ইস্তফার পরই নতুন বিপদ? সুটিয়া গণধর্ষণ মামলায় জ্যোতিপ্রিয়কে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

Published on:

Published on:

Explosive claims about Jyotipriya Mallick in Sutia gang rape case
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে সম্প্রতি তৃণমূলের একের পর এক ঘটনাপ্রবাহ নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু উঠে আসছে। বিভিন্ন বিতর্ক ও পদত্যাগের আবহে এবার প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick) ঘিরে অতীতের একাধিক ঘটনা সামনে এনে মন্তব্য করলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর বক্তব্যে উঠে এল সুটিয়া গণধর্ষণ-কাণ্ড ও শিক্ষক বরুণ বিশ্বাস হত্যার প্রসঙ্গও।

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে (Jyotipriya Mallick) হুঁশিয়ারি অগ্নিমিত্রার

এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অগ্নিমিত্রা পাল প্রথমে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের শারীরিক অবস্থার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন,”শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। আমি চাই উনি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।”

তবে সেই শুভেচ্ছা জানানোর পরই তিনি সুটিয়ার ঘটনা এবং বরুণ বিশ্বাস হত্যার প্রসঙ্গ টেনে বলেন,”ছোট থেকেই শুনে আসছি সুটিয়া গণধর্ষণ কান্ডের কথা। ওই গ্রামকে ধর্ষণের গ্রাম বলা হত। মহিলাদের বাঁচাতে গিয়ে এবং ধর্ষণের প্রতিবাদের জন্য শিক্ষক বরুণ বিশ্বাসকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছিল। সেই খুনের পিছনে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের নামও উঠে আসে। বরুণ বিশ্বাসকে কে খুন করেছে এ বার তার ফাইল খোলা হবে। পাশাপাশি উপযুক্ত শাস্তিও দেওয়া হবে। দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিলেও দোষী হলে তিনিও রেহাই পাবেন না।”

প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ৫ জুলাই উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙায় খুন হন শিক্ষক ও সমাজকর্মী বরুণ বিশ্বাস। কলকাতা থেকে ট্রেনে ফিরে স্টেশন থেকে বাড়ির পথে যাওয়ার সময় তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের একাংশের মতে, সুটিয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নারী নির্যাতন, গণধর্ষণ এবং দুষ্কৃতীচক্রের দাপট চলছিল। সেই পরিস্থিতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করেছিলেন বরুণ বিশ্বাস।

উল্লেখ্য, অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে বরুণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। শুধু তাই নয়, ২০০০ সালের ভয়াবহ বন্যার পর নদী সংস্কারকে কেন্দ্র করে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল, সেখানেও সক্রিয় ভূমিকা ছিল তাঁর। স্থানীয় সূত্রের দাবি, ওই প্রকল্পের জন্য বিপুল অর্থ বরাদ্দ হয়েছিল এবং সেই অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন বরুণ বিশ্বাস। তাঁর এই ধারাবাহিক প্রতিবাদই শেষ পর্যন্ত তাঁকে অপরাধীদের নিশানায় পরিণত করেছিল বলে মনে করেন অনেকেই।

Explosive claims about Jyotipriya Mallick in Sutia gang rape case

আরও পড়ুন : হকার উচ্ছেদের পর ফাঁকা স্টেশন, ‘ভ্রাম্যমাণ স্টল’ বসানোর তোড়জোড় শুরু রেলের

জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে বরুণ বিশ্বাস হত্যা মামলার প্রসঙ্গ নতুন করে সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর সকলের।