বাংলা হান্ট ডেস্কঃ কলকাতায় জমি প্রতারণা ও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় বড় পদক্ষেপ নিল পুলিশ। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সহকারী সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর খোঁজ চালিয়েও সন্ধান না মেলায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিষেক (Abhishek Banerjee) ঘনিষ্ঠ সুমিত রায় গ্রেফতারি পরোয়ানা
শালবনি থানায় দায়ের হওয়া জমি প্রতারণা ও আর্থিক দুর্নীতির মামলায় সুমিত রায়ের নাম রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে খুঁজছিল পুলিশ। গত কয়েকদিনে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালানো হলেও তাঁর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি। সূত্রের খবর, গত শনিবার তদন্তকারীরা সুমিতের মোবাইল ফোনের শেষ টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করেন। সেই লোকেশন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়ির কাছাকাছি এলাকায় দেখাচ্ছিল। এরপর রাত প্রায় ৩টে নাগাদ পুলিশ সেখানে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে।
পুলিশের দাবি, অনেকক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির বাইরের তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে তল্লাশি চালানো হয়। তবে সেখানেও সুমিত রায়ের খোঁজ মেলেনি। সকাল ৮টা নাগাদ পুলিশ অভিযান শেষ করে বেরিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, সুমিত রায়ের নাম এর আগেও আলোচনায় এসেছিল। ২০২২ সালে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে তাঁর নাম সামনে আসে। সেই মামলায় তাঁকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছিল ইডি। জানা যায়, স্কুলজীবন থেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুমিত রায়ের পরিচয়। কলকাতার একই স্কুলে তাঁরা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন।
পরে অভিষেক (Abhishek Banerjee) দিল্লিতে এমবিএ পড়তে গেলেও সুমিত কলকাতাতেই পড়াশোনা করেন। ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও কর্মক্ষেত্রে অভিষেককে তিনি ‘স্যর’ বলেই সম্বোধন করতেন। অভিষেকের বিভিন্ন কাজকর্মের দেখভালের দায়িত্বও তাঁর উপর ছিল।

আরও পড়ুনঃ ২০ সাংসদের নতুন ঠিকানা NCPI! কত টাকা আছে এই দলের তহবিলে?
এদিকে রবিবার প্রায় সাড়ে ৮ ঘণ্টা সিআইডির জেরার মুখোমুখি হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে কুণাল ঘোষের সামনেও বসিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সোমবার আবার নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তাঁকে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

















