বাংলা হান্ট ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ্মী ভান্ডার প্রকল্প (Lakshmir Bhandar Scheme) শুরু করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ছাব্বিশ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই প্রকল্পকে হাতিয়ার বানিয়ে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল রাজ্যের বর্তমান শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। কিন্তু রাজ্যের শাসনভার নেওয়ার পর এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্প (Annapurna Yojana) দেওয়ার ক্ষেত্রে একগুচ্ছ শর্ত আরোপ করা হয়েছে যার ফলে রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ মিছিলে শামিল হয়েছেন বঞ্চিত মহিলারা।
অন্নপূর্ণা ভান্ডারে বঞ্চিতদের পাশে থাকার বার্তা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের
লক্ষ্মী ভান্ডার তথা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই এবার শাসক শিবির কে বিঁধলেন তৃণমূল সুপ্রিমম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে এই অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার নিয়ে রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পড়ার সমালোচনা করে বঞ্চিতদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন মমতা।
আজ ভিডিও বার্তায় তৃণমূল নেত্রী বললেন, ‘আমরা প্রায় দু কোটি ৪২ লক্ষ মা-বোনেদের লক্ষ্মীর ভান্ডার দিতাম। ইলেকশনের আগেও আমি মার্চ মাসেও দিয়েছি। কিন্তু তারপর ইলেকশনের পর থেকে দীর্ঘদিন যাবৎ তাদের প্রায় ৭৫% বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সংখ্যাটাই কতটা জল মেশানো আছে আর কতটা সত্য তথ্য আছে তার সম্পূর্ণ সার্ভে না করলে বিস্তারিত জানা যাবে না ।’
আরও পড়ুনঃ অন্নপূর্ণার আবেদন রিজেক্ট হলেও চিন্তা নেই! রয়েছে পুনরায় আবেদনের সুযোগ, কীভাবে জানুন
এরপরেই বিজেপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘তবে এটা তো সত্যি নির্বাচনের আগে যখন বিজেপির কর্মীরা, বিজেপির এজেন্সিরা যারা তাদের হয়ে টাকা দিয়ে এলাকায় এলাকায় গিয়ে মা-বোনেদের কাছে ফর্ম ফিল আপ করিয়েছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বিজেপি জিতলে, ক্ষমতায় আসলে তাদের অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার দেবেন। তখন কিন্তু কোন কারণ লেখা ছিল না,কোন শর্ত আরোপ করা ছিল না। যতদূর আমি দেখেছি মানুষকে প্রতারিত করা হয়েছিল। আমি বারবার বলতাম আজও বলছি আমাদের সরকার থাকলে লক্ষীর ভান্ডার আজীবন চলবে।’
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, আমরা লক্ষ্মীর ভান্ডার করেছিলাম মা-বোনেদের আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা আত্ম নির্ভরশীলতা এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য। আর যারা আজকে কতিপয় মহিলাকে, যাদেরকে দিচ্ছে না এমনকি বিজেপি পেলেও আমার কোন দুঃখ নেই। যে কেউ পাক আমার কোন আপত্তি নেই। কিন্তু আপনারা কি বলছেন যোগ্যতা নেই। কই সেদিন তো যোগ্যতা নিয়ে কোন কথা বলেননি? বিজেপি ঠিক করবে কার যোগ্যতা আছে? আর কার যোগ্যতা নেই?’
আরও পড়ুনঃ ২৬ অগাস্ট দেশের ১৪ টি রাজ্যে বন্ধ থাকবে ব্যাঙ্ক! দেখে নিন তালিকা
বিজেপিকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও বললেন, ‘অনেক রেকর্ড কিন্তু আমরাও করে রেখেছি, আমরা কিন্তু ছেড়ে কথা বলছি না। ১২ থেকে ১৪ হাজার মানুষের ওপর কেস দিতে ব্যস্ত আপনারা। কেন দেখছেন না, কেন মেয়েরা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার পাচ্ছে না, লক্ষ্মী ভান্ডার পাচ্ছে না?’
এখানেই শেষ নয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার তিন মাস দেবে একমাস দেবেন না। পুজো পর্যন্ত বড়জোর দেবেন। তাও কিছু সবাইকে নয়। দেখে দেখে দিচ্ছেন, চেখে চেখে দিচ্ছেন, বর্ণ দেখে দিচ্ছেন। ধর্মও দেখেছেন না। আপনারা হিন্দু ধর্ম ভালবাসেন না। আপনাদের হচ্ছে হিন্দুত্ব। হিন্দু ধর্ম অনেক বড় মাপের জিনিস, যেটা স্বামী বিবেকানন্দ বোঝেন, রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব বোঝেন। বাংলার সংস্কৃতি বোঝে। আপনারা বোঝেন না।’
সবশেষে তিনি বলেছেন, ‘লক্ষীর ভান্ডার ফিরিয়ে দিন। আর যারা অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন লক্ষীর ভান্ডার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন আমি তাদের বলব তাদের নাম, এড্রেস,বুথ,ঠিকানা কে কি করেন? কেন যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও পাচ্ছেন না? তার লিস্ট পাড়ায় পাড়ায় নিজেদের মধ্যে সংগ্রহ করুন আমরা আগামীদিনে অবশ্যই কোন সিস্টেম করবো সেই সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে আমরা এগুলোকে জোগাড় করবো। আপনাদের সাথে পুরোপুরি ভাবে আমি আছি। ছিলাম এবং থাকবো।’













