বাংলাহান্ট ডেস্ক: অনুপ্রবেশ রুখতে ফেরা কড়া বার্তা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah)। বাংলায় বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কড়া অবস্থান নিয়েছে ডবল ইঞ্জিন সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বারবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনওভাবেই অবৈধ নির্মাণ বরদাস্ত করা হবে না। সেই নীতিকেই আরও কঠোর রূপ দিতে এবার সরাসরি মাঠে নামল কেন্দ্রীয় সরকার। সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি নির্মাণ রুখতে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শুধু তাই নয়, আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সমস্ত অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপ ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে এই নির্দেশের কী প্রভাব পড়বে, তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা।
সীমান্তে ১৫ কিমির মধ্যে সব বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ অমিত শাহের (Amit Shah):
দেশের সীমান্ত সুরক্ষা আরও শক্তিশালী করতে গত কয়েক মাস ধরেই একাধিক পদক্ষেপ করছে কেন্দ্র। ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি বাড়ানোর কথা আগেই জানিয়েছিলেন অমিত শাহ। এবার সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে সরেজমিন পরিদর্শন শুরু করেছেন তিনি। সূত্রের খবর, মোট চারটি সীমান্তবর্তী রাজ্যে সফর করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আগামী ১৫ জুন পশ্চিমবঙ্গেও আসার কথা রয়েছে তাঁর। তার আগে বুধবার রাজস্থানের আন্তর্জাতিক সীমান্ত এলাকা ঘুরে দেখেন তিনি। পরে সেখানে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজস্থানের মুখ্যমন্ত্রী ভজন লাল শর্মা, রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক, বিএসএফ কর্তারা এবং সীমান্তবর্তী পাঁচ জেলার জেলাশাসক ও পুলিশ সুপাররা। বিকানের, জয়সলমের, বারমের, শ্রী গঙ্গানগর ও ফালোদির প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করেন শাহ।
আরও পড়ুন: শুধু হোল্ডিং সেন্টার নয়, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তে আরও বড় অ্যাকশন শুভেন্দু সরকারের
বৈঠকের পরেই সীমান্ত সুরক্ষা নিয়ে কড়া বার্তা দেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট জানান, সীমান্ত এলাকায় বেআইনি নির্মাণ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে যে সমস্ত অবৈধ নির্মাণ রয়েছে, সেগুলিকে দ্রুত চিহ্নিত করে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনকে বলা হয়েছে, এই বিষয়ে কোনও রাজনৈতিক বা স্থানীয় চাপের কাছে নতি স্বীকার করা যাবে না। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের মতে, সীমান্তবর্তী এলাকায় বেআইনি নির্মাণ অনেক ক্ষেত্রেই অনুপ্রবেশ, পাচার এবং অপরাধমূলক কার্যকলাপের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সেই কারণেই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে প্রতিটি সীমান্ত জেলার জন্য ৩৬০ ডিগ্রি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থল, আকাশ এবং ডিজিটাল নজরদারি একসঙ্গে জোরদার করা যায়।
শুধু অবৈধ নির্মাণ নয়, সীমান্ত ঘিরে সক্রিয় আন্তঃসীমান্ত অপরাধ চক্র নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অমিত শাহ। অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, বেআইনি অর্থ লেনদেন, অস্ত্র চোরাচালান এবং ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরির মতো অপরাধ রুখতে বিএসএফ, এনসিবি এবং রাজ্য প্রশাসনকে যৌথভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের ভূমিকা আরও বাড়ানোর উপরেও জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যাঙ্ক লেনদেনে আর্থিক নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না, বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলির অর্থের উৎস, শেল কোম্পানি ও মিউল অ্যাকাউন্টের গতিবিধি—সব কিছু খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে প্রশাসনকে। পাশাপাশি ভুয়ো আধার কার্ড শনাক্ত করে তা বাতিল করা এবং পাচার রুখতে বিশেষ নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: প্রতিরক্ষায় ঐতিহাসিক বদল! এবার বেসরকারি সংস্থাতেও তৈরি হবে ভারতের স্টেলথ যুদ্ধবিমান
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সীমান্ত সুরক্ষা ইস্যুকে সামনে রেখেই কেন্দ্র আরও কড়া প্রশাসনিক অবস্থান নিতে চাইছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলিতে অনুপ্রবেশ এবং বেআইনি দখল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সরব বিজেপি। পশ্চিমবঙ্গেও এই ইস্যু রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে অমিত শাহের (Amit Shah) আসন্ন বঙ্গ সফরের আগে এই বার্তাকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশাসনিক মহলের মতে, কেন্দ্রের এই নির্দেশ কার্যকর হলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ব্যাপক উচ্ছেদ অভিযান শুরু হতে পারে। একইসঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহারও আরও বাড়বে। কেন্দ্রের দাবি, দেশের নিরাপত্তা এবং সীমান্তের অখণ্ডতা বজায় রাখতে এই কঠোর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি।













