলবীজ চাষের ৭৬ শতাংশই বর্ষার ওপর নির্ভরশীল, এবং ২০২৬ সালের বর্ষা স্বাভাবিকের চেয়ে কম হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।