রেলের উচ্ছেদের নোটিশে স্থগিতাদেশ! হাইকোর্টের পুনর্বাসন-নির্দেশে স্বস্তিতে একাধিক পরিবার

Published on:

Published on:

Calcutta High Court stay order on Indian Railways eviction notice order compensation
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ উচ্ছেদের নোটিশ দিয়েছিল রেল (Indian Railways)। তার উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)। বিচারপতি হিরণ্ময় ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়েছেন, রেলের জমিতে বসবাসকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ অথবা পুনর্বাসন না দিয়ে উচ্ছেদ করা যাবে না। সিঙ্গুরের একটি মামলায় এই নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

আর কী নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট? | (Calcutta High Court)

ডানকুনি থেকে লুধিয়ানা অবধি বিস্তৃত ফ্রেট করিডর তৈরির জন্য ভারতীয় রেল সিঙ্গুরে জমি অধিগ্রহণ করেছিল। নিয়ম মেনে ওই জমির মালিকদের জমির ন্যায্য দাম দেওয়ার পাশাপাশি শর্ত মেনে আরও ৫ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। তবে টাকা দেওয়ার পরেও পুরো জমি ফাঁকা না হওয়ায় সেখানে বসবাসকারীদের সম্প্রতি উচ্ছেদের নোটিশ পাঠায় রেল কর্তৃপক্ষ। এরপর এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন সংশ্লিষ্ট জমিতে বসবাসকারী ৮টি ভাড়াটিয়া পরিবার।

আরও পড়ুনঃ কলকাতা থেকে সুন্দরবন সরাসরি বাস পরিষেবা! রাজ্য সরকারের কাছে দাবি পর্যটকদের

এই মামলার শুনানিতে মামলাকারীদের আইনজীবী ভারতীয় রেলের নিজস্ব জমি অধিগ্রহণ আইনের নথি আদালতে তুলে ধরেন। তিনি জানান, জমির মালিকদের টাকা দেওয়া হলেও সেখানে বছরের পর বছর ধরে যেসব ভাড়াটিয়ারা রয়েছেন তাঁরাও আইনিভাবে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী। এই নিয়ে প্রায় ৪ বছর আগে হাইকোর্ট একটি নির্দেশ দিয়েছিল। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, ২০২৩ সালের মধ্যে তা কার্যকর করা হবে। তবে এরপর প্রায় ৩ বছর কেটে গেলেও ওই ভাড়াটিয়ারা কোনও টাকা পাননি।

পাল্টা রেলের আইনজীবীও জানান, ওই প্রকল্পের জমিতে বসবাসকারী যে কোনও ব্যক্তি এককালীন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবিদার। তাঁর দাবি, ভারতীয় রেল ২০১৩ সালের নয়া কেন্দ্রীয় আইন মেনে টাকা দিতে তৈরি ছিল। তবে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক কত হবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব ছিল রাজ্য সরকারের। তৎকালীন রাজ্য সরকার তা না করায় এই পরিস্থিতি।

Calcutta High Court

মামলাকারী ও রেলের সওয়াল জবাব শোনার পর বিচারপতি ভট্টাচার্যের নির্দেশ, অবিলম্বে রেলকে মামলাকারী ভাড়াটিয়াদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কাজ শুরু করতে হবে। ২০২৩-এর মধ্যে কেন এই বাসিন্দাদের টাকা মিটিয়ে দেওয়া হয়নি সেটা রেলকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে।

সিঙ্গুরের এই মামলায় হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে মামলাকারীরা বড় স্বস্তি পেয়েছেন। একইসঙ্গে আগামী ১৮ জুলাই অবধি রেলের উচ্ছেদ নোটিশের উপর জারি করা হয়েছে অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ।