বাংলা হান্ট ডেস্ক : অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) আর্থিক সহায়তা নিয়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে অসন্তোষের পারদ চড়ছেই। আবেদন জমা দেওয়ার পরও বহু পরিবার এখনও সরকারি অনুদান না পাওয়ার অভিযোগ তুলছে। কোথাও পুরসভার সামনে বিক্ষোভ, কোথাও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ। এই আবহে এবার বাঁকুড়া থেকে সামনে এল নতুন বিতর্ক। সরাসরি বিডিও অফিসে গিয়ে সরকারি প্রকল্পের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুললেন শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউড়ি।
অন্নপূর্ণা যোজনা (Annapurna Yojana) নিয়ে অভিযোগ চন্দনা বাউড়ির
অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম নথিভুক্ত করতে অনেক আবেদনকারীকে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়েছে। কিন্তু সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরও বহু ‘যোগ্য’ আবেদনকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এখনও সরকারি অনুদান পৌঁছয়নি বলে অভিযোগ। এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্যের একাধিক এলাকায় বিক্ষোভের ছবিও সামনে এসেছে। আবেদনকারীদের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমশ বাড়ছে।
শুধু অনিয়মের অভিযোগ তুলেই থেমে থাকেননি শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক । প্রকল্পের আবেদন যাচাই এবং তথ্য নথিভুক্ত করার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে নিরপেক্ষভাবে কাজ করার বার্তাও দেন বিধায়ক। তাঁর অভিযোগ, প্রশাসনিক স্তরে পক্ষপাতিত্বের কারণেই বহু প্রকৃত আবেদনকারী আজও অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। সেই ঘটনার ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
উল্লেখ্য,সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে অভিযোগ পাওয়ার পর বাঁকুড়ার মেজিয়া ব্লক উন্নয়ন আধিকারিকের দফতরে পৌঁছন চন্দনা বাউড়ি। সেখানে তিনি জানতে চান, সমস্ত নিয়ম মেনে আবেদন করা সত্ত্বেও কেন বহু মানুষের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছয়নি। একইসঙ্গে তিনি বিডিও অফিসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে আবেদন যাচাইয়ের পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কেও খোঁজ নেন।
বিধায়কের অভিযোগ, প্রকল্পের সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতার অভাব রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় দেখে আবেদন বাছাই করা হলে প্রকৃত উপভোক্তারাই শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হন। সেই কারণেই ডেটা এন্ট্রির দায়িত্বে থাকা কর্মীদের তিনি সতর্ক করেন এবং সরকারি প্রকল্পে কোনও ধরনের বৈষম্য না রাখার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, এমন কোনও কাজ না করার কথাও তিনি স্পষ্টভাবে জানান।
সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নিজের অভিযোগ আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেন চন্দনা বাউড়ি। বিধায়ক চন্দনা দাবি করেন, “মেজিয়া ব্লকে গিয়ে দেখেছি, অন্নপূর্ণা যোজনার ডেটা এন্ট্রি অপারেটার হিসাবে যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা সকলেই তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। তৃণমূলের নেতাদের পরিবারের সদস্যরাই এই কাজ করছেন। বেছে বেছে তাঁরা তৃণমূলের পরিবারের আবেদনকারীদের এই প্রকল্পের সুবিধা পাইয়ে দিচ্ছেন। অন্যদিকে বঞ্চিত হচ্ছেন বিজেপি কর্মী সহ সাধারণ পরিবারের আবেদনকারীরা।”

আরও পড়ুন :বর্ষায় যাত্রীদের স্বস্তি দিতে তৎপর পূর্ব রেল, হাওড়া থেকে ট্রেন চলবে নির্ধারিত সময়েই
তবে আবেদনকারীদের ধৈর্য্য ধরতে বলছেন বিধায়ক। আবারও ভেরিফিকেশন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চন্দনা বাউড়ির তোলা অভিযোগের জেরে অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রকল্পের সুবিধা বণ্টনের ক্ষেত্রে আদৌ কোনও অনিয়ম হয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।













