বাংলাহান্ট ডেস্ক: নতুন করে ইউপিআই (UPI Charges) ব্যবহারে গ্রাহকদের টাকা গুনতে হবে—এমন কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি। লোকসভায় ‘ট্যাক্সেশন অ্যান্ড আদার লজ (সংশোধনী) বিল’ (Taxation and othe Laws Amendment Act) পাশ হওয়ার পর ইউপিআই এবং মার্চেন্ট চার্জ নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হলেও, পেমেন্টস কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাহকদের জন্য ইউপিআই লেনদেন এখনও বিনামূল্যেই থাকছে। একইভাবে ছোট দোকান, কিরানা স্টোর বা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কাছ থেকেও ইউপিআই পেমেন্ট গ্রহণের জন্য কোনও মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বা MDR নেওয়া হয় না। ফলে বিল পাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের ডিজিটাল পেমেন্টের খরচ বেড়ে যাচ্ছে—এমন ধারণার কোনও ভিত্তি নেই।
গ্রাহক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আলাদা করে দিতে হবে না কোনও ইউপিআই চার্জ (UPI Charges)
তবে ইউপিআই চার্জ (UPI Charges) নিয়ে আলোচনা কেন হচ্ছে, সেই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। গত এক দশকে ইউপিআই ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে এবং বর্তমানে এটি বিশ্বের বৃহত্তম রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলির একটি। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক লেনদেন পরিচালনা করতে যে প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো প্রয়োজন, তার রক্ষণাবেক্ষণও ক্রমশ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা, জালিয়াতি রোধ, প্রযুক্তির উন্নতি এবং পরিষেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখা—সব ক্ষেত্রেই নিয়মিত বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই পরিকাঠামো দীর্ঘমেয়াদে কীভাবে টেকসই রাখা যায়, মূলত তা নিয়েই মার্চেন্ট চার্জ নিয়ে আলোচনা চলছে।
আরও পড়ুন: চিনের নাম বদলের জবাব! অরুণাচলের ২৭ টি স্থানকে সরকারি মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করল ভারত
ইউপিআই ব্যবস্থাকে এত বড় পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার পিছনে রয়েছে ব্যাঙ্ক, পেমেন্ট সংস্থা, ফিনটেক সংস্থা, ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া (NPCI) এবং রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়ার (RBI) দীর্ঘদিনের বিনিয়োগ ও পরিশ্রম। প্রযুক্তি তৈরি থেকে শুরু করে সাইবার সুরক্ষা, প্রতারণা ঠেকানো, গ্রাহক পরিষেবা এবং নতুন ফিচার চালু করা—প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানগুলি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইউপিআই যাতে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহের সাত দিন নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, সেই পরিকাঠামো সচল রাখতেও নিয়মিত খরচ হচ্ছে।
বর্তমানে ইউপিআই ব্যবহারের জন্য সরাসরি কোনও টাকা দিতে হয় না। এই পরিষেবা চালু রাখতে যে অপারেটিং খরচ হয়, তার বড় অংশ ব্যাঙ্ক ও পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলিই বহন করছে। ভবিষ্যতে বড় ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে কোথাও মার্চেন্ট সার্ভিস চার্জ চালু হলেও তার অর্থ গ্রাহকদের প্রতিটি ইউপিআই লেনদেনের জন্য আলাদা করে টাকা দিতে হবে না। মার্চেন্ট সার্ভিস চার্জ মূলত ব্যবসায়ী এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীর মধ্যে একটি বাণিজ্যিক ব্যবস্থা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এমন মডেল রয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে নির্দিষ্ট পরিষেবা-ভিত্তিক চার্জ নেওয়া হলেও সাধারণ গ্রাহক ডিজিটাল পেমেন্টের সুবিধা বিনামূল্যেই পান।

আরও পড়ুন: পিএম কিষাণ নাকি কৃষক বন্ধু, কোন প্রকল্পে টাকা বেশি? কোনটায় বেশি সুবিধা জানুন
দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিতে ইউপিআইয়ের (UPI Charges) গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে। ছোট দোকান থেকে বড় ব্যবসা, অনলাইন কেনাকাটা থেকে দৈনন্দিন বিল মেটানো—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দ্রুত ও সহজে টাকা পাঠানোর অন্যতম প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই ব্যবস্থা। ফলে লেনদেনের পরিমাণ যত বাড়বে, ততই নিরাপত্তা, জালিয়াতি প্রতিরোধ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং পরিকাঠামোয় বিনিয়োগের প্রয়োজন বাড়বে। সেই কারণেই ইউপিআইয়ের আর্থিক মডেল নিয়ে আলোচনা হলেও গ্রাহক ও ছোট ব্যবসায়ীদের উপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপানোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এখন লক্ষ্য, সাধারণ মানুষের জন্য পরিষেবাটি সহজ ও সাশ্রয়ী রাখার পাশাপাশি দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল পরিকাঠামোকেও দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করে তোলা।













