বিধ্বংসী ভূমিকম্পে হাহাকার কলম্বিয়ায়! মৃত অন্তত ১৩২, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে বহু মানুষ

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: কলম্বিয়ার (Colombia) বিস্তীর্ণ এলাকা যেন মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভয়াবহ ভূমিকম্পে (Earthquake) এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। একের পর এক বাড়িঘর তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ায় বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছেন। সবচেয়ে বড় আশঙ্কা, ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও অনেকেই আটকে রয়েছেন। ফলে উদ্ধারকাজ যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রশাসনের পাশাপাশি উদ্ধারকারী দলগুলি এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খোঁজ চালাচ্ছে।

ভয়াবহ ভূমিকম্পে কলম্বিয়ায় (Colombia) মৃত্যু অন্তত ১৩২ জনের, বাড়তে পারে মৃতের সংখ্যা

মার্কিন ভূতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বা USGS-এর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিট নাগাদ প্রবল কম্পনে কেঁপে ওঠে কলম্বিয়া (Colombia)। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল চোকো অঞ্চলের সান হোসে দেল পালমার থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০৭ কিলোমিটার গভীরে ছিল কম্পনের কেন্দ্র। শুধু কলম্বিয়াতেই নয়, প্রতিবেশী ইকুয়েডর এবং ভেনেজুয়েলার সীমান্তবর্তী এলাকাতেও কম্পন অনুভূত হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি। ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে একাধিক আফটারশক। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কলম্বিয়ার মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৬.০ মাত্রার কয়েকটি পরবর্তী কম্পন অনুভূত হয়েছে, যা বিশেষজ্ঞদের কাছেও যথেষ্ট উদ্বেগের বিষয়।

আরও পড়ুন: ‘অন্য কোন মোটিভ নিয়ে অনুমতি দেয়নি পুলিশ’, মসজিদের মাইক ইস্যুতে মিছিলে হাইকোর্টের সায়

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির মধ্যে রয়েছে পেরেইরা ও কালি। পেরেইরা শহরেই এখনও পর্যন্ত ১৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। শহরের মেয়র মাউরিসিও সালাজার পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ বলে বর্ণনা করেছেন। অন্যদিকে কালি শহরে প্রায় ২০টি বাড়ি ভেঙে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। বহু বাড়ি ও পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত। কোথাও ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে রয়েছেন বাসিন্দারা, কোথাও আবার বাড়িঘর হারিয়ে খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিতে হয়েছে মানুষকে। ফলে মৃত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে প্রশাসন। উদ্ধারকারীদের কাছে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবিতদের দ্রুত খুঁজে বের করা।

ভূমিকম্পের ভয়াবহতার ছবি ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, প্রবল কম্পনের সময় বাড়িগুলি কীভাবে পেন্ডুলামের মতো দুলছে। কোথাও আবার চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ছে গোটা বাড়ি। আতঙ্কিত বাসিন্দাদের প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় ছুটে বেরিয়ে আসতেও দেখা যাচ্ছে। তবে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা হয়নি। তবু প্রকাশ্যে আসা ছবিগুলি থেকে বিপর্যয়ের ভয়াবহতার একটা স্পষ্ট ধারণা মিলছে। কম্পনের পর থেকেই বহু এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আফটারশকের আশঙ্কায় অনেকে আর বাড়িতে ফিরতেও সাহস পাচ্ছেন না।

132 dead in Colombia earthquake, death toll could rise.

আরও পড়ুন: পুজোয় বেড়ানোর প্ল্যান? টিকিট কাটার সঠিক সময় জেনে নিন, আসন না পেলেও রয়েছে বিকল্প

এই মুহূর্তে কলম্বিয়ার (Colombia) সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল উদ্ধারকাজ দ্রুত শেষ করে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া। ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে উদ্ধারকারী দলগুলি নিরলস ভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে আহতদের চিকিৎসা এবং গৃহহীনদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনিক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। একের পর এক কম্পন, ধসে পড়া বাড়ি এবং স্বজন হারানোর ঘটনায় কলম্বিয়ার বহু পরিবার এখন গভীর আতঙ্ক ও শোকে দিন কাটাচ্ছে। উদ্ধারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই বিপর্যয়ের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির ছবি স্পষ্ট হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।