বাংলাহান্ট ডেস্ক: অবসরের জন্য সঞ্চয়ের পাশাপাশি বার্ধক্যে চিকিৎসার খরচ নিয়েও এবার কিছুটা নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম বা NPS (NPS Swasthya)-এর অধীনে ‘NPS Health’ প্রকল্পের চূড়ান্ত নিয়মাবলি প্রকাশ করেছে পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি বা PFRDA। এই প্রকল্পের লক্ষ্য হল অবসরকালীন সঞ্চয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে একই কাঠামোর মধ্যে আনা। নতুন ব্যবস্থায় NPS Health-এ একটি বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টের পাশাপাশি আলাদা সুপার টপ-আপ স্বাস্থ্যবিমা থাকবে। অর্থাৎ, পেনশনের জন্য জমা হওয়া অর্থ এবং স্বাস্থ্যবিমা আইনগত ও কার্যগতভাবে আলাদা থাকলেও দুটিই এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে কাজ করবে। NPS-এ যোগ দেওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরাই এই ব্যবস্থায় নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন।
NPS (NPS Swasthya)-এ রিটায়ারমেন্ট ফান্ডের পাশাপাশি মিলবে ৩০ লক্ষের হেলথ কভার!
নতুন নিয়মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল চিকিৎসার প্রয়োজনে NPS (NPS Swasthya) অ্যাকাউন্ট থেকে আংশিক টাকা তোলার সুযোগ। যোগ্য স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত খরচ মেটাতে অ্যাকাউন্টে জমা করা অবদানের সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত তোলা যাবে। নির্দিষ্ট বহির্বিভাগ এবং অন্তর্বিভাগের চিকিৎসার খরচও এর আওতায় থাকতে পারে। বিশেষ বিষয় হল, এই ধরনের আংশিক উত্তোলনের সংখ্যার কোনও নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা রাখা হয়নি এবং প্রথম বা পরবর্তী উত্তোলনের ক্ষেত্রেও ন্যূনতম অপেক্ষার সময় নির্ধারণ করেনি PFRDA। তবে টাকা সরাসরি গ্রাহকের হাতে দেওয়া হবে না। অনুমোদিত চিকিৎসা খরচ মেটাতে হাসপাতাল, স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদানকারী বা সংশ্লিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠানের কাছে অর্থ পাঠানো হবে। এমন কোনও যোগ্য অন্তর্বিভাগের চিকিৎসার খরচ যদি হয়, যা আংশিক উত্তোলনের মাধ্যমে পাওয়া অর্থের চেয়ে বেশি, সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে সঞ্চিত স্বাস্থ্য তহবিল ব্যবহার করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: লালকৃষ্ণ আডবানী পেলেন SIR-এর নোটিস! তালিকায় জয়শঙ্কর, কপিল সিব্বাল-সহ একাধিক হেভিওয়েটের নাম
বিমার কাঠামোটিও বেশ নির্দিষ্ট। এটি একটি ‘ফ্যামিলি ফ্লোটার’ পলিসি, যেখানে গ্রাহক, তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এবং সর্বাধিক দু’জন নির্ভরশীল সন্তানকে রাখা যাবে; বাবা-মা এই কভারের অংশ নন। ডিডাক্টেবলের পরিমাণ অনুযায়ী চার ধরনের কভার রাখা হয়েছে—১০ হাজার টাকার ডিডাক্টেবলে ১ লক্ষ টাকা, ৫০ হাজারে ৫ লক্ষ, ১ লক্ষে ১০ লক্ষ এবং ৩ লক্ষ টাকার ডিডাক্টেবলে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকার কভার। সাধারণ বিমা পলিসির ক্ষেত্রে প্রবেশের বয়স ১৮ থেকে ৭০ বছর। পলিসির শর্ত, প্রিমিয়াম এবং প্রযোজ্য আইন মেনে তা ৮৫ বছর বয়স পর্যন্ত নবীকরণ করা যেতে পারে। তবে বিমার ক্ষেত্রে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী ৩০ দিনের প্রাথমিক ওয়েটিং পিরিয়ড থাকবে। কিছু পূর্ব-বিদ্যমান রোগ এবং নির্দিষ্ট অসুখ বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে ১২ মাস পর্যন্ত অপেক্ষার নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে।
NPS Health চালু রাখতে প্রাথমিক অবদানের সঙ্গে প্রথম বছরের বিমার প্রিমিয়াম যুক্ত থাকবে। পাশাপাশি ২০০ টাকা বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চার্জ এবং NPS Health অ্যাকাউন্টে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ন্যূনতম অবদানের পরিমাণ ১০ টাকা। তহবিল পরিচালনার জন্য পেনশন ফান্ড বার্ষিক সর্বোচ্চ ০.০৮ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ নিতে পারে। এবার প্রশ্ন, অ্যাকাউন্টে বিমার নবীকরণের মতো পর্যাপ্ত টাকা না থাকলে কী হবে? নিয়ম অনুযায়ী, সম্ভব হলে পেনশন ফান্ডকে নবীকরণের ৯০, ৬০ এবং ৩০ দিন আগে গ্রাহককে সতর্ক করতে হবে। এরপরও নির্দিষ্ট গ্রেস পিরিয়ডের মধ্যে প্রিমিয়াম না দেওয়া হলে এবং বিমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে NPS Health অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রথমেই হন ব্যর্থ! ৫ কোটির ঋণ সামলে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৫০০ কোটির ব্যবসা গড়লেন কুমারভেল
তবে এই পরিস্থিতিতেও গ্রাহকের অন্য NPS (NPS Swasthya) অ্যাকাউন্টে সরাসরি প্রভাব পড়বে না। বিমা কভার শেষ হয়ে গেলে NPS Health অ্যাকাউন্টটিকে ‘অল সিটিজেন মডেল’-এর অধীনে থাকা NPS-এর সঙ্গে যুক্ত করার ব্যবস্থা রয়েছে। গ্রাহকের এমন অ্যাকাউন্ট আগে থেকে না থাকলে সেটিকে ওই মডেলের NPS অ্যাকাউন্টে রূপান্তর করা হবে। আবার চাইলে বিদ্যমান ‘অল সিটিজেন মডেল’ NPS থেকে NPS Health অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তরও করা যাবে, তবে তা সংশ্লিষ্ট বিমার ডিডাক্টেবল পূরণের সীমার মধ্যে থাকতে হবে। স্বাভাবিকভাবে স্কিম ছেড়ে দেওয়া, নির্ধারিত সময়ের আগে বেরিয়ে যাওয়া, মৃত্যু অথবা বিমা নবীকরণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ না থাকার মতো পরিস্থিতিতেও Health Account বন্ধ হতে পারে। ফলে PFRDA-র চূড়ান্ত নিয়মাবলি আগের ‘প্রুফ-অফ-কনসেপ্ট’ কাঠামোর তুলনায় NPS Health-এর অবদান, বিমা, চিকিৎসার খরচে অর্থ ব্যবহারের নিয়ম এবং অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার প্রক্রিয়াকে আরও স্পষ্ট করেছে।














