বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে ফের একবার প্রধানমন্ত্রী মোদির (Narendra Modi) জয়জয়কার। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সাফল্যের তালিকায় আরও একটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হল। এবার পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হোরাইজন’ মোদির হাতে তুলে দেওয়া হল। শনিবারই সেশেলসে পৌঁছন প্রধানমন্ত্রী এবং রবিবার একটি বিশেষ অনুষ্ঠানের মঞ্চেই সেশেলসের প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক হারমাইনি তাঁর হাতে এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মান তুলে দেন। সম্মান গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, এই সম্মান শুধুমাত্র তাঁর ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারত এবং সেশেলসের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতীক। সেই অনুষ্ঠান থেকেই তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একসঙ্গে কাজ করার বার্তাও দেন।
এবার এই দেশের সর্বোচ্চ সম্মান পেলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi):
গত এক দশকেরও বেশি সময়ে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে প্রধানমন্ত্রী মোদির (Narendra Modi) সক্রিয় উপস্থিতি তাঁকে বিশ্বের বহু দেশের সর্বোচ্চ নাগরিক সম্মানে ভূষিত করেছে। তাঁর এই যাত্রার সূচনা হয় ২০১৬ সালে সৌদি আরবের সর্বোচ্চ সম্মান ‘কিং আব্দুল আজিজ সাশ’ পাওয়ার মাধ্যমে। এরপর একে একে প্যালেস্টাইনের ‘গ্র্যান্ড কলার অফ দ্য স্টেট অফ প্যালেস্টাইন’, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ‘অর্ডার অফ জায়েদ’ এবং বাহরাইনের ‘কিং হামাদ অর্ডার অফ দ্য রেনেসাঁ’-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সর্বোচ্চ সম্মান তাঁর ঝুলিতে এসেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মানগুলিকে দেখা হয়।
আরও পড়ুন: প্রথমবার প্রিলিমসে মাত্র ১ নম্বরের জন্য ব্যর্থ! পরের বছরই UPSC IES-এ ২১ র্যাঙ্ক অর্জন মৃদুপাণির
শুধু পশ্চিম এশিয়া নয়, ইউরোপ, আমেরিকা এবং আফ্রিকার একাধিক দেশও প্রধানমন্ত্রী মোদিকে তাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে সম্মানিত করেছে। রাশিয়ার ‘অর্ডার অফ সেন্ট অ্যান্ড্রু দ্য অ্যাপোসল’, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিজিয়ন অফ মেরিট’, ফ্রান্সের ‘গ্র্যান্ড ক্রস অফ দ্য লিজিয়ন অফ অনার’ এবং গায়ানার ‘অর্ডার অফ এক্সিলেন্স’-এর মতো মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতিও তিনি পেয়েছেন। এমনকি বিশ্বের প্রথম রাষ্ট্রনেতা হিসেবে ইথিওপিয়ার সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানও তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়। চলতি বছরও তাঁর আন্তর্জাতিক সম্মানের তালিকায় একাধিক নতুন সংযোজন হয়েছে। এর আগে তিনি ইজরায়েলের ‘মেডেল অফ দ্য কেনেসেট’, সুইডেনের ‘রয়্যাল অর্ডার অফ পোলার স্টার’ এবং ‘দ্য অর্ডার অফ দ্য হোয়াইট ডবল ক্রস (ফার্স্ট ক্লাস)’ সম্মান লাভ করেছেন।
সামুদ্রিক নিরাপত্তা, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এদিন তাঁকে সেশেলসের ‘গার্ডিয়ান অফ দ্য ব্লু হোরাইজন’ সম্মান দেওয়া। সম্মান গ্রহণের পর নিজের এক্স হ্যান্ডেলে নিজেই আবেগঘন একটি পোস্ট করেন। পোস্ট করে প্রধানমন্ত্রী লেখেন, এই সম্মান তাঁকে গভীরভাবে স্পর্শ করেছে। পোস্টে তিনি এও বলেন যে, এই পুরস্কার বিশ্বের সেই সব দেশকে উৎসর্গ করেছেন, যারা জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ প্রভাবের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করছে। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট, পরিবেশ রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন এখন ভারতের বৈদেশিক নীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ।

আরও পড়ুন:লাভবান হবেন যাত্রী এবং চালকরা! কলকাতায় চালু হবে ‘ভারত ট্যাক্সি’, ঘোষণা অমিত শাহের
সেশেলসের এই স্বীকৃতির পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির (Narendra Modi) আন্তর্জাতিক সম্মানের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল মোট ৩৪। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে এই ধরনের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান পাওয়া ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক গুরুত্ব এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দেশের প্রভাব বৃদ্ধিরই প্রতিফলন। বিশেষ করে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সহযোগিতা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ভারতের সক্রিয় ভূমিকা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন মাত্রা পেয়েছে। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রী মোদির এই সম্মান শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং ভারতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক অবস্থানেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।













