অন্নপূর্ণার টাকা পেয়ে অন্যরকম উদ্যোগ! কোদাল হাতে স্কুল পরিষ্কার করলেন পুরুলিয়ার দম্পতি

Published on:

Published on:

Purulia couple takes social initiative after receiving Annapurna Yojana's money
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনার ( Annapurna Yojana) টাকা পেয়ে সমাজের দায়িত্ব পালন করলেন পুরুলিয়ার এক মহিলা। অন্নপূর্ণা যোজনায় ৩ হাজার টাকা পাওয়ার পর সেই অর্থের কৃতজ্ঞতা থেকে গ্রামের মানুষের জন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন হুড়ার আমলাতোড়ার বাসিন্দা মমতা মাহাতো। এরপরই কোদাল হাতে গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নলকূপের চারপাশ পরিষ্কারের কাজে নেমে পড়েন তিনি। পাশে ছিলেন তাঁর স্বামী লেলিন মাহাতো।

অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকায় সামাজিক দায়িত্ব পালন মহিলার

ওই মহিলার বাড়িতেই রয়েছে তাঁদের ছোট গ্যারেজ। সেটির কাজ দেখাশোনা করেন লেলিন। সম্প্রতি মমতার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা জমা পড়ে। সরকারি সাহায্য পাওয়ার পরই তাঁর মনে হয়, নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাজের জন্যও কিছু করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই গত সোমবার সকালে আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পৌঁছন মমতা। হাতে ছিল কোদাল এবং আবর্জনা সংগ্রহের ধামা। স্কুলের নলকূপের আশপাশে বেশ কিছুদিন ধরে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা নিজের হাতেই পরিষ্কার করেন তিনি। নলকূপের জল পড়ুয়ারা ব্যবহার করে, তাই তার চারপাশ অপরিচ্ছন্ন থাকা ঠিক নয় বলেই মনে করেন মমতা।

উপভোক্তা মমতা মাহাতোর কথায়, “আমাদের মত দরিদ্র মানুষের দিকে মুখ তুলে তাকিয়েছে রাজ্য সরকার। তাই অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা আমি পেয়েছি। সরকার যেভাবে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাতে মনে হয়েছে সমাজের জন্য কিছু করা উচিত। তাই একদিনের শ্রম দিয়ে গ্রামের স্কুলের নলকূপের পাশে জমে থাকা আবর্জনা পরিষ্কার করলাম। ওই নলকূপের জল ব্যবহার করে পড়ুয়ারা। ফলে জায়গাটা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকাটা জরুরি। যে কোনও কারণেই দীর্ঘদিন তা করা হয়নি। আমি ওই কাজে শ্রম দিতে পেরে ভালো লাগছে।”

শুধু সাফাই অভিযানেই মমতা থেমে থাকেননি। স্বামীর সঙ্গে ‘একটি গাছ মায়ের নামে’ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি। ওই কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ করেন তাঁরা। স্ত্রীর এই উদ্যোগ দেখে তিনিও বসে থাকেননি। লেলিনও সাফাইয়ের কাজে হাত লাগান। মমতা ও লেলিনের এই উদ্যোগের কথা ছড়িয়ে পড়েছে সমাজমাধ্যমেও। তাঁদের কাজের প্রশংসা করেছে পুরুলিয়া জেলা প্রশাসন। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্কুল কর্তৃপক্ষও তাঁদের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

Purulia couple takes social initiative after receiving Annapurna Yojana's money

আরও পড়ুন : ১০ বছরের আগেই তুলছেন PF? কর্মীদের সাবধান করে বড় বার্তা দিল EPFO

আমলাতোড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কৃত্তিবাস মাহাতো, “নিয়মিত স্কুল চত্বরকে পরিষ্কার রাখা হয়। নলকূপটি নিচুতে থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলের সাথে আবর্জনা চলে আসে। অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তা সহ দম্পতির এই কাজ সত্যি প্রশংসনীয়।” গ্রামের বাসিন্দা তুষারকান্তি মাহাতো ও শ্রীমন্ত মাহাতোরাও মনে করছেন, মমতার মতো আরও উপভোক্তা যদি নিজেদের এলাকার সামাজিক কাজে এগিয়ে আসেন, তাহলে তার সুফল মিলবে বৃহত্তর সমাজে। সরকারি সহায়তার পাশাপাশি এমন উদ্যোগ গ্রামকে আরও পরিচ্ছন্ন ও সচেতন করে তুলতে পারে বলেই তাঁদের মত।