বাংলা হান্ট ডেস্ক : ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এবার স্কুলের ইউনিফর্মকেই (School Uniform) হাতিয়ার করতে চাইছে রাজ্য সরকার (West Bengal Government)। বর্ষাকালে পড়ুয়াদের মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখতে সরকারি স্কুলের পোশাকে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর হাত থেকে বাঁচতে স্কুল ইউনিফর্মে (School Uniform) বদল
সরকারের নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখার মতো ইউনিফর্ম পরার উপর জোর দেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে এনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায় জানান, “প্রতিবছর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থাৎ ৬ মাস ছেলেদের পরতে হবে ফুল শার্ট-প্যান্ট। স্কার্ট থাকলেও মেয়েদের ঢাকতে হবে পা।”
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, ইউনিফর্মে এই পরিবর্তনের একমাত্র উদ্দেশ্য হল ডেঙ্গু বহনকারী মশার কামড়ের হাত থেকে পড়ুয়াদের বাঁচানো।
সরকারি সূত্রের খবর, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। বিজ্ঞপ্তি জারির পর সরকারি স্কুলগুলিকে নতুন পোশাকবিধি অনুসরণ করতে বলা হবে। স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, বর্ষার মরসুমে হাত-পা বেশি ঢাকা থাকলে সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
উল্লেখ্য, রাজ্যে প্রতি বছর বর্ষা নামার পর ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচার চালালেও বহু মানুষ আক্রান্ত হন। অনেক ক্ষেত্রে রোগের উপসর্গ দেরিতে ধরা পড়ায় জটিলতাও তৈরি হয়। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই এবার প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে আরও বাস্তবমুখী করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শুধু ওষুধ বা চিকিৎসা নয়, দৈনন্দিন অভ্যাস এবং পোশাকেও পরিবর্তন এনে সংক্রমণ কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।
সরকারি স্কুলের পাশাপাশি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিকেও একই পরামর্শ দেওয়া হবে। তবে কোনও বাধ্যবাধকতা থাকছে না। স্বাস্থ্য দপ্তর তাদের কাছে এই প্রস্তাব পাঠাবে, কিন্তু ইউনিফর্মে পরিবর্তন আনা হবে কি না, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে সংশ্লিষ্ট স্কুলের পরিচালন কর্তৃপক্ষ।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধুমাত্র মশা নিধন অভিযান যথেষ্ট নয়। ব্যক্তিগত সুরক্ষার ব্যবস্থাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে স্কুলপড়ুয়াদের দীর্ঘ সময় বাইরে যাতায়াত করতে হয় বলে শরীর ঢাকা পোশাক সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। স্বাস্থ্য দপ্তর আশা করছে, এই পদক্ষেপের ফলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা যেমন বাড়বে, তেমনই স্কুলপড়ুয়াদের সুরক্ষাও আরও জোরদার হবে।