গ্রামের বিদ্যুৎ আলোকিত করবে শহরকে! ভারতের প্রথম সবথেকে শক্তিশালী ট্রান্সফর্মার তৈরি করল BHEL

Published on:

Published on:

Bharat Heavy Electricals Limited manufactured India's first powerful transformer.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে,
ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (Bharat Heavy Electricals Limited) তথা BHEL পাওয়ার গ্রিড সেক্টরে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। মূলত, BHEL সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারতে একটি ১২০০ কেভি আল্ট্রা-হাই ভোল্টেজ এসি ট্রান্সফর্মার তৈরি ও পরীক্ষা করেছে। এই বিষয়টি ঐতিহাসিকও বটে। কারণ বর্তমানে এই প্রযুক্তি শুধুমাত্র হাতেগোনা কয়েকটি দেশের কাছেই রয়েছে। ভারত (India) তার দেশীয় ১২০০ কেভি আল্ট্রা-হাই ভোল্টেজ এসি ট্রান্সফর্মারের মাধ্যমে এই অভিজাত সেক্টরে যোগদান করেছে। BHEL-এর ভোপাল প্ল্যান্টে ডিজাইন ও নির্মিত এই ট্রান্সফর্মারটি মধ্যপ্রদেশের (Madhya Pradesh) বিনায় অবস্থিত পাওয়ারগ্রিডের ন্যাশনাল টেস্ট স্টেশনে স্থাপন করা হবে।

ভারতের প্রথম সবথেকে শক্তিশালী ট্রান্সফর্মার তৈরি করল BHEL (Bharat Heavy Electricals Limited):

১২০০ কেভি ট্রান্সফর্মারের বৈশিষ্ট্য: BHEL-এর নতুন ট্রান্সফর্মারটি একটি সিঙ্গেল-ফেজ অটো ট্রান্সফরমার, যার ক্ষমতা ৩৩৩ MVA এবং এটি ১১৫০/৪০০/৩৩ কেভি পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। এর সাহায্যে বিদ্যুৎ অপচয় না করে অনেক দূর পর্যন্ত সহজেই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ পাঠানো যাবে। যা দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করবে। এই বিশাল ইউনিটটি মধ্যপ্রদেশের বিনাতে ভারতের প্রথম পরীক্ষামূলক ১২০০ কেভি জাতীয় পরীক্ষাকেন্দ্রে স্থাপন করা হবে। এটি হবে দেশের যেকোনও সাবস্টেশনে এযাবৎ স্থাপিত বৃহত্তম সরঞ্জাম। এই ইউনিটের বিশেষত্ব হল, এটি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে প্রস্তুত করা হয়েছে।

Bharat Heavy Electricals Limited manufactured India's first powerful transformer.

এই ট্রান্সফর্মারের কাজ: জানিয়ে রাখি যে, এই ১২০০ কেভি ট্রান্সফর্মারটি অতি-উচ্চ ভোল্টেজ সঞ্চালনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর সাহায্যে শক্তি অপচয় না করে দীর্ঘ দূরত্বে বিদ্যুৎ পাঠানো যায়। এছাড়াও, এই প্রযুক্তির সাহায্যে এটি ভারতের বিদ্যমান ৭৬৫ কেভি নেটওয়ার্ক উন্নত করতে এবং গ্রিডকে আরও স্থিতিশীল ও কার্যকর করে তুলতে সাহায্য করবে। এই নতুন সিস্টেমটি আরও বেশি লোড সামলাতে সক্ষম এবং পুরো দেশের গ্রিড লাইনকে নিরাপদ ও স্থিতিশীল রাখতে পারে। শব্দকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এর ফলে, ভারতের বিদেশ থেকে আমদানি করা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা কমবে।

আরও পড়ুন: ভারতে এই প্রথম ডেঙ্গি টিকার অনুমোদন! রয়েছে ক’টি ডোজ? নিতে পারবেন কারা?

পরবর্তী লক্ষ্য: উল্লেখ্য যে, এই ১২০০ কেভি ট্রান্সফরমারের সাহায্যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত সৌর ও বায়ু শক্তি সহজেই বড় শহর এবং শিল্প কেন্দ্রগুলিতে পরিবহন করা যাবে। এছাড়াও, ভবিষ্যতে উৎপাদন বাড়িয়ে জাতীয় গ্রিড সম্প্রসারণ করা যেতে পারে এবং এটি অন্যান্য দেশেও রফতানি করা যেতে পারে। তবে, বর্তমানে এই কাজের সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হল এর বিপুল ব্যয়। এছাড়াও, প্রযুক্তিটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে প্রাথমিক প্রতিবন্ধকতাগুলি মোকাবিলা করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছে।

আরও পড়ুন: লর্ডসে দুরন্ত সেঞ্চুরির পরেও টিম ইন্ডিয়া থেকে বাদ পড়বেন রোহিত শর্মা? কী পরিকল্পনা BCCI-র?

কীভাবে তৈরি করা হয়েছে: এই ট্রান্সফর্মারটি তৈরি করতে কোনও বিদেশি রাষ্ট্র বা সংস্থার সাহায্য ছাড়াই ২ বছরের কঠোর পরিশ্রম ও গবেষণার পর এটি সম্ভব হয়েছে। এটি ভোপালের একটি বিশেষভাবে পরিকল্পিত ট্রান্সফরমার স্টেশনে তৈরি করা হয়েছিল। যেখানে এর গুণমানের সঙ্গে কোনও আপোষ করা হয়নি। এর পূর্বে, BHEL দেশের প্রথম দেশীয় প্রযুক্তিতে নির্মিত ৫০০ এমভিএ, ৭৬৫ কেভি ট্রান্সফরমার তৈরি করেছিল।