বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে,
চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ৫ মাসে অ্যাপল ভারত থেকে ১৩.২ বিলিয়ন ডলার মূল্যের (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১.২৬ লক্ষ কোটি টাকা) আইফোন রফতানি (iPhone Exports) করেছে। এটি গত বছরের তুলনায় ৪৭ শতাংশ বেশি। যা দেশের (India) মোট ইলেকট্রনিক্স শিপমেন্টের প্রায় অর্ধেক এবং স্মার্টফোন রফতানির ৮২ শতাংশ। মিডিয়া রিপোর্ট অনুসারে, গত বছরের তুলনায় এপ্রিল-অগাস্ট মাসে মোট স্মার্টফোন রফতানির প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র আইফোনের অবদানই ছিল ৯৮ শতাংশ। এদিকে, ইলেকট্রনিক্স রফতানি ৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ২৬.৬৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। TV9-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই তথ্য সম্পর্কে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন যে, অ্যাপল (Apple) ছাড়াও স্যামসাং এবং ডিক্সন (মোটোরোলা) স্মার্টফোন রফতানিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। পাশাপাশি কিছু থার্ড-পার্টি এক্সপোর্টও হয়েছে। যদিও, এই বিষয়ে অ্যাপল এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি।
ভারত থেকে ১.২৫ লক্ষ কোটির iPhone রফতানি (iPhone Exports) করল Apple:
স্মার্টফোন ভারতের বৃহত্তম রফতানি পণ্যে পরিণত হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, অ্যাপলের এই সাফল্যের কারণ হল সরকারের নতুন মোবাইল ফোন উৎপাদন প্রকল্প। যা এই বছরের এপ্রিলে চালু করা হয়েছে এবং বিদ্যমান প্রোডাকশন লিঙ্কড ইনসেন্টিভ (PLI) কর্মসূচির জায়গা নিয়েছে। একজন আধিকারিক ET-কে জানিয়েছেন যে স্মার্টফোন এখন ভারতের বৃহত্তম রফতানি পণ্যে পরিণত হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, এই ৫ মাসের সময়কালে রফতানির পরিমাণ অটোমোটিভ ডিজেল রফতানির চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি ছিল। ১৩.২ বিলিয়ন ডলারের শিপমেন্টের মাধ্যমে অটোমোটিভ ডিজেল দ্বিতীয় স্থানে ছিল। এই সেক্টর পর্যবেক্ষণকারী একজন অ্যানালিস্ট জানিয়েছেন যে, অ্যাপলের দৌলতে হওয়া তেজিভাবের কারণে ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ৫ মাসে মোবাইল ফোন রফতানি ১৫.৯৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। যা ২০২৪ অর্থবর্ষে ভারতের পুরো বছরের স্মার্টফোন রফতানিকে (১৫.৮ বিলিয়ন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে।

৫ টি কারখানায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করছেন: জানিয়ে রাখি যে, অ্যাপল ২০১৭ সালে আইফোন এসই-র মাধ্যমে ভারতে আইফোন অ্যাসেম্বল করা শুরু করে এবং ২০২১ সালে PLI প্রকল্পের অধীনে উৎপাদন আরও প্রসারিত করে। এর ভেন্ডররা বর্তমানে ৫ টি প্রধান কারখানা পরিচালনা করে। যার মধ্যে ২ টি ফক্সকন এবং ৩ টি টাটা ইলেকট্রনিক্স দ্বারা পরিচালিত।
আরও পড়ুন: নোয়েল টাটা কেন শেয়ার বাজারে টাটা সন্সের লিস্টিংয়ের বিরোধিতা করছেন? রয়েছে একাধিক কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিক থেকে আইফোন উৎপাদন এখন ভারতের শীর্ষ ৫ টি ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর এর মধ্যে অন্যতম। উৎপাদনের সর্বোচ্চ সময়ে, অ্যাপলের ৫ টি ভেন্ডরের কারখানায় এক লক্ষেরও বেশি মানুষ কাজ করেন। আইফোন তৈরির পাশাপাশি, অ্যাপলের ভেন্ডররা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ উৎপাদনও শুরু করেছে। এই যন্ত্রাংশগুলির মধ্যে রয়েছে এনক্লোজার, মেকানিক্স, হাউজিং, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড অ্যাসেম্বলি (PCBA), ফ্লেক্স PCBA, এবং কন্ডাক্টিভ গ্রাফাইট বাটন (যেমন ভলিউম ও পাওয়ার বাটন)।
আরও পড়ুন: কৃষকদের সুবিধার্থে মোদী সরকারের দুর্দান্ত উপহার! গম-সহ ৬ টি রবি শস্যের জন্য হল বড় ঘোষণা
বিপুল আইফোন রফতানি: উল্লেখ্য যে, অ্যাপল গত অর্থবর্ষের প্রথম ৫ মাসে ভারত থেকে ৯০০ কোটি ডলার মূল্যের আইফোন রফতানি করেছে। সংস্থাটি ভারতে তার আইফোন উৎপাদন এবং সাপ্লায়ার বেস ক্রমাগত প্রসারিত করছে। কারণ একটি প্রধান প্রোডাকশন হাব হিসাবে ভারতের ভূমিকা তাদের কৌশলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। সংস্থাটি এই মাসে বিক্রির প্রথম দিন থেকেই বিশ্ব বাজারে চিনা মডেলগুলির পাশাপাশি ভারতে তৈরি শীর্ষস্থানীয় আইফোন ১৮ প্রো এবং প্রো ম্যাক্স মডেল বিক্রি শুরু করেছে। আগে, ভারতে তৈরি আইফোনগুলি বিশ্ব বাজারে পৌঁছাতে কয়েক দিন থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগত। এখন, ভারতে বিক্রি হওয়া বেশিরভাগ আইফোন এখানেই তৈরি হয়।













