বাংলা হান্ট ডেস্কঃ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) দলটাই এখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে উঠেছে তুমুল সমালোচনার ঝড়। এবার এপ্রসঙ্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে (Ritabrata Banerjee) একযোগে আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেতা রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh)।
মমতা তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কি বললেন রুদ্রনীল ঘোষ?
রুদ্রনীলের কথায়, ‘তৃণমূল উঠে গেছে ফলত সেটা তাদের দলের ব্যাপার। খুব সিরিয়াসলি আমার মনে হয় ফুটবল ম্যাচ কোথায় হবে, যে প্লেয়ারের পায়ে বল রয়েছে সেই সম্পর্কিত যাবতীয় চিঠি সবার কাছে ওই খামে করেই পৌঁছাবে। চিন্তা হচ্ছে এই জায়গায়, তাতে কি নওশাদ সিদ্দিকী রেগে যাবে? এইটা একটা বড় প্রশ্ন সমাজে উঠে আসছে। ‘
একইসাথে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে এদিন তিনি বললেন, ‘চিঠিতে লেখা যা থাকবে সেগুলো কি সবার জন্য ভালো হবে? খেলার রেজাল্ট কি হবে বুঝতে পারা যাচ্ছে না। মানুষ মজা পেয়েছেন, কেউ দুঃখ পেয়েছেন। গোটা পশ্চিমবঙ্গের মানুষ খুশী হয়েছেন। এত টানাটানি, এত টানাটানি যে একে বলল তুমি খেলতে যাও, আর ওকে বলল তুমি চিঠি লেখ। এরকম টাইপেরই লোকজন বলছে আর কি! বাকিটা ওরা ঠিক করবেন, ওরা আর কত টুকরো হবেন। আর কতগুলো লোগো পাবেন এটা ওদের অভ্যন্তরীণ ব্যাপার।’
আরও পড়ুনঃ NPS-এ রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি মিলবে ৩০ লক্ষের হেলথ কভার! গাইডলাইন জারি করল PFRDA
প্রসঙ্গত বিগত বেশ কিছুদিন ধরেই একটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক চলছে। দুর্গাপুজাকে কেন শারদ উৎসব বলা যাবে না তা নিয়ে। এপ্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে রুদ্রনীল বললেন, ‘শরৎকালের যে কোনো উৎসবকে আমরা শারদ উৎসব বলতে পারি। যেকোনো উৎসবকে। তাতে যেটা সবচেয়ে সমস্যার জায়গা হয়, যে আজকাল এত ধরনের লোক, এত রকমের দোকান খুলে ফেলেছেন উৎসবের তাদের পার্টিকুলার হিন্দু ধর্মের এই যে পুজোটা এটা কোথায় যেন গুলিয়ে যায়।’
একযোগে বামপন্থীদেরও আক্রমণ শানিয়ে রুদ্রনীল বললেন, ‘এটা বামপন্থীরা গুলিয়ে দিতে বরাবরই ভালবাসেন, এটা তাদের অ্যাজেন্ডা। তাদেড় মধ্যে কেউ কেউ বলছেন হ্যাঁ আমি নাস্তিক তো তাতে কি হয়েছে? না তাতে কোন প্রবলেম হয়নি। কিন্তু আপনি নাস্তিক, সেটা হিন্দুদের সামনে গর্ব করে বলছেন কেন? আপনারা তো সেকুলার, আপনারা যান আমাদের মুসলমান ভাই, খ্রিস্টান ভাইদের সামনে গিয়ে বলুন আমরা নাস্তিক আমি আপনার আল্লাহকে মানি না। আমরা নাস্তিক আমরা আপনাদের যিশু খ্রীষ্টকে মানি না। তারা কিন্তু সেখানে বলেন না। মানে দুরবুদ্ধিটা এখানে লুকিয়ে যে সারাক্ষণই সনাতন ধর্ম এবং হিন্দু ধর্মের কি করে বিরোধিতা করবেন এবং তার প্রতিনিধি হয়ে উঠবেন তার। ‘
একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘এটা যে আসলে ভোটের রাজনীতি, যে শুধুমাত্র সনাতন ধর্মের মানুষদের কাছে হ্যাঁ আমি ঈশ্বর মানি না, নাস্তিকতার বই বিক্রি করব লাল চাদর মুড়ে। কই আমরা তো দেখতে পাই না যে ঈদের দিনে, মহরমের দিনে এই লাল সালু পরে নাস্তিকতার বই বিক্রি হচ্ছে। কই আমরা তো দেখতে পাই না এই ভন্ড সেকুলারদের বড়দিনে কোন চার্চের সামনে গিয়ে এই বই বিক্রি করছেন। তাহলে তারা দুর্গা মন্ডপের সামনে গিয়ে এই বইগুলো কেন বিক্রি করবেন? অন্য কিছু বিক্রি করুন তাতে অসুবিধা নেই। কিন্তু এটা কেন?’
আরও পড়ুনঃ ‘অযোগ্যদের’ টাকা ফেরাতেই হবে, নয়তো সোজা জেল! জানালেন দিলীপ ঘোষ
রুদ্রনীল আরও বললেন, ‘তাই এটার পিছনে যে রহস্যটা সেটা সারাক্ষণ বেরিয়ে আসে এটা অদ্ভুত রকমের জগতে বাস করা। এরা দেশের মানুষের কথা বলেন কিন্তু দেশের স্বাধীনতা বিশ্বাস করেন না। এরা এই দেশের মানুষ এই দেশকে কিভাবে গড়তে হবে বলে অথচ এই দেশের মানুষকে যখন পাকিস্তানের মদত ওদুষ্ট জঙ্গিরা এসে মেরে দেয় তখন জঙ্গিদের অনুপ্রেরণা দেওয়া সেই দেশটার পক্ষে মিছিল করে বলে পাকিস্তানকে জল দাও।’
সবশেষে শারদোৎসব প্রসঙ্গে বিজেপি নেতা বললেন, ‘শরৎকালের যে কোন উৎসবকে শারদ উৎসব বলবে, বর্ষাকালের যে কোন উৎসবকে বর্ষা উৎসব বলবে। কিন্তু শারদ উৎসব মানেই যে দুর্গাপুজো সেটা কি আইডেন্টিফাই করা যায়? আমার মনে হয় সেইখান থেকেই আলোচনাগুলো উঠে আসে, কথাবার্তাগুলো উঠে আসে। আর সেটার সঙ্গেই যুক্ত রয়েছে পরিষ্কার এই বামপন্থী লোকজন।














