চিপ-সহ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশে ‘আত্মনির্ভর’ হবে ভারত! ‘সেমিকন 2.0’ পোর্টালের সূচনা করলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব

Published on:

Published on:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: দেশের (India) সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিক্স শিল্পকে আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। শুক্রবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রাম’-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের অধীনে ‘সেমিকন ২.০’ (Semicon 2.0) ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন পোর্টাল চালু করলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব (Ashwini Vaishnaw)। একই সঙ্গে ইলেকট্রনিক্স কম্পোনেন্টস ম্যানুফ্যাকচারিং স্কিম (ECMS)-এর আওতায় নতুন করে ১২টি সংস্থার আবেদন অনুমোদনের কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এই প্রকল্পগুলিতে প্রায় ৭,৫০৩ কোটি টাকা বিনিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। এর ফলে ৩৯,০৪৫ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৭,১২৭টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

আত্মনির্ভর ভারতকে এগিয়ে নিয়ে যেতে সূচনা ‘সেমিকন 2.0’ (Semicon 2.0) পোর্টালের

ভারতকে আন্তর্জাতিক সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের অধীনে ১,২৭,৫০০ কোটি টাকার আর্থিক বরাদ্দ-সহ সেমিকন ২.০ (Semicon  2.0) অনুমোদন করেছে। এই পর্যায়ে চিপের নকশা, উন্নত যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, নতুন ফ্যাব ইউনিট, গবেষণা এবং দক্ষ কর্মী তৈরির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। নতুন পোর্টালের মাধ্যমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্তম্ভের প্রকল্পগুলিতে আবেদন করা যাবে।

আরও পড়ুন: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে খুনের ছক! হোয়াইট হাউসের সামনে গ্রেফতার ২৬ বছরের সশস্ত্র যুবক

অশ্বিনী বৈষ্ণব জানিয়েছেন, ভারতের ইলেকট্রনিক্স উৎপাদন এখন আর শুধু যন্ত্রাংশ জোড়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ব্যাটারি সেল, কপার ফয়েল, প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ তৈরিতেও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ছে। নতুন অনুমোদন পাওয়া ১২টি প্রকল্প গুজরাট, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, তামিলনাড়ু ও উত্তরপ্রদেশে ছড়িয়ে রয়েছে। মাল্টি-লেয়ার পিসিবি, রিলে, হিট সিঙ্ক, বিশেষ সিরামিক, কপার ফয়েল, ব্যাটারির অ্যানোড-ক্যাথোড উপকরণ-সহ বিভিন্ন পণ্য উৎপাদন করা হবে সেখানে।

এদিকে, সেমিকন ইন্ডিয়া প্রকল্পের প্রথম পর্যায়েও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ছয়টি রাজ্যে ১২টি প্রকল্পে ১.৬৪ লক্ষ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ অনুমোদিত হয়েছিল। ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তার মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পে বাণিজ্যিক উৎপাদনও শুরু হয়েছে। পাশাপাশি, চিপ তৈরির প্রযুক্তি শেখাতে প্রায় ৭০ হাজার পড়ুয়াকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। ১০৫টি স্টার্টআপকে ইডিএ টুলস ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের দাবি, এই উদ্যোগের ফলে দেশে সেমিকন্ডাক্টর গবেষণা ও উদ্ভাবনের পরিসর বাড়ছে।

'Semicon 2.0' portal launched to advance a self-reliant India

আরও পড়ুন: অভিষেককে কেন রক্ষাকবচ? হাই কোর্টের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেল রাজ্য সরকার

সব মিলিয়ে, ECMS-এর অধীনে এখনও পর্যন্ত ১৬টি রাজ্যে ৩৪ ধরনের পণ্য উৎপাদনের জন্য ১১৮টি আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। এর জেরে প্রায় ৭৭,০৫১ কোটি টাকা বিনিয়োগ, ৫,৭৩,১৪৬ কোটি টাকার উৎপাদন এবং ৮১,৭৫৫টি প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রের লক্ষ্য, বিদেশ থেকে ইলেকট্রনিক্স যন্ত্রাংশ আমদানির উপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশেই একটি পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন পরিকাঠামো গড়ে তোলা। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর সেই লক্ষ্য পূরণে সেমিকন ২.০ (Semicon 2.0) কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।