বাংলা হান্ট ডেস্কঃ বড়দের পাশাপাশি ছোটদের ইন্টারনেট ব্যবহারকে (Child Internet Usage) এবার মৌলিক অধিকার বলে ঘোষণা করল দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। বিচারপতি জে বি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি কে বিনোদ চন্দ্রনের সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চ এদিন একটি মামলার পর্যবেক্ষণে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছে।
ইন্টারনেট ব্যবহার শিশুদের মৌলিক অধিকার জানাল সুপ্রিম কোর্ট
ইন্টারনেট ব্যবহার নিয়ে শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে এদিন আদালতের তরফে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, প্রয়োজনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলির জন্য “চাইল্ড মোড” চালু হোক। তবে সেখানে অভিভাবকের সম্মতি, নির্দেশনা এবং তত্ত্বাবধানের উপর ব্যাপক জোর দিতে হবে।
আদালতের তরফে এই মামলার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ‘সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদের সাথে ১৯(১)(ক) অনুচ্ছেদ মিলিয়ে দেখলে বোঝা যায়, ইন্টারনেট ব্যবহার ও তাতে প্রবেশাধিকার প্রত্যেক ব্যক্তির মৌলিক অধিকার। তাই একথা বলতে কোনো বাধা নেই যে শিশুরাও তাদের বয়স নির্বিশেষে, এই একই অধিকারের দাবী রাখে। তাই তাদের এই অধিকার থেকে সম্পূর্ণভাবে বঞ্চিত করাটা অযৌক্তিক’।
আরও পড়ুনঃ চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, ‘কাউকে ছাড়ার প্রশ্ন নেই’, দেখুন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
একইসাথে বলা হয়েছে, ‘যে সমস্ত শিশুদের বয়স খুবই কম, এখনও পর্যন্ততাদের মতামত প্রকাশ করার মতো বাকস্বাধীনতা নেই ঠিকই। তবে তার সাথে এটাও ঠিক যে শিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের স্বাধীনতা কখনই একে অপরের পরিপন্থী নয়।’
ইন্টারনেট ব্যবহার শিশুদের মৌলিক অধিকার বলে দাবি করা হলেও এদিন সর্বোচ্চ আদালতের তরফে একথাও স্বীকার করা হয়েছে যে ইন্টারনেট শিশুদের জন্য মোটেই নিরাপদ নয়। কিন্তু একই সাথে সেদিন সর্বোচ্চ আদালত স্পষ্ট করে দিয়েছে যে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীদের বেশ কিছু ক্ষতিকারক উপাদান শনাক্ত এবং অপসারণর দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। যদি এই কাজে তারা ব্যর্থ হন তাহলে তাদের ব্যর্থতার কারণে ইন্টারনেট ব্যবহার থেকে শিশুদের দূরে রাখাটা হবে, ভুক্তভোগীকে সমস্যার সাথে গুলিয়ে ফেলার সমান।
জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন অ্যালায়েন্স (জেসিআরএ) ও অন্যান্য বনাম এস হরিশ ও অন্যান্য মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এদিন বিচারপতিদের বেঞ্চ এমনটাই পর্যবেক্ষণ করেছে। প্রসঙ্গত, জাস্ট রাইটস ফর চিলড্রেন হলো ভারতের বৃহত্তম নাগরিক সমাজ নেটওয়ার্ক, যার মধ্যে ৩০০টিরও বেশি এনজিও শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন, শিশু পাচার এবং বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে কাজ করে।














