বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজকের সাফল্যের কাহিনি (Success Story) ঈশেন্দ্র আগরওয়ালের (Ishendra Agarwal)। ভারতে (India) গয়না মানেই দীর্ঘদিন ধরে সঞ্চয় বা বিনিয়োগ—এই প্রচলিত ধারণাটাই বদলে দিতে চেয়েছিলেন ঈশেন্দ্র আগরওয়াল। তাঁর ভাবনা ছিল, গয়না শুধু বিয়েবাড়ি বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য নয়, প্রতিদিনের ফ্যাশনেরও অংশ হয়ে উঠতে পারে। সেই লক্ষ্যেই ২০১৯ সালে মাত্র ১০ লক্ষ টাকা মূলধন নিয়ে গহনার ব্যবসায় পা রাখেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন নিকিতা প্রসাদ ও সচিন শেঠি। কয়েক বছরের মধ্যেই সেই ছোট উদ্যোগ বড় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছে। ট্র্যাক্সনের ২৮ জুলাই ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, GIVA-র আনুমানিক মূল্যায়ন এখন প্রায় ৪,৯২৫ কোটি টাকা। তবে এই জায়গায় পৌঁছনোর পথ মোটেও মসৃণ ছিল না।
ঈশেন্দ্র আগরওয়ালের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে তিন প্রতিষ্ঠাতার পথচলা শুরু। তার পরের মাসেই চালু হয় GIVA-র ওয়েবসাইট। স্বাভাবিকভাবেই তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, অনলাইনে গয়না বিক্রির প্ল্যাটফর্ম চালু হলেই ক্রেতাদের আগ্রহ তৈরি হবে। বাস্তবে ছবিটা ছিল একেবারেই অন্যরকম। প্রথম ৩ মাসে দিনে গড়ে মাত্র এক বা দু’টি অর্ডার আসত। সেই সময়ের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ঈশেন্দ্র জানিয়েছেন, দলের সদস্যদের নিজেদের পরিচিতদের বোঝাতে হত, তাঁদের কাছ থেকে কিনতে বলতে হত এবং অনলাইনে গয়না কেনার ব্যাপারে গ্রাহকদের আস্থা তৈরি করার চেষ্টা করতে হত। অর্থাৎ পণ্য তৈরি করার পাশাপাশি তখন তাঁদের সবচেয়ে বড় কাজ ছিল নতুন ধরণের ক্রেতার বিশ্বাস অর্জন করা (Success Story)।
আরও পড়ুন: জন্মদিনেও কর্তব্যে অবিচল! সেমিকন ইন্ডিয়ার সূচনা করলেন মোদী, গোটা বিশ্বকে দিলেন বিশেষ বার্তা
অনলাইনে দামি গয়না কেনার ক্ষেত্রে ভারতীয় ক্রেতাদের একটা স্বাভাবিক সংশয় ছিল। বিশেষ করে সোনার দাম বেশি হওয়ায় অনলাইনে উচ্চমূল্যের গয়না কেনানো আরও কঠিন হতে পারে বলে মনে করেছিল সংস্থাটি। তাই GIVA তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী অথচ প্রিমিয়াম দেখতে রুপোর গয়নাকে ব্যবসার অন্যতম প্রধান ভিত্তি করে নেয়। শুধু কম দাম রাখাই নয়, ক্রেতার আস্থা বাড়াতেও একাধিক ব্যবস্থা নেয় সংস্থা। রুপোর গয়নার সঙ্গে খাঁটিত্বের সনদ, আজীবন পুনঃলেপনের সুবিধা এবং ৩০ দিনের মধ্যে পণ্য ফেরত দেওয়ার নীতি চালু করা হয়। ধীরে ধীরে অনলাইন ব্যবসায় ক্রেতার সংখ্যা বাড়তে থাকে এবং সেখান থেকেই পরবর্তী সম্প্রসারণের পথ তৈরি হয়।
অনলাইনের পর GIVA-র সামনে আসে আরও একটি বড় পরীক্ষা—অফলাইন খুচরো ব্যবসা। দোকানের জন্য সঠিক জায়গা বেছে নেওয়া, পর্যাপ্ত স্টক রাখা, ইনভেন্টরি সামলানো এবং বিক্রয়কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া—সবই ছিল প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। সময়ের সঙ্গে সেই ব্যবস্থাপনাও গড়ে ওঠে। সংস্থার ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে তাদের প্রায় ৩০০টি স্টোর রয়েছে। একইসঙ্গে দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে বিভিন্ন ম্যানুফ্যাকচারিং পার্টনারের সঙ্গেও কাজ করেছে GIVA। মহিলাদের গয়নার পাশাপাশি পুরুষদের জুয়েলারিও এখন সংস্থার ব্যবসার একটি গুরুত্বপূর্ণ নতুন ক্ষেত্র হয়ে উঠছে।

আরও পড়ুন: ব্রিকসের পর অসুস্থ একের পর এক বিশ্বনেতা? সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই শুরু হতেই কী জানাল বিদেশ মন্ত্রক?
এই সম্প্রসারণের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে সংস্থার মূল্যায়নও। ২০২৩ সালের এপ্রিল নাগাদ GIVA-র মূল্যায়ন ছিল প্রায় ১,১৬৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের জুনে সিরিজ C ফান্ডিংয়ের পর তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩,৯৯৫ কোটি টাকায়। এরপর ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিরিজ C এক্সটেনশন রাউন্ডের পরে সংস্থার পোস্ট-মানি মূল্যায়ন প্রায় ৪,৯০৪.৮৫ কোটি টাকায় পৌঁছয়। আর ২৮ জুলাই ২০২৬-এর ট্র্যাক্সন তথ্য অনুযায়ী, আনুমানিক মূল্যায়ন প্রায় ৪,৯২৫ কোটি টাকা। ফলে ১০ লক্ষ টাকার ছোট পুঁজি থেকে শুরু করা সেই উদ্যোগ আজ কয়েক হাজার কোটি টাকার সংস্থায় পরিণত হয়েছে। GIVA-র গল্প দেখাচ্ছে, প্রচলিত বাজারে নতুন ভাবনা, ক্রেতার আস্থা এবং ধীরে ধীরে তৈরি করা ব্র্যান্ড—এই তিনের সমন্বয় একটি ছোট ব্যবসাকেও বড় পরিসরে নিয়ে যেতে পারে (Success Story)।













