বাংলা হান্ট ডেস্ক: ভারতীয় (India) অস্ত্রের চাহিদা বিভিন্ন দেশে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতিমধ্যেই ভারত থেকে পিনাকা মাল্টিপল রকেট লঞ্চার কিনেছে আর্মেনিয়া (Armenia)। এবার ঐদেশ ভারতের Divyastra Mk-1 লোইটারিং মিউনিশন (ড্রোন)-এর দিকে নজর দিয়েছে। এদিকে, এই আবহেই এহেন সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আজারবাইজানের (Azerbaijan) মিডিয়া গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মূলত, এই প্রতিরক্ষা চুক্তিটি নিয়ে সেখানকার মিডিয়ায় তীব্র প্রশ্ন উঠছে। জানিয়ে রাখি যে, লখনউয়ে স্থিত হোভারিট কোম্পানির তৈরি এই ড্রোনটির ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জ এবং ১৫ কিলোগ্রাম পেলোড রয়েছে। যা এটিকে একটি অত্যন্ত মারাত্মক অস্ত্রে পরিণত করেছে। এই ড্রোনটিতে সোয়ার্ম প্রযুক্তি রয়েছে। যার ফলে এটিকে একইসঙ্গে বিপুল সংখ্যায় উৎক্ষেপণ করা যায়। এই দক্ষতা এটিকে ভারতের “মাল্টি-রোল অটোনোমাস ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাইক সিস্টেম”-এ পরিণত করেছে। আর্মেনিয়া এটি কিনলে ককেশাস অঞ্চলের কৌশলগত সমীকরণ অনেকাংশে বদলে যাবে।
ভারতের (India) কাছ থেকে অত্যাধুনিক ‘দিব্যাস্ত্র’ ড্রোন কিনতে পারে আর্মেনিয়া!
Divyastra Mk-1 নিয়ে আজারবাইজানের মিডিয়ায় কী লেখা হয়েছে: আজারবাইজানি ভাষার সামরিক ওয়েবসাইট Armiya.az “শান্তি নাকি ‘দিব্যাস্ত্র’ বিকল্প?” শিরোনামে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেছে। এতে আর্মেনীয় সেনাবাহিনীতে এই ভারতীয় অস্ত্রটি অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পরিণতি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এই ৫০০ কিলোমিটার রেঞ্জের আজারবাইজানের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোকে আর্মেনীয় আক্রমণের কাছে সহজেই অসুরক্ষিত এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলবে। আজারবাইজানের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ আর্মেনীয় সংবাদমাধ্যম হ্রাপারাকের একটি পূর্ববর্তী রিপোর্টে দাবি করা হয়েছিল যে, আর্মেনিয়া বিভিন্ন দেশের ব্যবস্থা পরীক্ষা করে ভারতীয় ড্রোন ব্যবস্থাকে সবচেয়ে প্রাণঘাতী বলে মনে করেছে। আজারবাইজানের রিপোর্টে ভারতীয় অস্ত্রের কারণে আজারবাইজানের প্রতি সৃষ্ট হুমকির ওপর আলোকপাত করা হয়েছে।

Divyastra Mk-1 কতটা বিপজ্জনক: লখনউয়ে স্থির সংস্থা হোভারিট দিব্যাস্ত্র এমকে১ তৈরি করেছে। যাকে তারা একটি মাল্টি-রোল অটোনোমাস ট্যাকটিক্যাল স্ট্রাইক সিস্টেম হিসাবে বিবেচিত করেছে। এই ড্রোনটির সর্বোচ্চ রেঞ্জ ৫০০ কিমি। এটি একটানা ৫ ঘন্টা পর্যন্ত উড়তে সক্ষম। এটি ১৫ কেজি পেলোড বহন করতে পারে এবং ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে, যা এটিকে অত্যন্ত মারাত্মক করে তোলে। এই সিস্টেমটি সম্পূর্ণ অটোনোমাস এবং এতে সোয়ার্ম-এনাবেল্ড বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার অর্থ হল এই ড্রোনগুলি দলবদ্ধভাবে একসঙ্গে শত্রুপক্ষের লক্ষ্যবস্তুতে আক্রমণ করতে পারে। এই সিস্টেমটি ‘ট্যাকটিক্যাল লোইটারিং মিউনিশন’ নামে পরিচিত। যা সহজেই নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং সুনির্দিষ্ট আঘাত হানার মিশনগুলি সম্পন্ন করতে পারে।
আরও পড়ুন: ১ অক্টোবর থেকে FD-র ক্ষেত্রে লাগু RBI-র নতুন নিয়ম! প্রভাবিত হবেন গ্রাহকরা?
এদিকে, ভবিষ্যতে আর্মেনিয়া যদি এটি ক্রয় করে, তবে এর প্রকৃত কার্যকারিতা বেশ কয়েকটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে, যেমন, পরিমাণ, কোথায় এটি মোতায়েন করা হবে, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল ব্যবস্থা, ইন্টেলিজেন্স ও টার্গেটিং নেটওয়ার্ক, ইলেকট্রনিক যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং ওয়ারহেডের গঠন। আর্মেনিয়া তার প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে বৈচিত্র্য আনতে ক্রমাগত কাজ করছে এবং ইতিমধ্যে পিনাকা মাল্টিপল রকেট লঞ্চারের মতো ভারতীয় ব্যবস্থা সংগ্রহ করেছে।
আরও পড়ুন: UPI চার্জের বিরুদ্ধে জোরদার প্রতিবাদ! ২ অক্টোবর পালন ‘No UPI Day’
সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত ও আর্মেনিয়ার মধ্যে প্রতিরক্ষা-শিল্প সহযোগিতাও বৃদ্ধি পেয়েছে এবং হোভেরিট ইতিমধ্যেই ‘দিব্যাস্ত্র’ফ্যামিলির আরও উন্নয়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। কোম্পানির একটি প্রতিবেদন অনুসারে, তাদের জেট-চালিত লোইটারিং মিউনিশন Divyastra Mk-3গত মাসে প্রথম উড়ান সম্পন্ন করেছে।













