বাংলাহান্ট ডেস্ক: একেবারে সর্বস্বান্ত হয়ে জীবনে কেমনভাবে ঘুরে দাঁড়াতে (Success Story) হয় তার আজকে এক দারুণ উদাহরণ হলেন সিকে কুমারভেল (CK Kumaravel)। একসময় মাথার উপর ছিল ৫ কোটি টাকার ঋণের বোঝা। পাওনাদারদের চাপ, ব্যাঙ্কের তাগাদা, কর্মীদের বেতন মেটানোর চিন্তা—সব মিলিয়ে জীবন যেন থমকে গিয়েছিল। শুধু তাই নয়, সন্তানদের স্কুলের ফি দেওয়ার সামর্থ্যও হারিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই জায়গা থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়ে আজ ১,০০০-এর বেশি স্যালনের ব্যবসা গড়ে তুলেছেন তামিলনাড়ুর (Tamil Nadu) কুড্ডালোরের সিকে কুমারভেল। চেন্নাইকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাঁর ‘ন্যাচারালস’ স্যালন চেন দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এখন প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভারের ব্যবসা। তবে এই সাফল্যের কাহিনির শুরুটা মোটেই এতটা মসৃণ ছিল না।
সিকে কুমারভেলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
নিজের পরিচয় নিজেই তৈরি করার তাগিদ থেকেই প্রথম ব্যবসায় নামেন কুমারভেল। ‘রাগা’ নামে একটি ভেষজ হেয়ার ওয়াশ পাউডার বাজারে আনেন তিনি। শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র তিন বছরের মধ্যেই ব্যবসার বিক্রি প্রায় ৬ কোটি টাকায় পৌঁছে যায়। মাত্র ৩০ বছর বয়সে এমন সাফল্য তাঁকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাস ধীরে ধীরে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে পরিণত হয়। কোনও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা ছাড়াই উত্তর ভারতে দ্রুত ব্যবসা ছড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ‘রাগা প্লাস’ নামে নতুন পণ্য বাজারে আনতেই বিপর্যয় নেমে আসে। ফর্মুলেশনে সমস্যার কারণে শ্যাম্পুর পেস্ট কালো হয়ে যেতে শুরু করে। গ্রাহকদের মধ্যে তৈরি হয় অসন্তোষ, আর দ্রুত ধস নামে তাঁর তৈরি ব্যবসায় (Success Story)।
আরও পড়ুন: তালিকা তৈরি, বকেয়া DA দ্রুত মেলার আশা! KMC এলাকার পেনশনারদের জন্য বড় পদক্ষেপ
পণ্য ব্যর্থ হওয়ার পর কুমারভেলের উপর চেপে বসে প্রায় ৫ কোটি টাকার ঋণ। বাড়ি ও অফিসে পাওনাদারদের আনাগোনা, ব্যাঙ্কের চাপ এবং কর্মীদের বেতন দেওয়ার দুশ্চিন্তা তাঁকে কঠিন সময়ের মুখে দাঁড় করায়। পরিস্থিতি সামলাতে শ্বশুরবাড়ির সম্পত্তিও বন্ধক রাখতে হয়েছিল। সেই সময় তাঁর শাশুড়ির একটি কথাই তাঁকে নতুন করে সাহস দেয়—বাড়ি নিয়ে চিন্তা না করে সামনে এগিয়ে যেতে বলেন তিনি। একইসঙ্গে নিজের ব্যর্থতার দায় অন্য কারও উপর না চাপিয়ে কুমারভেল বুঝতে পারেন, সমস্যাটা মূলত তাঁর নিজের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত এবং পণ্যের ফর্মুলেশনেই ছিল। এই উপলব্ধিই তাঁকে আরও বাস্তববাদী করে তোলে।
এরপর আর রাতারাতি বড়লোক হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি কুমারভেল। বরং পরিবারের মাসিক প্রয়োজন হিসাব করে প্রথমে মাসে ৬০ হাজার টাকা উপার্জনের বাস্তবসম্মত লক্ষ্য ঠিক করেন। এমন একটি ব্যবসা খুঁজছিলেন, যা ধীরে ধীরে বড় করা সম্ভব, তাঁর স্ত্রী বীণা সামলাতে পারবেন এবং বড় বহুজাতিক সংস্থার সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় যেতে হবে না। সেই ভাবনা থেকেই ‘ন্যাচারালস’ স্যালনের পরিকল্পনা। ভাই সিকে রঙ্গনাথনের আর্থিক সহায়তা এবং পরিবার-বন্ধুদের পাশে নিয়ে প্রথম স্যালন শুরু করেন তিনি। এরপর ব্যবসা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বেছে নেন ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেল। দ্য বডি শপের প্রতিষ্ঠাতা অনিতা রডিকের কাজ থেকেও তিনি অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন।

আরও পড়ুন: আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ! ‘AI ফোর্স’-এর ঘোষণা ট্রাম্পের! চলবে নজরদারি
কুমারভেলের কাছে ‘ন্যাচারালস’ শুধু স্যালনের ব্যবসা হয়ে থাকেনি। ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলের মাধ্যমে বহু মানুষকে নিজেদের ব্যবসা শুরু করার সুযোগ দেওয়াই হয়ে ওঠে তাঁর লক্ষ্য। বিশেষ করে মহিলাদের উদ্যোক্তা হিসাবে এগিয়ে আসার সুযোগ তৈরি করার উপর জোর দেন তিনি। সাধারণ গ্রাহক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশার মানুষও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক হয়েছেন। আজ ১,০০০-এর বেশি আউটলেট এবং প্রায় ৫০০ কোটি টাকার টার্নওভার নিয়ে দাঁড়িয়ে ‘ন্যাচারালস’। নিজের এই পথচলাকে তাই কুমারভেল শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য হিসেবে দেখেন না; তিনি নিজেকে একজন ‘সামাজিক উদ্যোক্তা’ হিসেবেই ভাবেন। তাঁর বিশ্বাস, একটি ব্যবসা যখন বহু মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে, তখন সেই সাফল্যের সঙ্গে সমাজেরও অংশীদারিত্ব তৈরি হয় (Success Story)।














