বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) নির্দেশে একসাথে বাতিল হয়েছে ২৬ হাজার চাকরি। যোগ্য-অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করতে না পারায় অযোগ্যদের সাথেই চাকরি গিয়েছে যোগ্য প্রার্থীদেরও। গতকাল এই সুপ্রিম নির্দেশ সামনে আসতেই মাথায় কার্যত আকাশ ভেঙে পড়েছে তাঁদের।প্রসঙ্গত একেক জনের চাকরির সাথেই জড়িয়ে রয়েছে হাজার পরিবারের ভবিষ্যৎ। যা কলমের এক আঁচড়ে ডুবে গিয়েছে অনিশ্চিত অন্ধকারে। চাকরি হারানোর যন্ত্রণার মাঝেই আসতে শুরু করেছে পাওনাদারদের চাপ। এমন পরিস্থিতিতে মানসিক যন্ত্রণায় সহ্য করতে না পেরে চরম সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিলেন ক্যানিংয়ের একজন শিক্ষিকা।
‘সুপ্রিম’ (Supreme Court) নির্দেশে চাকরি যেতেই আত্মহত্যার চেষ্টা শিক্ষিকার
জানা যাচ্ছে,সঠিক সময় হাসপাতলে নিয়ে যাওয়ায় প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন এই শিক্ষিকা। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। সুসাইড নোটে তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন তাঁর কষ্টের কথা। ক্ষমা চেয়ে নিয়েছেন প্রেমিক এবং মা-বাবার কাছে। আদতে মেদিনীপুরের বাসিন্দা রুম্পা সিং ক্যানিংয়ের রায়বাঘিনি হাই স্কুলে ইতিহাসের শিক্ষিকা। ২০১৬ সালের প্যানেলে তাঁর নাম ছিল। গতকাল সেই প্যানেলটাই পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত (Supreme Court)। আগে থেকেই তাঁর জীবনে অনেক সমস্যা ছিল। প্রথম স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর নিজেকে আবার নতুন করে সামলাতে শুরু করেছিলেন তিনি।
জানা যাচ্ছে ডিভোর্সের পর ওই শিক্ষিকা ক্যানিংয়ের নবপল্লি এলাকায় একাই ভাড়া থাকতেন। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিতেই মন ভেঙে যায় তাঁর। সেইসাথে আসতে থাকে পাওনাদারদের চাপ। সেই মানসিক যন্ত্রণার কথা জানিয়ে চিঠিতে তিনি লিখেছেন চাকরি বাতিল হতেই পাওনাদাররা তাঁর বাড়িতে হামলা করেন। অভিযোগ তাঁরা নাকি তখনই পাওনা ফেরতের দাবি জানান। এই পরিস্থিতে আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন রুম্পাদেবী ।
আরও পড়ুন: ‘যোগ্য-অযোগ্য আলাদা করা সম্ভব’, ‘সাড়ে ৫,৬ হাজার..,’ মমতাকে চ্যালেঞ্জ প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিতের
বাড়ির মালিকরা পরে আন্দাজ করেছিলেন কিছু সমস্যা হয়েছে। তারপর তাঁরা দেখেন ঘরের মধ্যেই অচৈতন্য অবস্থায় পড়ে আছেন রুম্পা। তখনই তড়িঘড়ি তাঁকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যানিং হাসপাতালে। এখন সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
সুইসাইড নোটে কী লিখেছেন তিনি?
চিঠির শুরুতে নিজের পরিচয় দিয়ে রুম্পাদেবী লিখেছেন, প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তিনি সবকিছু শূন্য থেকে শুরু করেছিলেন। পরে আবার নতুন মানুষ আসে তাঁর জীবনে। তাই নিজেকে সম্পূর্ণ নিজের মতো করে গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন তিনি। মা-বাবা, প্রেমিককে নিয়ে দিন ভালো কাটলেও মাথায় ছিল দেনার বোঝা। তাই সবমিলিয়ে প্রবল মানসিক যন্ত্রণার মধ্যেই আত্মহত্যা করতে যান তিনি। চিঠিতে লিখেছিলেন কয়েকজনের নাম ও ফোননম্বর।