বাংলা হান্ট ডেস্ক: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সেক্টরে নিজের দাপট প্রদর্শন করেছে ভারত। ঠিক এই আবহেই এবার একটি বড় আপডেট সামনে এসেছে। মূলত, ভারতীয় টেলিকম প্রযুক্তি (Reliance Jio) শীঘ্রই বিদেশে ব্যবহৃত হতে পারে। একটি রিপোর্ট অনুসারে, ভারতের বৃহত্তম টেলিকম সংস্থা রিলায়েন্স জিও স্বাধীনভাবে বেশ কিছু প্রযুক্তি তৈরি করেছে। যা তারা বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যিকভাবে প্রয়োগ করার চেষ্টা করতে পারে। পাশাপাশি, বলা হচ্ছে যে, ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী অংশীদারিত্বের জন্য বিদেশি সংস্থাগুলির পক্ষ থেকে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যেতে পারে। টেলিকম বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে দ্য টেলিগ্রাফের রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। এমনটা হলে তা ভারতের (India) জন্য এক বিরাট সাফল্য হবে। কারণ বহু দেশ টেলিকম সরঞ্জাম থেকে শুরু করে প্রযুক্তি পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই এতদিন ধরে চিন, ইউরোপ ও আমেরিকার প্রযুক্তির ওপর নির্ভর করে এসেছে। তবে, বিগত কয়েক বছরে ভারতীয় সংস্থাগুলি নিজেরাই দেশীয় টেলিকম প্রযুক্তি (Indian Telecom Technology) উদ্ভাবন করেছে।
রিলায়েন্স জিও (Reliance Jio) বেশ কিছু প্রযুক্তি তৈরি করেছে:
সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ হল BSNL: জানিয়ে রাখি যে, রাষ্ট্রয়াত্ত টেলিকম সংস্থা BSNL দেশীয় প্রযুক্তি গ্রহণের সর্বশ্রেষ্ঠ উদাহরণ। যদিও এই সংস্থা 4G মোবাইল নেটওয়ার্ক চালু করতে বিলম্ব করেছে। তবে, এর প্রযুক্তি সম্পুর্ণ দেশীয়। TCS এবং অন্যান্য ভারতীয় সংস্থাগুলি ভারতে BSNL 4G নিয়ে আসতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। দেশীয় 4G প্রযুক্তির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হল যে, এটিকে শুধুমাত্র একটি সফটওয়্যার আপগ্রেডের মাধ্যমেই 5G-তে রূপান্তর করা যায়।

চিনের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম 5G বেস: এদিকে, জিও ইতিমধ্যেই চিনের বাইরে বিশ্বের বৃহত্তম 5G কাস্টমার বেস তৈরি করেছে। ভারতে জিও-র প্রায় ২৬.৮৫ কোটি 5G ব্যবহারকারী রয়েছে। সংস্থাটির মোট গ্রাহক সংখ্যা ৫০ কোটিতে পৌঁছে গেছে। বিশ্বজুড়ে টেলিকম কোম্পানি এবং সরকারগুলি আগামী বছরগুলিতে 6G চালুর জন্য প্রস্তুতি নিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে, জিও-র মতো ভারতীয় সংস্থাগুলির প্রযুক্তির বিশ্বব্যাপী বিস্তার ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’-র জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসাবে প্রমাণিত হতে পারে।
আরও পড়ুন: এই ব্যাঙ্কে আসতে চলেছে বিদেশি অর্থ! রকেটের গতি শেয়ারে
বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ এখনও 5G-র আওতার বাইরে রয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, ভারতের মতো দেশগুলিতে 5G দ্রুত প্রসারিত হয়েছে। তবে, বিশ্বের জনসংখ্যার একটি বড় অংশের জন্য হাই-স্পিড ইন্টারনেট পরিষেবা এখনও অধরাই রয়ে গেছে। রিপোর্ট অনুসারে, বিশ্বব্যাপী ৬.২ বিলিয়ন গ্রাহক 5G কভারেজের আওতায় পৌঁছেছেন। কিন্তু ১.৬ বিলিয়ন মানুষ এখনও এই নেটওয়ার্ক থেকে দূরে রয়েছেন। এমতাবস্থায়, ওইসব জায়গায় স্থিত টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জিও ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ টেলিকম প্রযুক্তিকে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: ব্রাজিল ম্যাচের আগে বিশ্বকাপ খেলা আরও এক দলের মুখোমুখি হবে ভারত? বড় ইঙ্গিত ফেডারেশনের
জিও কী কী প্রযুক্তি তৈরি করেছে: উল্লেখ্য যে, রিপোর্ট অনুসারে জানা গিয়েছে, জিও নিজস্ব প্রোপাইটরি টেকনোলজি স্ট্যাক তৈরি করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লাউড-নেটিভ রেডিও অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক (RAN), 5G কোর, OSS/BSS প্ল্যাটফর্ম, UBR বেসড ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস সলিউশন, AI-চালিত নেটওয়ার্ক অটোমেশন এবং ডিজিটাল সার্ভিসেস প্ল্যাটফর্ম। ইতিমধ্যেই একটি ড্রাফট প্রজেক্টসে জিও জানিয়েছে যে, ‘ভারতে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং সফলভাবে পরিচালনা করার সক্ষমতা আমাদেরকে বিশ্বব্যাপী সম্প্রসারণের জন্য একটি শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।’













