পাকিস্তান থেকে আসছিল নির্দেশ! গুজরাটে ভেঙে দেওয়া হল জইশের স্লিপার সেল, ATS-র জালে ৫ জঙ্গি

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: গুজরাট (Gujarat) বড়সড় জঙ্গি নাশকতার ছক ভেস্তে দেওয়ার দাবি করেছে রাজ্য সন্ত্রাসদমন শাখা। রাজ্যের একাধিক জেলায় অভিযান চালিয়ে জইশ-ই-মহম্মদ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতরা দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে বিস্ফোরণ ঘটানোর উদ্দেশ্যে টাইম বোমা তৈরির পরিকল্পনা করছিল এবং সেই লক্ষ্যে বিস্ফোরক সংগ্রহের কাজও শুরু করেছিল। সময়মতো অভিযান চালিয়ে এই পরিকল্পনা নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি পুলিশের। এই গ্রেফতারের ফলে গুজরাতে সক্রিয় জঙ্গি নেটওয়ার্কের বিস্তার এবং তাদের কার্যকলাপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও তদন্ত এখনও চলছে এবং আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ আইনত প্রমাণিত নয়।

গুজরাটে (Gujarat) ভেঙে দেওয়া হল জইশের স্লিপার সেল, ATS-র জালে ৫

এই গ্রেফতারির আগে মাত্র সপ্তাহখানেকের ব্যবধানে গুজরাত ও মধ্যপ্রদেশ থেকে জইশের কথিত ‘স্লিপার সেল’-এর আট সদস্যকে আটক করেছিল এটিএস। তদন্তকারীদের অভিযোগ, ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আড়ালে কিছু ব্যক্তিকে চরমপন্থী মতাদর্শে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছিল। পাশাপাশি নতুন সদস্য সংগ্রহ, মতাদর্শগত প্রশিক্ষণ এবং সম্ভাব্য হামলার জন্য প্রস্তুত করার কাজও চলছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে। সেই অভিযানের পর তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়। বিভিন্ন জেলায় তল্লাশি ও নজরদারি চালানোর সময়ই আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ফলে এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে গুজরাত এটিএস।

আরও পড়ুন: হরমুজের পর নতুন টার্গেট লোহিত সাগর! ইরানের পরিকল্পনায় বিপদের মুখে ইউরোপ-ভারতের বাণিজ্য পথ

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ধৃতদের কাছ থেকে এমন কিছু তথ্য মিলেছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তারা বিস্ফোরক তৈরির কৌশল সম্পর্কে প্রশিক্ষিত ছিল। টাইম বোমা তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার নিয়েও তাদের দক্ষতা ছিল বলে অভিযোগ। এটিএসের দাবি, পাকিস্তান থেকে অনলাইন ও অন্যান্য মাধ্যমে নির্দেশ পৌঁছচ্ছিল এই চক্রের সদস্যদের কাছে। তদন্তে আরও উঠে এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে যে, তাদের সেকেন্ডহ্যান্ড গাড়ি কেনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল, যাতে সেগুলি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালানো যায়। এই সমস্ত তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে তদন্তকারীরা ডিজিটাল ডিভাইস, আর্থিক লেনদেন এবং যোগাযোগের তথ্য খতিয়ে দেখছেন।

এটিএস সূত্রের দাবি, ধৃতরা ‘দারুল ইসলাম’ নামে একটি সংগঠনের মাধ্যমে নিজেদের কার্যকলাপ পরিচালনা করছিল এবং সেই প্ল্যাটফর্মকে ব্যবহার করে জঙ্গি নেটওয়ার্ক বিস্তারের চেষ্টা করছিল। তদন্তকারীদের মতে, গুজরাতে একটি সক্রিয় স্লিপার সেল গড়ে তোলার পরিকল্পনা ছিল, যেখান থেকে দেশের বিভিন্ন বড় শহরে হামলার ছক কষা হচ্ছিল। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে আরও কারা যুক্ত, কোথায় কোথায় তাদের যোগাযোগ রয়েছে এবং অর্থ বা বিস্ফোরকের জোগান কীভাবে আসছিল, তা জানতে রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলিও এই তদন্তে এটিএসকে সহযোগিতা করছে বলে জানা গিয়েছে।

Jaish sleeper cell busted in Gujarat, 5 militants arrested by ATS

আরও পড়ুন: বাবার আপত্তি পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ, মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়লেন ১৮ বছরের তানভী!

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় শুধু জঙ্গিদের গ্রেফতার করাই যথেষ্ট নয়, বরং তাদের অর্থের উৎস, যোগাযোগের মাধ্যম এবং নিয়োগের পদ্ধতিও চিহ্নিত করা জরুরি। সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর গুজরাট (Gujarat) সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জনবহুল এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, সময়মতো অভিযান চালানো না হলে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যেত না। তবে গোটা ঘটনার পূর্ণ চিত্র সামনে আসবে তদন্ত শেষ হওয়ার পর এবং আদালতে উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি সিদ্ধান্ত হবে। আপাতত এই গ্রেফতারিকে দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবেই দেখছে তদন্তকারী মহল।