পুজোর আগেই দলবদলের হাওয়া! একসঙ্গে ৫০ জন তৃণমূল ছেড়ে যোগ দিলেন কংগ্রেসে

Published on:

Published on:

Leaving Trinamool, they are joining the Congress
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে নিজেদের পুরনো জায়গা ফের দখলের চেষ্টায় কংগ্রেস (Congress)। তৃণমূল রাজনৈতিক শিবির থেকে নেতা-কর্মীদের দলে টানা, স্থানীয় স্তরে সংগঠন মজবুত করার পরিকল্পনা নিয়েই এগোচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেস। সাম্প্রতিক কয়েকটি যোগদান সেই তৎপরতারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।

তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে (Congress) দলবদল

যুব কংগ্রেসের মাটিয়ালি ব্লক সভাপতি কুরবান শেখ-সহ দলের একাধিক নেতার উপস্থিতিতে উত্তর ধূপঝোরা জহিরুল পাড়ায় তৃণমূলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে কংগ্রেসে এলেন ১৪টি পরিবারের প্রায় ৫০ জন ভোটার। স্থানীয়ভাবে আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে তাঁদের কংগ্রেসের পতাকা হাতে তুলে দেওয়া হয়। এই যোগদানকে কেবল দলবদলের ঘটনা হিসেবে দেখছে না কংগ্রেস। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের বক্তব্য, একসময় এই এলাকায় কংগ্রেসের যথেষ্ট প্রভাব ছিল।

পরবর্তীকালে রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে বহু পরিবার তৃণমূলের দিকে চলে যায়। এখন তাঁদের একাংশ আবার কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। উত্তরবঙ্গের অন্য প্রান্তেও সাম্প্রতিক সময়ে দলবদলের ছবি দেখা গিয়েছে। শিলিগুড়িতে একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের একাধিক তৃণমূল নেতা-কর্মী কংগ্রেসে যোগ দেন।

জলপাইগুড়ি জেলা যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি রামমোহন রায়, নকুল সোনার এবং পুলিন গোলদারের মতো নেতারাও কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। শুধু তৃণমূল নয়, সাম্প্রতিক সময়ে আম আদমি পার্টি এবং কয়েকটি সামাজিক ও স্থানীয় সংগঠনের সঙ্গেও যুক্ত থাকা ব্যক্তিদের কংগ্রেসে আসার খবর সামনে এসেছে। মালদা ও মুর্শিদাবাদকে বাদ দিলে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় কংগ্রেসকে নতুন করে সংগঠন সাজাতে হবে। সেই কারণেই জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

Leaving Trinamool, they are joining the Congress

আরও পড়ুন : ‘১৭ জন বিজেপিতে যাচ্ছি’, এনসিপিআই সাংসদদের নিয়ে বড় দাবি জগদীশের

এরই মধ্যে কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পুরসভায় বড়সড় রাজনৈতিক পরিবর্তন ঘটেছে। তৃণমূল ছেড়ে পুরসভার চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পাঁচ কাউন্সিলর কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় পুরসভার নিয়ন্ত্রণ কংগ্রেসের হাতে চলে আসে। তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক অসন্তোষকেই এই দলবদলের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, সাম্প্রতিক যোগদানকে কতটা স্থায়ী সাংগঠনিক শক্তিতে পরিণত করা যায়। উত্তরবঙ্গে কংগ্রেসের এই নতুন তৎপরতা শেষ পর্যন্ত ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাই এখন দেখার।