বাংলা হান্ট ডেস্ক : পুজোর ভিড় সামলাতে এবার অনেক আগে থেকেই কোমর বাঁধছে রেল। দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতার মণ্ডপগুলিতে ভিড় করেন শহর ও শহরতলির অসংখ্য মানুষ। তাঁদের বড় অংশের যাতায়াত নির্ভর করে শিয়ালদহ ডিভিশনের (Sealdah Division) লোকাল ট্রেনের উপর। ফলে পুজোর কয়েকটি দিন স্টেশনগুলিতে যে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়, তা সামলানোই এখন রেলের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
পুজোর জন্য কী পরিকল্পনা শিয়ালদহ ডিভিশনের (Sealdah Division)?
গত বছরের অভিজ্ঞতা থেকেই এবার প্রস্তুতিতে কোনও ফাঁক রাখতে চাইছে না শিয়ালদহ ডিভিশন। রেল সূত্রে খবর, গত দুর্গাপুজোয় একদিনে শিয়ালদহ স্টেশনে প্রায় ২১ লক্ষ যাত্রীর সমাগম হয়েছিল। এ বার সেই বিপুল চাপের কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন স্টেশনে পরিকাঠামোগত পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। গোটা ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকও হয়েছে। পুজোর সময়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় স্টেশনের শৌচাগারগুলিতে।
অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ সামলাতে তাই শিয়ালদহ, দমদম এবং বালিগঞ্জে আধুনিক শৌচাগার তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের প্রয়োজনীয় পরিষেবা যাতে সহজে পাওয়া যায়, সেই অনুযায়ী পরিকাঠামো গড়ে তোলার উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দমদম স্টেশনের ক্ষেত্রেও রয়েছে আলাদা পরিকল্পনা। যাত্রীদের হাঁটাচলার জায়গা বাড়ানোর জন্য ৪ ও ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মের কাছে থাকা বুকিং কাউন্টার অন্যত্র সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ওই অংশটি খালি করে আরও প্রশস্ত যাত্রী চলাচলের পরিসর তৈরি করাই লক্ষ্য।
টিকিট কাটার সময় ভিড় কমানো নিয়েও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে রেলের। পুজোর দিনগুলিতে শিয়ালদহ ও কলকাতা স্টেশনের প্রতিটি টিকিট কাউন্টার দিন-রাত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীসংখ্যা বেশি হলে অতিরিক্ত বুকিং ক্লার্কও দায়িত্বে থাকবেন। শুধু কাউন্টারের উপর নির্ভরতা কমাতে ২৪ ঘণ্টা অটোমেটিক টিকিট ভেন্ডিং মেশিন চালু রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। মেশিন ব্যবহারে যাত্রীদের সহায়তার জন্য কর্মী মোতায়েন করা হবে। ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।
শিয়ালদহ স্টেশনে মেল ও এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। বিপুল ভিড়ের মধ্যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানো এবং CCTV নজরদারি জোরদার করার প্রস্তুতি চলছে। পাশাপাশি হঠাৎ কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন : অন্নপূর্ণার টাকা পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রতারণা! চক্রের ফাঁদে গৃহবধূরা
শুধু শিয়ালদহ বা দমদম নয়, ব্যারাকপুর স্টেশনেও যাত্রী পরিষেবায় বদল আনা হচ্ছে। রানাঘাটের দিকে থাকা ফুট ওভার ব্রিজের কাছে নতুন টিকিট কাউন্টার ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে। ওই ফুট ওভার ব্রিজের নির্মাণকাজও শেষের পথে। দ্রুত সেটি যাত্রীদের ব্যবহারের জন্য খুলে দেওয়া হবে। পুজোর আগেই বিধাননগর সাবওয়ের মেরামতি ও উন্নয়নের কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুজোর কয়েকদিনের ভিড় শুরু হওয়ার আগেই স্টেশনগুলিকে প্রস্তুত করে ফেলতে চাইছে শিয়ালদহ ডিভিশন। পুজোয় সাধারণ মানুষের যাত্রা যতটা সম্ভব স্বচ্ছন্দ করার লক্ষ্য রেলের।













