Durga Puja 2026 Live Updates

আরও হালকা, আরও নিখুঁত, রেডারে ধরা পড়াও কঠিন! ব্রহ্মস-এনজি নিয়ে বড় পরিকল্পনা ভারতের

Published on:

Published on:

India has big plans for BrahMos-NG in future.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আর ১,৫০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যও কি আসবে ব্রহ্মসের (BrahMos) নিশানায়? ভারতের (India) অন্যতম শক্তিশালী সুপারসনিক ক্রুজ মিসাইল ব্রহ্মসের সক্ষমতা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে শুরু হয়েছে জোরদার আলোচনা। আগামী দিনে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়িয়ে ১,৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের সিইও ও ম্যানেজিং ডিরেক্টর জয়তীর্থ জোশী (Jaytirtha Joshi)। যদিও এই মুহূর্তে বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, তবে ভবিষ্যতে ব্রহ্মসকে আরও শক্তিশালী করে তোলার জন্য একাধিক পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে। পাশাপাশি, ক্ষেপণাস্ত্রটির পরবর্তী প্রজন্মের সংস্করণ ব্রহ্মস-এনজি তৈরির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এই নতুন সংস্করণ আগের তুলনায় হালকা হবে এবং রাডারে শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমানোর দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।

ব্রহ্মস (BrahMos)-এনজি নিয়ে বড় পরিকল্পনা ভারতের

ব্রহ্মস (BrahMos)-এনজি তৈরির ক্ষেত্রে ২০২৭ অথবা ২০২৮ সালের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ প্রস্তুত করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। সংবাদসংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়তীর্থ জোশী জানিয়েছেন, নতুন প্রজন্মের এই ক্ষেপণাস্ত্রে দেশীয় প্রযুক্তি ও উপাদানের ব্যবহার আরও বাড়ানো হবে। সেই সঙ্গে যুক্ত হবে একাধিক নতুন প্রযুক্তি এবং উন্নত উপকরণ। ফলে গোটা ব্যবস্থাটিকে কার্যকর করে তুলতে গবেষণা ও উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দিতে হবে। তাঁর বক্তব্য, নতুন প্রযুক্তি সংযুক্ত করার কাজ যথেষ্ট জটিল। তাই নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রোটোটাইপ তৈরি করতে পরিকল্পিতভাবে এগোতে হবে। তবে ২০২৭-২৮ সালের মধ্যে প্রথম প্রোটোটাইপ তৈরির লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হবে বলেই আশা করছে ব্রহ্মস অ্যারোস্পেস।

আরও পড়ুন: এক টিকিটেই বাস, ট্রেন, মেট্রো! লন্ডনের এই ব্যবস্থা বাংলায় চালুর ইচ্ছা অগ্নিমিত্রার

শুধু দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করাই নয়, আন্তর্জাতিক বাজারেও ব্রহ্মস-এনজির চাহিদা তৈরির সম্ভাবনা দেখছে সংস্থা। জয়তীর্থ জোশীর দাবি, ইতিমধ্যেই একাধিক দেশ এই নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। বিশেষ করে যেসব দেশের বায়ুসেনায় সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান রয়েছে, তাদের মধ্যে আকাশপথ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতি আগ্রহ দেখা গিয়েছে। পাশাপাশি, ব্রহ্মস-এনজি ব্যবস্থার প্রতিও আগ্রহ দেখিয়েছে কয়েকটি দেশ। প্রাথমিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রকে আকাশপথে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। আগ্রহী দেশগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ব্রহ্মস অ্যারোস্পেসের সিইও। তবে সম্ভাব্য ক্রেতাদের সঙ্গে কথাবার্তা চললেও, ভবিষ্যতে কতগুলি দেশ এই ক্ষেপণাস্ত্র কিনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

অন্যদিকে, বর্তমানে ব্রহ্মসের পাল্লা আরও বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এই ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা ছিল ২৯০ কিলোমিটার। তবে পরবর্তী সময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সেই দূরত্ব অতিক্রম করার নজির তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়তীর্থ জোশী। তাঁর বক্তব্য, ক্ষেপণাস্ত্রটির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ধাপে ধাপে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতে ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লায় পৌঁছনোর সম্ভাবনা নিয়েও ভাবনাচিন্তা চলছে। যদিও এই লক্ষ্যে পৌঁছতে ঠিক কতটা সময় লাগবে, কিংবা কোন পর্যায়ে গিয়ে নতুন সক্ষমতা যুক্ত করা সম্ভব হবে, সে বিষয়ে এখনও নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার ব্রহ্মস আপাতত ভবিষ্যতের পরিকল্পনা হিসেবেই রয়েছে।

India has big plans for BrahMos-NG in future.

আরও পড়ুন: দিঘা-পুরী যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে বাতিল করুন, ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’, কবে কোথায় বৃষ্টি?

সব মিলিয়ে, ব্রহ্মসকে (BrahMos) আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তোলার ক্ষেত্রে একাধিক দিকে এগোতে চাইছে ভারত। একদিকে যেমন কম ওজনের, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্রহ্মস-এনজি তৈরির প্রস্তুতি চলছে, অন্যদিকে তেমনই বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোর সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দেশীয় উপাদানের ব্যবহার বৃদ্ধি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক স্তরে সম্ভাব্য চাহিদা—এই তিনটি বিষয় আগামী দিনে ব্রহ্মস প্রকল্পের অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। তবে ১,৫০০ কিলোমিটার পাল্লার পরিকল্পনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকায়, তা বাস্তবায়িত হতে আরও গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হবে। ফলে ব্রহ্মসের ভবিষ্যৎ সংস্করণ কতটা উন্নত হয়ে উঠবে, তা নির্ভর করছে চলতি গবেষণা এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণের উপর।