বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সামনে দুর্গাপুজো। আর পুজোর আবহ কাটলেই রাজ্যে পুরভোট (Municipal Corporation Election)। কলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের সাতটি পুরনিগমে আগামী ২৮ নভেম্বর ভোট করার প্রস্তাব দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। ২ ডিসেম্বর ভোটের গণনা করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। তবে এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। নবান্নের অনুমোদন মিললেই পুরভোটের দিনক্ষণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
পুজোর পরেই সাত পুরনিগমে ভোটের (Municipal Corporation Election) প্রস্তুতি
কলকাতা, হাওড়া, বিধাননগর, শিলিগুড়ি, আসানসোল, দুর্গাপুর এবং চন্দননগর, এই সাত পুরনিগমে ভোট (Municipal Corporation Election) করানোর প্রস্তুতি শুরু করেছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন। বুধবার নবান্নের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর সরকারের কাছে ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর ভোট এবং ২ ডিসেম্বর গণনা হতে পারে। নবান্ন থেকে সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করবে কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, দুর্গাপুজো মিটে যাওয়ার পর সরকারের সঙ্গে চূড়ান্ত আলোচনা করে ভোটের দিন প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হতে পারে।
ভোটের (Municipal Corporation Election) প্রস্তুতি নিয়ে বুধবার একাধিক বৈঠক করেন রাজ্য নির্বাচন কমিশনার কৃষ্ণ গুপ্তা। প্রথমে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজির সঙ্গে বৈঠক হয়। সেখানে মূলত ভোট পরিচালনার পরিকাঠামো এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। প্রতিটি বুথে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা এবং ভোটের সময় সামগ্রিক নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে রাজ্য পুলিশের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে কমিশন।
এরপর সংশ্লিষ্ট জেলাগুলির জেলাশাসকদের সঙ্গেও আলাদা করে বৈঠক করেন কমিশনার। পুরভোটের (Municipal Corporation Election) প্রস্তুতি কতটা এগিয়েছে এবং প্রতিটি পুরনিগমের প্রশাসনিক পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেওয়া হয়। নির্বাচন যাতে অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং হিংসামুক্ত হয়, সেই বিষয়েও জেলাশাসকদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনও ধরনের অশান্তি যাতে না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নিচুতলা পর্যন্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতা ও হাওড়া-সহ সাত পুরনিগমের প্রাথমিক নির্বাচনী প্রস্তুতি প্রায় শেষের দিকে। কলকাতা ও হাওড়ার ওয়ার্ড পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশনের কাজ ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। ওয়ার্ডভিত্তিক সংরক্ষণের তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত। ফলে ভোট ঘোষণা করার ক্ষেত্রে বড় কোনও প্রযুক্তিগত বাধা এখন নেই।
এই সাত পুরনিগমের মধ্যে কলকাতা এবং হাওড়ার দিকে বিশেষ নজর রয়েছে কমিশনের। হাওড়া পুরনিগমে প্রায় আট বছর ধরে কোনও নির্বাচিত পুরবোর্ড নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসকের মাধ্যমে পুরসভার কাজ চলছে। অন্যদিকে নির্বাচিত বোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কলকাতা পুরনিগমও বর্তমানে প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তাই এই দীর্ঘ পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্বাচিত পুরবোর্ড গঠনের প্রস্তুতি চলছে।
পুরভোটের (Municipal Corporation Election) এই তৎপরতার সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণারও যোগ রয়েছে। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, আগামী ৭ ডিসেম্বরের মধ্যে কলকাতা পুরনিগমে নির্বাচিত পুরবোর্ড দায়িত্ব নেবে। এই সময়সীমার কথা মাথায় রেখেই নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভোট করার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে খবর। ২৮ নভেম্বর ভোট হলে ২ ডিসেম্বরের মধ্যে গণনা শেষ করা সম্ভব হবে। এরপর ৭ ডিসেম্বরের নির্দিষ্ট সময়সীমার আগেই নতুন পুরবোর্ড গঠনের সুযোগ থাকবে।

আরও পড়ুনঃ ‘আগে বুঝতে পারিনি’! মহিলাভাতার খরচ নিয়ে চিন্তা, বড় সিদ্ধান্ত নিলেন মুখ্যমন্ত্রী
এখন শুধু নবান্নের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষা। সরকারের সবুজ সংকেত মিললেই পুজোর পর সাত পুরনিগমের নির্বাচনী প্রক্রিয়া (Municipal Corporation Election) আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।













