অবশেষে মিলল নোটিসের জবাব! ‘ইউজারনেম’ ফিচারের প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কী জানাল WhatsApp-Telegram?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: হোয়াটসঅ্যাপের (WhatsApp-Telegram) নতুন ইউজারনেম ফিচারকে ঘিরে শুরু হওয়া বিতর্কে নতুন মোড় এল। কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের পাঠানো নোটিসের জবাবে নিজেদের অবস্থান জানাল হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম। সংবাদসংস্থা পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই সংস্থাই ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের কাছে লিখিত জবাব জমা দিয়েছে। বর্তমানে সেই জবাব খতিয়ে দেখছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও সংস্থাগুলি ঠিক কী ব্যাখ্যা দিয়েছে, তা এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কেন্দ্রের তরফেও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। ফলে নতুন এই ফিচার ভারতে চালু হবে কি না, তা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করাই এখন সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

‘ইউজারনেম’ ফিচারের প্রসঙ্গে কেন্দ্রকে কী জানাল WhatsApp-Telegram?

সম্প্রতি মেটা ঘোষণা করে, হোয়াট্‌সঅ্যাপে এমন একটি ইউজারনেম ব্যবস্থা চালু করা হবে, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষার দিক থেকে এই ফিচারকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হলেও, ঘোষণার পর থেকেই তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ পেলে প্রতারক চক্রের পক্ষে ভুয়ো পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করা আরও সহজ হয়ে যেতে পারে। এর ফলে সাইবার প্রতারণা, ফিশিং, ভুয়ো বিনিয়োগের প্রলোভন কিংবা তথাকথিত ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’-এর মতো অপরাধ বাড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এই উদ্বেগ থেকেই কেন্দ্রীয় সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা শুরু করে।

আরও পড়ুন:‘গ্রেফতার করুক, মেরে ফেলুক, তবুও ফিরব’, মৃত্যুদণ্ডের সাজা সত্ত্বেও বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা শেখ হাসিনার

এরপরই কেন্দ্রীয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক হোয়াট্‌সঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটাকে নোটিস পাঠিয়ে এই ফিচার নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা চায়। একই ধরনের ইউজারনেম ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই টেলিগ্রামে চালু থাকায় সেই সংস্থাকেও নোটিস পাঠানো হয়। কেন এই ফিচার চালু রাখা হবে এবং ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। একই সঙ্গে সিগন্যালকেও নোটিস পাঠানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতে হোয়াট্‌সঅ্যাপের ব্যবহারকারী সংখ্যা প্রায় ৫০ কোটি হওয়ায় এই ফিচারের সম্ভাব্য প্রভাব অনেক বেশি বলেই মনে করছে সরকার। টেলিগ্রাম এবং সিগন্যালের ব্যবহারকারী তুলনামূলকভাবে কম হলেও, একই ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে তাদের কাছ থেকেও ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

পিটিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রথমে হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং পরে টেলিগ্রাম কেন্দ্রের কাছে তাদের লিখিত জবাব জমা দেয়। বর্তমানে সেই জবাব বিশদভাবে পরীক্ষা করে দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সিগন্যাল এখনও কোনও উত্তর দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি স্তরে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, হোয়াট্‌সঅ্যাপ এবং টেলিগ্রাম— কোনও সংস্থাই এখনও প্রকাশ্যে জানায়নি যে তারা নোটিসের জবাবে কী ব্যাখ্যা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারও বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কোনও মন্তব্য করতে চাইছে না। ফলে বিষয়টি এখনও আলোচনার পর্যায়েই রয়েছে এবং ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তের দিকেই নজর রয়েছে প্রযুক্তি মহল ও কোটি কোটি ব্যবহারকারীর।

What did WhatsApp-Telegram tell the Centre regarding the 'username' feature?

আরও পড়ুন: ঘন্টায় ২০ টাকার চাকরি থেকে আজ নিজেই ৩৫০ কোটির কোম্পানির মালিক! চমকে দেবে নিতিনের কাহিনি

গত বুধবার পাঠানো নোটিসে কেন্দ্র স্পষ্টভাবে জানায়, ইউজারনেম ফিচার চালু হলে অনলাইন জালিয়াতি, পরিচয় গোপন রেখে প্রতারণা, ফিশিং এবং ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের মতো সাইবার অপরাধ বাড়তে পারে। তাই আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ভারতে এই ফিচার চালু না করার অনুরোধ জানানো হয়। হোয়াট্‌সঅ্যাপও (WhatsApp-Telegram) কেন্দ্রকে আশ্বস্ত করেছে যে, সরকারের সঙ্গে আলোচনা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত ভারতীয় ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচার চালু করা হবে না। এখন সরকারের মূল্যায়নের ওপরই নির্ভর করছে, নতুন এই সুবিধা প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা মেনে চালু হবে, নাকি আরও পরিবর্তনের পর সবুজ সংকেত পাবে। ডিজিটাল পরিষেবার দ্রুত বিস্তারের এই সময়ে প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সাইবার নিরাপত্তার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এই বিতর্ক আবারও সেই বিষয়টিকেই সামনে এনে দিল।