বাংলা হান্ট ডেস্ক: কৃষকদের জন্য এবার একটি বড় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৭-২৮-এর রবি মরশুমের জন্য গম-সহ ৬ টি ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তথা MSP (Minimum Support Price) বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। সরকারের (Government) মতে, এর উদ্দেশ্য হল কৃষকরা যেন তাঁদের উৎপাদিত ফসলের জন্য আরও ভালো ও ন্যায্য মূল্য পান তা নিশ্চিত করা। এই ৬ টি ফসলের (Robi Crops) মধ্যে রয়েছে গম, যব, ছোলা, মসুর ডাল, সরষে-রেপসিড এবং কুসুম ফুল (Safflower)।
গম-সহ ৬ টি রবি শস্যের জন্য হল বড় ঘোষণা (Minimum Support Price):
কোন ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কত বাড়ানো হয়েছে: জানিয়ে রাখি যে, সরকার কুসুম ফুলের এমএসপি সবচেয়ে বেশি বাড়িয়েছে। এর MSP প্রতি কুইন্টাল ৬৭৫ টাকা বাড়ানো হয়েছে। এরপরে, সরষে ও রেপসিডের
ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টাল প্রতি ৪১৩ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়াও, ডালের ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ৩৯০ টাকা, যব প্রতি কুইন্টালে ১৩৬ টাকা, ছোলা প্রতি কুইন্টালে ৮৩ টাকা এবং গমের ক্ষেত্রে প্রতি কুইন্টালে ২৫ টাকা MSP বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কেন এই সিদ্ধান্ত: উল্লেখ্য যে, ইতিমধ্যেই সরকার জানিয়েছে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের এই বৃদ্ধি ২০১৮-১৯ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ীই করা হয়েছে। এই নিয়মের অধীনে, কৃষকদের তাঁদের ফসলের গড় খরচের অন্তত দেড় গুণ ন্যূনতম সহায়ক মূল্য দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ফসল ফলানোর খরচ বাদ দেওয়ার পর কৃষকরা গমে প্রায় ১০৬ শতাংশ, সরষে ও রেপসিডে ৯৬ শতাংশ, মুসুর ডালে ৯২ শতাংশ, ছোলায় ৫৯ শতাংশ যবে ৫৮ শতাংশ এবং কুসুম ফুলে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত লাভ পেতে পারেন।
সরকারি গম সংগ্রহ কী পরিমাণে বেড়েছে: সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে সরকার প্রায় ৩,৭১৫ লক্ষ মেট্রিক টন (LMT) গম ক্রয় করেছে। পূর্বে, ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ পর্যন্ত ১০ বছরের সময়কালে, সরকারি গম সংগ্রহের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,২৫৪ লক্ষ মেট্রিক টন। এর অর্থ হলো, পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় সরকারি গম সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: আগরকরের পরে টিম ইন্ডিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন চিফ সিলেক্টর হলেন প্রজ্ঞান ওঝা! কী পরিকল্পনা BCCI-র?
৬ টি রবি শস্যের সরকারি ক্রয়: গম-সহ ৬ টি প্রধান রবি শস্যের দিকে তাকালে, ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে মোট সরকারি ক্রয়ের পরিমাণ ছিল প্রায় ২,৩০২ লক্ষ মেট্রিক টন। অপরদিকে, ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সময়কালে এটি বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৩,৯২১ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে।
MSP-র মাধ্যমে কৃষকদের কত টাকা দেওয়া হয়েছে: গম চাষিদের প্রাপ্ত MSP-র পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে MSP-র অধীনে গম চাষিদের প্রায় ৭.৩১ লক্ষ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে, ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে এই অর্থের পরিমাণ ছিল প্রায় ২.৫৬ লক্ষ কোটি টাকা। একইভাবে, ৬ টি প্রধান রবি শস্যের জন্য কৃষকদের প্রদত্ত মোট ন্যূনতম সহায়ক মূল্য ২০০৪-০৫ থেকে ২০১৩-১৪ সালের মধ্যে প্রায় ২.৬৫ লক্ষ কোটি টাকা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৫-২৬ সালের মধ্যে ৮.৩৬ লক্ষ কোটি টাকা হয়েছে। সরকারের মতে, সামগ্রিকভাবে এই বৃদ্ধি কৃষকদের তাঁদের ফসলের ভালো দাম পেতে সাহায্য করবে এবং ডাল ও তৈলবীজের মতো ফসলের চাষকে উৎসাহিত করবে।
আরও পড়ুন: ১ অক্টোবর থেকে WhatsApp-এ মেসেজ পাঠাতে খরচ হবে ১৪ পয়সা! কাদের জন্য লাগু নিয়ম?
ডাল ও তৈলবীজ চাষেও উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে: জানিয়ে রাখি যে, গত কয়েক বছর ধরে সরকার কৃষকদের গম ও ধানের মতো খাদ্যশস্যের ওপর শুধু নির্ভর না করে ডাল ও তৈলবীজ চাষ করতে উৎসাহিত করে আসছে। এই লক্ষ্যে, এই ফসলগুলির ন্যূনতম সহায়ক মূল্য তুলনামূলকভাবে বেশি রাখা হচ্ছে। সরকার আশা করছে, এতে কৃষকরা অন্যান্য ফসল চাষে উৎসাহিত হবেন।













