অনুভব হবেনা ঝাঁকুনি, অমৃত ভারত এক্সপ্রেসে রয়েছে এই অত্যাধুনিক সুবিধা

বাংলা হান্ট ডেস্ক: বর্তমান সময়ে রেল সফরকে (Indian Railways) আরও উন্নত এবং গতিশীল করে তোলার লক্ষ্যে একের পর এক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে সরকারের তরফে। যার ফলে প্রত্যক্ষভাবে লাভবান হচ্ছেন যাত্রীরা। ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে সফর শুরু করেছে বন্দে ভারতের (Vande Bharat Express) মতো অত্যাধুনিক সেমি হাই স্পিড ট্রেন। তবে, এবার ৩০ ডিসেম্বর অর্থাৎ শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) অযোধ্যা থেকে সবুজ পতাকা দেখিয়ে উদ্বোধন করলেন অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের (Amrtit Bharat Express)।

   

রেলের আধিকারিকদের মতে, এই ট্রেনে অত্যাধুনিক প্রযুক্তি রয়েছে। যা যাত্রীদেরকে নির্বিঘ্নে আরামদায়ক সফরের অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। এদিকে, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব নতুন দিল্লি রেল স্টেশনে এই ট্রেনের পরিদর্শনের সময়ে ট্রেনটির বিশেষ কাপলারের তাৎপর্য তুলে ধরেন। মূলত, ট্রেনটিতে একটি নিরাপদ পরিচালন পরিবেশ প্রদান করে ঝাঁকুনি অর্থাৎ “Jerk” কমিয়ে ফেলার ক্ষমতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

অমৃত ভারত এক্সপ্রেস ট্রেনের রুট: উল্লেখ্য যে, আপাতত ২ টি অমৃত ভারত এক্সপ্রেসের উদ্বোধন করা হয়েছে। যার মধ্যে প্রথমটি বিহারের দ্বারভাঙ্গা থেকে অযোধ্যা হয়ে দিল্লির আনন্দ বিহারের মধ্যে চলাচল করবে এবং অপর অমৃত ভারত এক্সপ্রেসটি পশ্চিমবঙ্গের মালদা টাউনকে বেঙ্গালুরুতে স্যার এম বিশ্বেশ্বরায় টার্মিনাসের সাথে সংযুক্ত করবে। এই ট্রেনগুলিতে সেমি-কাপলার প্রযুক্তি উপলব্ধ রয়েছে। এই উদ্ভাবনী প্রযুক্তিটি সর্বোচ্চ ১৩০ কিলোমিটার গতিতে ঝাঁকুনিমুক্ত যাত্রা নিশ্চিত করে।

Amrit Bharat Express has this great facility

কিভাবে এই ট্রেন ঝাঁকুনিমুক্ত ভাবে চলে: মূলত, সেমি-কাপলার প্রযুক্তি ট্রেনের চলাচল শুরু এবং থামার সময় অনুভব করা ঝাঁকুনির প্রভাব কমাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রথাগত পদ্ধতিতে যেখানে একটি কাপলার ব্যবহার করে কোচ যোগ করা হয়, সেখানে অমৃত ভারত ট্রেনে একটি অনন্য সেমি-পার্মানেন্ট কাপলার রয়েছে। যা এই ধরণের অস্বস্তি দূর করে। এর ফলে এটি যাত্রীদের আরও মসৃণ সফরের অভিজ্ঞতা প্রদানের পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের সামগ্রিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।

আরও পড়ুন: পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীরা ১০ শতাংশ DA পেলেও প্রতিমাসে কম পাচ্ছেন এত টাকা! চমকে দেবে হিসেব

এর পাশাপাশি উন্নত কাপলার প্রযুক্তি ছাড়াও, এই ট্রেনে সামনে এবং পেছনে উভয় স্থানে ইঞ্জিনের সাথে পুশ-পুল প্রযুক্তিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। অর্থাৎ, সামনের ইঞ্জিন ট্রেনটিকে টেনে নিয়ে যায়, আর পেছনের ইঞ্জিন সেটিকে সামনের দিকে ঠেলতে সহায়তা করে। এর ফলে ট্রেনটি আরও নিরাপদ ভাবে সেতু এবং বাঁকগুলিতে চলাচল করতে পারে।

আরও পড়ুন: ২২ মাসের মধ্যে প্রথম এতবড় হামলা! ১২২ টি ক্ষেপণাস্ত্র, ৩৬ টি ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনে আক্রমণ রাশিয়ার

এই প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখি যে, ভ্রমণের অভিজ্ঞতাকে আরও উন্নত করতে, অমৃত ভারত এক্সপ্রেস বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যে সজ্জিত রয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে অনুভূমিক স্লাইডিং জানালা, টয়লেটে অ্যারোসোল বেসড ফায়ার সাপ্রেশন সিস্টেম, একটি ইমারজেন্সি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট লাইট এবং LWS কোচের জন্য একটি বেঞ্চ-টাইপ ডিজাইন সহ আরও দুর্ধর্ষ সব ফিচার্স। এর পাশাপাশি ট্রেনটি স্লাইডিং দরজা সহ সংরক্ষিত এবং অসংরক্ষিত কোচগুলিকে পৃথক করে।