বাবার আপত্তি পেরিয়ে স্বপ্নপূরণ, মার্চেন্ট নেভিতে যোগ দিয়ে ইতিহাস গড়লেন ১৮ বছরের তানভী!

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আরাম নয়, কঠোর পরিশ্রমই সাফল্যের চাবিকাঠি—এই বিশ্বাস নিয়েই মাত্র ১৮ বছর বয়সে সফলভাবে (Success Story) ভারতীয় মার্চেন্ট নেভিতে জায়গা করে নিয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীরের রাজৌরির বাসিন্দা তানভী শর্মা। এমন এক সময়ে, যখন অধিকাংশ পড়ুয়া উচ্চশিক্ষা বা প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত, তখন তানভী নিজের আলাদা পথ বেছে নিয়ে দেশের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে মেয়েদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম হয়ে উঠেছেন। তাঁর কথায়, নিজের ভেতরের আবেগ, অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাসকে জাগিয়ে তুলতে না পারলে শুধু বাইরের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে জীবনে বড় সাফল্য অর্জন করা যায় না। আরামদায়ক পরিবেশে নয়, বরং কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়েই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়।

তানভী শর্মার অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)

তানভীর এই যাত্রা শুরু হয়েছিল দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় থেকেই। তখনই তিনি স্থির করে ফেলেছিলেন যে প্রচলিত পেশার বাইরে গিয়ে নিজের জন্য একটি ভিন্ন পথ তৈরি করবেন। দ্বাদশ শ্রেণিতে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত এবং জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করায় তাঁর সামনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের জন্য জেইই (JEE) কিংবা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য নিট (NEET)-এর মতো একাধিক সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু তিনি সেই পথ না বেছে মার্চেন্ট নেভিকে নিজের ভবিষ্যৎ হিসেবে বেছে নেন। তানভীর মতে, তিনি এমন একটি পেশায় যেতে চেয়েছিলেন যা শুধু তাঁর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও নতুন কিছু করার সাহস জোগাবে। নিজের রাজ্য, পরিবার এবং স্কুলের নাম উজ্জ্বল করার ইচ্ছাই তাঁকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহ দিয়েছিল (Success Story)।

আরও পড়ুন: দুধ কিনতে গিয়ে নিখোঁজ! শুটার দময়ন্তী সেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করলেন ক্রীড়ামন্ত্রী

তবে এই সাফল্যের পথ মোটেই সহজ ছিল না। প্রথমদিকে তাঁর বাবা মেয়েকে মার্চেন্ট নেভিতে পাঠানোর সিদ্ধান্তে একেবারেই রাজি ছিলেন না। দূরে গিয়ে কঠোর প্রশিক্ষণ নেওয়া এবং সমুদ্রভিত্তিক পেশার ঝুঁকি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু সেই সময় তানভীর সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে পাশে দাঁড়ান তাঁর মা সুমন শর্মা। তিনিই পরিবারের অন্য সদস্যদের বোঝান যে অন্তত মেয়েকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া উচিত। পরে তানভী পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর পরিবারেরও দৃষ্টিভঙ্গি বদলে যায়। তানভী নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর এই সাফল্যের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তাঁর মায়ের। পরীক্ষার জন্য দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু এমনকি গোয়াতেও যেতে হয়েছিল তাঁকে। প্রতিটি সফরে তাঁর সঙ্গী ছিলেন মা, যিনি সবসময় মেয়ের স্বপ্নপূরণের লড়াইয়ে সাহস জুগিয়েছেন।

তানভীর আরও একটি বিশেষ দিক হল, তিনি কোনও কোচিং সেন্টারের সাহায্য নেননি। দ্বাদশ শ্রেণির পড়াশোনা শেষ করার পর মাত্র এক মাস নিজে প্রস্তুতি নিয়েই মার্চেন্ট নেভির প্রবেশিকা পরীক্ষায় সাফল্য পান। তাঁর মতে, পরীক্ষার সিলেবাস মূলত একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞানভিত্তিক পাঠ্যক্রম এবং কিছুটা জেইই স্তরের প্রশ্নের উপর নির্ভরশীল। তাই আত্মবিশ্বাস, সঠিক পরিকল্পনা এবং নিয়মিত অনুশীলন থাকলে কোচিং ছাড়াও সফল হওয়া সম্ভব। তানভীর বার্তা স্পষ্ট লক্ষ্য স্থির থাকলে ক্ষুধা, তৃষ্ণা, ক্লান্তি কিংবা আরামের মোহ ভুলে গিয়ে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কারণ, জীবনের বড় স্বপ্ন কখনও আরামদায়ক গণ্ডির মধ্যে থেকে পূরণ হয় না।

Success Story of Tanvi Sharma will surprise you.

আরও পড়ুন: ছুটির দিনেও আসতে হবে অফিস! হাজিরা নিয়ে এবার কড়াকড়ি স্বাস্থ্য দফতরের, জারি বিজ্ঞপ্তি

উল্লেখ্য, মার্চেন্ট নেভি মূলত বাণিজ্যিক জাহাজ পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত একটি পেশা, যেখানে বেসরকারি শিপিং সংস্থাগুলি চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করে। পণ্যবাহী জাহাজে নির্দিষ্ট সময় কাজ করার ভিত্তিতে চুক্তি হয় এবং আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে দায়িত্ব পালন করতে হয়। উচ্চ বেতন, আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশ এবং পেশাগত সম্ভাবনার জন্য এই ক্ষেত্রটি বর্তমানে তরুণদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়। তবে একই সঙ্গে এই পেশায় প্রয়োজন কঠোর শৃঙ্খলা, মানসিক দৃঢ়তা এবং দীর্ঘ সময় পরিবার থেকে দূরে থাকার মানসিক প্রস্তুতি। সেই কঠিন পথই বেছে নিয়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সে তানভী শর্মা প্রমাণ করেছেন, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি, পরিবারের সমর্থন এবং অক্লান্ত পরিশ্রম থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না। তাঁর এই সাফল্য আজ দেশের অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে সাহস, আত্মবিশ্বাস এবং স্বপ্নপূরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত (Success Story)।