বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে বড়সড় অনিয়মের অভিযোগ সামনে এসেছে। প্রকল্পের টাকা পেতে ভুয়ো বিল তৈরি, একই চিকিৎসার জন্য একাধিকবার টাকা দাবি করা-সহ নানা ধরনের জালিয়াতির অভিযোগে দেশজুড়ে হাজার হাজার হাসপাতালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে কেন্দ্র। তদন্তে অনিয়ম ধরা পড়ার পর বহু হাসপাতালকে প্রকল্পের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, আবার অনেক হাসপাতালের পরিষেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পে জালিয়াতি
আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে একসঙ্গে ২৩৫৯টি হাসপাতালকে অনুমোদিত তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে কেন্দ্র। একই সঙ্গে আরও ১২০০টি হাসপাতালকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত শুক্রবার লোকসভায় লিখিত জবাবে এই তথ্য জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নড্ডা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে ভুয়ো বিল তৈরি, ডুপ্লিকেট ক্লেম জমা দেওয়া এবং প্রকল্পের নিয়ম ভেঙে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই ২৯টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
শুধু আইনি পদক্ষেপই নয়, অভিযুক্ত হাসপাতালগুলির বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতারণা ও বেআইনি বিলের অভিযোগে মোট ৩২৮.৪৯ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৫০০-রও বেশি হাসপাতালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এই অনিয়ম খুঁজে বের করতে ন্যাশনাল হেলথ অথরিটি (এনএইচএ) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং মেশিন লার্নিং প্রযুক্তির সাহায্য নিয়েছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে খুব দ্রুত ভুয়ো বিল, সন্দেহজনক লেনদেন এবং ডুপ্লিকেট ক্লেম চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে।
কেন্দ্রের দাবি, এই নজরদারির ফলে চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৬৭৬.১৬ কোটি টাকার আর্থিক অপচয় আটকানো গেছে। ফলে প্রকল্পের অর্থ অপব্যবহার হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমেছে।

আরও পড়ুনঃ মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরই অ্যাকশন, RG Kar মামলায় নতুন FIR দায়ের
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে চালু হওয়া আয়ুষ্মান ভারত (Ayushman Bharat) প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনামূল্যে চিকিৎসার সুবিধা পায়। বর্তমানে এই প্রকল্পের সঙ্গে দেশের ৩৪ হাজারেরও বেশি হাসপাতাল যুক্ত রয়েছে। সাম্প্রতিক এই অভিযানের পর কেন্দ্রের নজর এখন প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার উপর।













