বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে চলমান অস্থিরতা এবং পশ্চিমী দেশগুলিতে তীব্র জ্বালানি ঘাটতির আবহেই ভারতীয় তেল শোধনাগার সেক্টর (India Fuel Exports) একটি নতুন মাইলফলক অর্জন করেছে। মূলত, ২০২৬ সালের জুলাই মাসে ভারতের মোট জ্বালানি রফতানি এক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। পশ্চিম এশিয়ায় গভীর সামরিক সঙ্কট (মার্কিন-ইরান সংঘাত), ডিজেল রফতানির ওপর রাশিয়ার (Russia) আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং ইউরোপে (Europe) ডিজেলের মজুত কমে যাওয়ার ফলে বিশ্ব বাজারে পরিশোধন মার্জিনে তীব্র বৃদ্ধি ঘটেছে। এদিকে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়েই ভারতের শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি শোধনাগার সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ তথা RIL এবং নায়ারা এনার্জি আন্তর্জাতিক বাজারে ডিজেল ও অন্যান্য পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ বাড়িয়েছে। বর্তমান প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপিত করা হল।
এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে রফতানি (India Fuel Exports):
গত মাসে ভারতের জ্বালানি রফতানি এক বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর নেপথ্যে মূল চালিকাশক্তি ছিল ডিজেলের শক্তিশালী মুনাফা, ডিজেল রফতানির ওপর রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞা এবং ইরান যুদ্ধের সময়ে সংক্ষিপ্ত বিরতির কারণে অপরিশোধিত তেলের প্রচুর সরবরাহ। যা ভারতীয় শোধনাগারগুলিকে রফতানি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। ইতিমধ্যেই অ্যানালিটিক্স ফার্ম কেপলারের শিপিং ডেটা অনুসারে জানা গিয়েছে যে, ভারত গত জুলাই মাসে দৈনিক ১৫.৩ লক্ষ ব্যারেল পরিশোধিত জ্বালানি রফতানি করেছে। যা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ মাসের গড়ের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। জানিয়ে রাখি যে, ২০১৭ সালে কেপলার রেকর্ড রাখা শুরু করার পর থেকে জুলাই মাসের হিসাবের তুলনায় এই পরিমাণ ছিল সর্বোচ্চ। এই প্রসঙ্গে কেপলারের রিফাইনিং বিভাগের লিড অ্যানালিস্ট নিখিল দুবে জানিয়েছে যে, রাশিয়া থেকে ডিজেল রফতানির ওপর নিষেধাজ্ঞার ফলে ডিজেলের থেকে হওয়া মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় ভারত থেকে রফতানি বেড়েছে। সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে, সেইসব এলাকায় পণ্য পাঠানো হয়েছিল যেখানে আগে পশ্চিম এশিয়া ও রাশিয়া থেকে সরবরাহ আসত।

এই দেশগুলিতেও রফতানি করা হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, পশ্চিম এশিয়া ও ইউরোপের যুদ্ধ বিশ্বব্যাপী জ্বালানি বাণিজ্যের ধরণ বদলে দিয়েছে। যার ফলে দাম বেড়েছে এবং রফতানিকারীদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সংঘাতগুলি রাশিয়া এবং উপসাগরীয় দেশগুলি থেকে সরবরাহ ব্যাহত করেছে। যা বিশ্ব বাজারের জন্য পরিশোধিত জ্বালানির অন্যতম দু’টি প্রধান উৎস হিসাবে বিবেচিত হয়। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলিতে ইউক্রেনের হামলার কারণে মস্কো পেট্রোল ও ডিজেল রফতানির বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ফলে অভ্যন্তরীণ জ্বালানির চাহিদা মেটাতে ভারতসহ অন্যান্য দেশ থেকে আমদানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজের আগে কবে প্র্যাক্টিস ম্যাচ খেলবে টিম ইন্ডিয়া? জানুন দিনক্ষণ
এই প্রসঙ্গে নিখিল দুবে জানিয়েছেন, তুরস্কের মতো যে দেশগুলি রাশিয়া থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করত, তারা এখন বিকল্প হিসাবে ভারতীয় কার্গো কিনছে। তিনি আরও বলেন যে, ইউরোপ ডিজেলের ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে এবং সাধারণত পশ্চিম এশিয়া থেকে আমদানির ওপর তারা নির্ভর করে। তবে, আঞ্চলিক অস্থিরতার কারণে সেখান থেকে সরবরাহ সীমিত হয়ে পড়েছে। তাঁর মতে, ডিজেল ক্র্যাকের (ডিজেল ও অপরিশোধিত তেলের দামের পার্থক্য) রেকর্ড পরিমাণ বৃদ্ধি ইউরোপে রফতানির পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করেছে।
আরও পড়ুন: ক্রমশ বাড়ছে চাপ! কেন ঝুঁকির সম্মুখীন টিম ইন্ডিয়ার হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের চাকরি?
রয়েছে এটির ভূমিকাও: তিনি জানান, এই বিপুল রফতানি বৃদ্ধির আরেকটি কারণ হল ‘ইরান ও আমেরিকার মধ্যে স্বল্পকালীন যুদ্ধবিরতির সময়ে আটকে থাকা কার্গোগুলি এসে পৌঁছানোয় অপরিশোধিত তেলের প্রচুর সরবরাহ রয়েছে।’ যা শোধনাগারগুলিকে উচ্চ পরিচালন স্তর বজায় রাখতে সাহায্য করেছে। রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ এবং নায়ারা এনার্জি পরিচালিত শোধনাগারগুলিতে রক্ষণাবেক্ষণের কাজ সম্পন্ন হওয়ায় তারাও অধিক পরিমাণে অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম হয়েছে। ভারতের পরিশোধিত জ্বালানি রফতানির প্রায় তিন-চতুর্থাংশই আসে রিলায়েন্স থেকে। আরেকটি প্রধান রফতানিকারী রসনেফ্ট সমর্থিত নায়ারা এনার্জিও গত মাসে রাশিয়ায় জ্বালানি পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিকভাবে এই বিষয়গুলির ওপরে নির্ভর করেই ভারত বিপুল পরিমাণে জ্বালানি রফতানি করেছে।

















