বাংলাহান্ট ডেস্ক: বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া সরকারপ্রধানদের তালিকায় বরাবরই শীর্ষে সিঙ্গাপুরের (Singapore) প্রধানমন্ত্রী (Prime Minister)। এবার তাঁর বেতন আরও এক ধাক্কায় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওং (Lawrence Wong) জানিয়েছেন, রাজনৈতিক পদাধিকারীদের জন্য বেতন কাঠামোয় বড়সড় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর ফলে তাঁর বার্ষিক বেতনের মানদণ্ড ২.২ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার থেকে বেড়ে ৩.৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার হবে, ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ২৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ বৃদ্ধি হচ্ছে প্রায় ৬৪ শতাংশ। আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার কথা।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) মাইনে আরও বাড়ল!
তবে শুধু প্রধানমন্ত্রীর (Prime Minister) বেতনই নয়, সিঙ্গাপুরের অন্যান্য রাজনৈতিক পদেও বেতন কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হচ্ছে। উপপ্রধানমন্ত্রীর বেঞ্চমার্ক বেতন ১.৮৭ মিলিয়ন থেকে বেড়ে ৩.০৬ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার করার প্রস্তাব রয়েছে। ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের ক্ষেত্রে দায়িত্ব, পদমর্যাদা এবং সংশ্লিষ্ট দফতরের গুরুত্ব অনুযায়ী নতুন বেতন কাঠামোয় ১.৮০ মিলিয়ন থেকে ২.৮৮ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলারের পরিসর রাখা হয়েছে। তবে এই নতুন বেঞ্চমার্কের পুরো অর্থ প্রত্যেক মন্ত্রীকে সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হবে না। আপাতত রাজনৈতিক পদাধিকারীদের জন্য সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ পর্যন্ত এককালীন সমন্বয় করা হবে এবং পরবর্তী বেতনবৃদ্ধি কর্মদক্ষতা ও দায়িত্বের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
আরও পড়ুন: ৪৫তম প্রধান বিচারপতি পেল কলকাতা হাই কোর্ট, রবীন্দ্র ভি ঘুগের শপথগ্রহণে রাজ্যপাল-মুখ্যমন্ত্রী
সিঙ্গাপুরে রাজনৈতিক নেতাদের এত বেশি বেতন দেওয়ার বিষয়টি অবশ্য নতুন নয়। সরকারের যুক্তি, বেসরকারি ক্ষেত্রের উচ্চ বেতনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের রাজনীতিতে আনতে হলে তাঁদের উপযুক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে উচ্চ বেতন দুর্নীতির প্রবণতা কমাতেও সাহায্য করবে বলে দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে সিঙ্গাপুর সরকার। কিন্তু সাধারণ নাগরিকদের আয়ের তুলনায় রাজনৈতিক নেতাদের বেতনের বিপুল ফারাক নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। প্রায় ১৫ বছর পর এবার মন্ত্রীদের বেতন কাঠামোয় বড় পরিবর্তন আসায় সেই পুরনো প্রশ্নই ফের সামনে এসেছে—জনপ্রতিনিধিদের বেতন কতটা হওয়া উচিত এবং দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে কতটা পারিশ্রমিক প্রয়োজন।
নিজের বেতনবৃদ্ধি নিয়ে সাধারণ মানুষের সংবেদনশীলতার কথাও স্বীকার করেছেন লরেন্স ওং। সংসদে তিনি জানান, এই অর্থের পরিমাণ অধিকাংশ নাগরিকের আয়ের তুলনায় অনেক বেশি। তাই বিষয়টি নিয়ে মানুষ প্রশ্ন তুলবেন এবং খুঁটিয়ে দেখবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সিঙ্গাপুরের ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্ব ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সেই কারণেই নতুন বেতন কাঠামোকে তিনি দেশের স্বার্থের সঙ্গে যুক্ত করে দেখছেন। একইসঙ্গে নিজের বেতনবৃদ্ধি থেকে পাওয়া অতিরিক্ত অর্থ আগামী পাঁচ বছর উপযুক্ত জনকল্যাণমূলক কাজে দান করার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: কমিটি নিয়ে তুমুল টানাপোড়েন, তবু বাগবাজারে পুজো হবেই! জানালেন কমিটির সদস্য
নতুন সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে সিঙ্গাপুরের রাজনৈতিক নেতৃত্বের বেতন বিশ্বের সর্বোচ্চ স্তরেই থাকবে। তবে সরকারের বক্তব্য, এই বেতন সরাসরি কোনও ব্যক্তিগত সুবিধা বাড়ানোর জন্য নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদে দক্ষ নেতৃত্বকে রাজনীতিতে ধরে রাখার বৃহত্তর কাঠামোর অংশ। অন্যদিকে, জীবনযাত্রার খরচ এবং সাধারণ মানুষের আয়-ব্যয়ের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতাদের আয়ের ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। ফলে লরেন্স ওং নিজের বর্ধিত বেতন জনকল্যাণে দেওয়ার ঘোষণা করলেও, সিঙ্গাপুরে এই বেতন কাঠামো নিয়ে বিতর্ক যে এখানেই থামছে না, তা স্পষ্ট (Prime Minister)।













