বাংলা হান্ট ডেস্কঃ করের বোঝা না বাড়িয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে উদ্যোগী নতুন রাজ্য সরকার। সেই কারণে অর্থ বিলে একাধিক সংশোধনী আনা হল। বিশেষত প্রফেশনাল ট্যাক্স (Professional Tax) তথা পি-ট্যাক্স আদায়ের নিয়মে বিরাট বদল আনতে চলেছে রাজ্য। বিধানসভায় অর্থ বিল সংক্রান্ত আলোচনায় এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)।
রাজ্যে পি-ট্যাক্সের নিয়মে আসছে বড় বদল | (Professional Tax)
বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী বলেন, করের হার বৃদ্ধি না করে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড় বদল করা হয়েছে। বিশেষত পি-ট্যাক্স আদায়ের নিয়মে সংশোধন আনা হচ্ছে। নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যে কর্মরত কোনও বেসরকারি কর্মীর পি-ট্যাক্স সংশ্লিষ্ট সংস্থার হেড অফিস অন্য রাজ্যে থাকলেও আর সেখানে যাবে না।
আরও পড়ুনঃ আগস্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা আসতে দেরি হচ্ছে কেন? সরকার কী বলছে জানুন
নতুন ব্যবস্থায়, কোনও বেসরকারি কর্মচারী যদি পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত থাকেন, তাহলে তাঁর পি-ট্যাক্সও এখানকার সরকারের কোষাগারেই জমা পড়বে। এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যের কারণও খোলসা করেছেন অর্থমন্ত্রী।
স্বপন বলেন, এতদিন অবধি বহু কোম্পানির সদর দফতর অন্য রাজ্যে থাকার কারণে বেসরকারি কর্মীদের প্রফেশনাল ট্যাক্স তথা পি-ট্যাক্স সেই রাজ্যের কোষাগারে জমা পড়ত। তবে এবার থেকে সেই টাকা রাজ্যের রাজস্বে যুক্ত হবে। ফলে সরকারের আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, এই বদলের ফলে রাজ্যের রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ১৮% অবধি বৃদ্ধি পেতে পারে। রাজ্যের মতে, নতুন ব্যবস্থায় একদিকে যেমন অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের সংগঠিত ব্যবস্থার অধীন আনা সহজ হবে, তেমনই কর প্রশাসনও আরও বেশি কার্যকর হবে।

এছাড়া অর্থ বিলে খনি খাতের কর কাঠামোতেও সংশোধন আনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। স্বপন বলেন, আগের রাজ্য সরকার এক্ষেত্রে কর ছাড়ের নীতি নিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থাকে আরও কঠোর করার পক্ষপাতী। রাজস্ব সংগ্রহের পরিধি বৃদ্ধির জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
অর্থ দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই একের পর এক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এবার করের বোঝা না চাপিয়ে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। বিশেষত প্রফেশনাল ট্যাক্স আদায়ের নিয়মে সংশোধনের বিষয়টিকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে।

















