বাংলা হান্ট ডেস্ক: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI-র ৩ দিনব্যাপী MPC বৈঠকের ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলি ঘোষণা করেছেন। যা ঋণগ্রহীতাদের চাপ বাড়িয়েছে। মূলত, RBI রেপো রেট (Repo Rate Hike) ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করেছে। এর আগে, এটি প্রায় ৪ বছর ধরে ৫.২৫ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কেরএই সিদ্ধান্তের ফলে হোম লোন বা কার লোন নেওয়া গ্রাহকদের EMI-এর বোঝা বাড়তে পারে। জানিয়ে রাখি যে, RBI (Reserve Bank of India) গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা (Sanjay Malhotra) পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত এবং অপরিশোধিত তেলের দামের তীব্র বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তাঁর ভাষণ শুরু করেন। যেখানে তিনি ক্রমবর্ধমান জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের দামসহ বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি রেপো রেট সংক্রান্ত MPC-র সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে জানান যে, ৩ দিনব্যাপী বৈঠকের আলোচনার পর রেপো রেট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং শেয়ার বাজারে অনিশ্চয়তার আবহ অব্যাহত রয়েছে।
৪ বছরে এই প্রথম রেপো রেট (Repo Rate Hike) বাড়াল RBI:
এদিকে, রেপো রেট বৃদ্ধির প্রসঙ্গে RBI বলেছে, বৈঠকে রেপো রেট বাড়িয়ে ৫.৫০ শতাংশ করার পাশাপাশি SDF রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৫.২৫ শতাংশ করা হয়েছে এবং MSF রেটও একইভাবে বাড়িয়ে ৫.৭৫% করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এটি ছিল ২০২৬ সালে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের চতুর্থ MPC বৈঠক। যেখানে এপ্রিল, জুন এবং অগাস্টে সম্পন্ন হওয়া পূর্ববর্তী বৈঠকগুলিতে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল। এদিকে, বিশেষজ্ঞরা অপরিশোধিত তেলের ক্রমবর্ধমান মূল্য এবং মুদ্রাস্ফীতির কথা উল্লেখ করে রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বৃদ্ধির প্রত্যাশা আগেই করছিলেন। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

GDP-র প্রসঙ্গে গভর্নর জানিয়েছেন, অর্থনীতি শক্তিশালী থাকবে। রেপো রেট এবং মুদ্রাস্ফীতির হারের পাশাপাশি RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা ভারতের GDP গ্রোথ নিয়েও তাঁর পূর্বাভাস জানিয়েছেন। কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য তার প্রকৃত GDP গ্রোথের পূর্বাভাস ৬.৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.১ শতাংশ করেছে। দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য এটি ৬.৪ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭.২ শতাংশ এবং তৃতীয় ত্রৈমাসিকের জন্য ৬.৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬.৯ শতাংশ করা হয়েছে। তবে , চতুর্থ ত্রৈমাসিকের জ ন্য এটি ৬.৮ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: আচমকাই কেঁপে উঠল রাজধানী দিল্লি! উত্তর ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে ভূকম্পন, তীব্রতা কত?
জানিয়ে রাখি যে, রেপো রেট ২৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়ানোর পাশাপাশি, RBI তার মনিটারি পলিসির অবস্থানও সংশোধন করেছে এবং এটিকে ‘নিউট্রাল’ থেকে ‘ক্যালিব্রেটেড টাইটেনিং’-র দিকে সরিয়ে নিয়েছে। এর অর্থ হল, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সার্বিক লক্ষ্য এখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। এর মানে হল, স্বল্প মেয়াদে রেপো রেট কমানোর সম্ভাবনা খুবই কম। উল্লেখ্য যে, রেপো রেট হল সেই সুদের হার, যে হারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া তথা RBI স্বল্প মেয়াদের জন্য ব্যাঙ্কগুলিকে ঋণ প্রদান করে। ব্যাঙ্কগুলি এই হারের ওপর ভিত্তি করে তাদের গ্রাহকদের ঋণের সুদের হার নির্ধারণ করে। RBI MPC প্রতি ২ মাস অন্তর ৩ দিনের একটি বৈঠক করে। রেপো রেটের পরিবর্তন ঋণগ্রহীতাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন: ক্ষুদ্র সংস্থাগুলির জন্য বড় সিদ্ধান্ত! ১০,০০০ কোটির SME গ্রোথ ফান্ডের অনুমোদন কেন্দ্রের
এর কারণ হল, রেপো রেট বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির জন্য RBI থেকে ঋণ নেওয়া আরও ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। ফলে, ব্যাঙ্কগুলি এই বোঝা তাদের গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেবে অথবা ঋণের পরিমাণ আরও বাড়িয়ে দেবে বলে অনুমান করা হয়। একইসঙ্গে, যখন রেপো রেট কমে যায়, তখন ঋণ সস্তা হয়ে যায় এবং EMI-এর বোঝা হ্রাস পায়।
এদিকে, রেপো রেট বৃদ্ধির পাশাপাশি, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ২০২৭ অর্থবর্ষের জন্য তার কোর মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৪.৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪.৪ শতাংশ করেছে। এছাড়াও, কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বেসড মুদ্রাস্ফীতির পূর্বাভাস ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫.২ শতাংশ করা হয়েছে। RBI গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা এর কারণ হিসাবে দুর্বল বর্ষা এবং রবি মৌসুমে এল নিনোর প্রভাবকে উল্লেখ করেছেন।













