বাংলা হান্ট ডেস্কঃ জঙ্গলমহলের মানুষের বহু বছরের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। এতদিন ট্রেনে যাতায়াত করতে হলে লালগড়, গোপীবল্লভপুর বা নয়াগ্রামের বাসিন্দাদের অনেকটা পথ পেরিয়ে ঝাড়গ্রাম কিংবা খড়গপুর যেতে হতো। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা ও ব্যবসার কাজে ভোগান্তির শেষ ছিল না। এবার সেই সমস্যার সমাধানের আশা জেগেছে। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের বৈঠকের পর ঘোষণা করা হয়েছে, লালগড়, গোপীবল্লভপুর এবং নয়াগ্রামকে রেল মানচিত্রে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে (Indian Railways)।
লালগড়-গোপীবল্লভপুর-নয়াগ্রাম রেলপথ প্রকল্প (Indian Railways)
ঝাড়গ্রাম জেলার দক্ষিণ প্রান্তে থাকা গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রামে আজও কোনও রেললাইন পৌঁছয়নি। ফলে এলাকার মানুষকে ট্রেন ধরতে ঝাড়গ্রাম বা খড়গপুরে যেতে হয়। বহু বছর ধরেই এই অঞ্চলে রেলপথ তৈরির দাবি উঠছিল।
এই দাবিকে সামনে রেখে কয়েক বছর আগে স্থানীয় বাসিন্দারা ‘সুবর্ণরৈখিক রেলপথ সংগ্রাম কমিটি’ গঠন করেন। গোপীবল্লভপুর, নয়াগ্রাম, সাঁকরাইল ও বেলিয়াবেড়া এলাকার মানুষ একজোট হয়ে রেলপথের দাবিতে বিভিন্ন জনপ্রতিনিধি এবং রেল কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানান।
বিধানসভা নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের কাছে এই দাবি তুলে ধরা হয়েছিল। সম্প্রতি গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক ও মন্ত্রী রাজেশ মাহাতোর সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন আন্দোলনকারীরা। এরপরই নবান্নের বৈঠক থেকে বড় ঘোষণা আসে। জানা গিয়েছে, খড়গপুর থেকে সাঁকরাইল, বেলিয়াবেড়া, গোপীবল্লভপুর ও নয়াগ্রাম হয়ে ওডিশার বারিপাদা পর্যন্ত প্রায় ১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রেলপথ তৈরির প্রস্তাব রয়েছে। এই রেলপথ বাস্তবায়িত হলে কলকাতা, ওডিশা এবং দক্ষিণ ভারতের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় মানুষ (Indian Railways)।
সুবর্ণরৈখিক রেলপথ সংগ্রাম কমিটির সভাপতি সত্যব্রত রাউত বলেন, চিকিৎসা, শিক্ষা কিংবা ব্যবসার কাজে রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এলাকার মানুষকে ট্রেন ধরার জন্য অনেক দূরে যেতে হয়। নতুন রেলপথ হলে সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে। পাশাপাশি শিল্প গড়ে ওঠা এবং পর্যটনের সম্ভাবনাও বাড়বে। অন্যদিকে, লালগড়েও দীর্ঘদিন ধরে রেল সংযোগের দাবি ছিল। বর্তমানে এখানকার মানুষকে ট্রেনে চড়তে হলে ঝাড়গ্রাম বা মেদিনীপুর স্টেশনের উপর নির্ভর করতে হয়। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও সমস্যার মুখে পড়তে হয় অনেককে।

আরও পড়ুনঃ দামি বাইক চালাতে চান? বিরাট ঘোষণা
উল্লেখ্য, ২০১১-১২ সালে ভাদুতলা থেকে পিড়াকাটা হয়ে লালগড় পর্যন্ত রেলপথ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এবার নতুন করে রেল সংযোগের (Indian Railways) ঘোষণা সামনে আসায় এলাকায় আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের আশা, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু যাতায়াতই সহজ হবে না, জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পথও আরও প্রশস্ত হবে।













