পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য বড় পদক্ষেপ নবান্নের, রাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করবে সরকার

Published on:

Published on:

West Bengal Government has major plans for migrant workers
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভিনরাজ্যে কাজের জন্য পাড়ি দেওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদের (Migrant Workers) এবার বাংলার মাটিতেই কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিতে উদ্যোগী রাজ্য সরকার (West bengal Government)। নবান্নের নির্দেশে, রাজ্যে চিহ্নিত ২২ লক্ষেরও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের প্রত্যেককে ‘গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’ বা GRGC-এর আওতায় আনতে হবে। শুধু কার্ড দেওয়াই নয়, যোগ্য পরিবারগুলির কাজের চাহিদা চিহ্নিত করে বছরে ১২৫ দিনের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যেও জেলাগুলিকে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের ফেরাতে উদ্যোগী সরকার(West bengal Government)

কাজের সন্ধানে যাতে শ্রমিকদের অন্য রাজ্যে যেতে না হয়, সেই উদ্দেশ্যেই স্থানীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থানের পরিসর বাড়াতে চাইছে প্রশাসন। একইসঙ্গে পরিযায়ী শ্রমিকদের ফের রাজ্যের গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যের ২২টি জেলা থেকে মোট ২২ লক্ষ ২৪ হাজার ৬০ জন পরিযায়ী শ্রমিককে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি শ্রমিক পরিবার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করবে জেলা প্রশাসন।

কারা ইতিমধ্যেই রোজগার গ্যারান্টি কার্ড পেয়েছেন, প্রথমে সেই তথ্য মিলিয়ে দেখা হবে। তালিকায় থাকা কোনও পরিবার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও কার্ড না পেয়ে থাকলে তাদের দ্রুত GRGC আওতায় আনতে বলা হয়েছে। কার্ড পাওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কারা কাজ চান, কতটা কাজের প্রয়োজন—সেই তথ্যও সংগ্রহ করতে হবে। সেই চাহিদার ভিত্তিতেই মজুরি-নির্ভর কাজের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।

‘G RAM G’-প্রকল্পের অধীনে যোগ্য গ্রামীণ পরিবারগুলিকে বছরে ১২৫ দিনের কাজ দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, চিহ্নিত শ্রমিকের সংখ্যার বিচারে সবচেয়ে উপরে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। এই জেলায় ৩ লক্ষ ৮৬ হাজার ১৯১ জন পরিযায়ী শ্রমিক রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে মালদা। সেখানে ২ লক্ষ ৮৬ হাজার ৩২৯ শ্রমিক রয়েছে।

West Bengal Government has major plans for migrant workers

আরও পড়ুন : অগাস্ট মাসে বেতন ও পেনশন অ্যাকাউন্টে ঢুকতে দেরি হবে? রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আপডেট

পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য রাজ্যের মধ্যেই কাজের সুযোগ বাড়াতে পারলে তাঁদের ভিনরাজ্য-নির্ভরতা কমানো সম্ভব হবে বলেই মনে করছে সরকার। তাই শুধু একটি সরকারি কার্ডের আওতায় আনা নয়, সেই কার্ডের মাধ্যমে বাস্তবে কাজ পাওয়ার পথও তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এখন জেলাগুলির কাজ কত দ্রুত এগোয়, তার উপরই নির্ভর করবে এই কর্মসূচির বাস্তব সাফল্য।