বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের নতুন রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ সহকারী চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath) খুনের ঘটনায় বড় সাফল্য পেল তদন্তকারীরা। এই বহুচর্চিত হত্যাকাণ্ডে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি।প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের পর থেকেই রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সেই আবহেই ৬ মে রাতে মধ্যমগ্রামে ঘটে যায় চাঞ্চল্যকর এই খুনের ঘটনা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের আগেই তাঁর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুন করা হয়। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
চন্দ্রনাথ (Chandranath Rath) খুনে অভিযুক্তকে গ্রেফতার
তদন্তে উঠে এসেছে, ধৃতরা পেশাদার শার্প শুটার এবং তারা উত্তর প্রদেশে গা-ঢাকা দিয়ে ছিল। গভীর রাতে অভিযুক্তদের কলকাতায় নিয়ে এসে ভবানী ভবনে দফায় দফায় জেরা শুরু করেছে তদন্তকারী দল। আজই তাদের বারাসত আদালতে পেশ করা হবে। চন্দ্রনাথ খুনের ঘটনায় তদন্তে শুরু থেকেই নেমেছিল সিআইডি এবং এসটিএফ।
সূত্রের খবর, চন্দ্রনাথের হত্যা মামলার প্রধান শার্প শুটার উত্তর প্রদেশের বাসিন্দা রাজ সিং। জানা গেছে, তার পৈতৃক বাড়ি বিহারের বক্সারে। তাকে ইতিমধ্যেই আটক করা হয়েছে। চন্দ্রনাথ খুনে আরও এক শুটার মায়াঙ্ক মিশ্র, কুখ্যাত বক্সার ডন চন্দন মিশ্রের দলের একজন সদস্য । মায়াঙ্ক মিশ্র এবং ভিকি মৌর্যকে বক্সার থেকে আটক করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকালই তদন্তকারীরা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পান। জানা যায়, হামলাকারীরা পালানোর পথে বালি টোল প্লাজায় ইউপিআই-এর মাধ্যমে টাকা মিটিয়েছিল। সেই ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য বিশ্লেষণ করেই তদন্তকারীরা অভিযুক্তদের গতিবিধির হদিশ পান। এরপর উত্তর প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তিন সন্দেহভাজন শার্প শুটারকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, পুরো ঘটনাটি আন্তঃরাজ্য অপরাধচক্রের যোগ থাকতে পারে। তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, খুনের কাজে ব্যবহৃত গাড়িটির নম্বর প্লেট ছিল ভুয়ো। শিলিগুড়ির এক বাসিন্দা ওএলএক্সে নিজের গাড়ি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। সেই বিজ্ঞাপনে থাকা ছবির নম্বর নকল করেই ভুয়ো নম্বর প্লেট তৈরি করা হয় বলে সন্দেহ তদন্তকারীদের।

আরও পড়ুন : মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর ‘শান্তিকুঞ্জ’এ প্রথম দিন, কী কী ছিল শুভেন্দু অধিকারীর পাতে?
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ড ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতদের জেরা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলেই মনে করছেন তদন্তকারীরা। এখন নজর আদালতের নির্দেশ এবং এই হত্যার নেপথ্যে থাকা মূল চক্রীদের খোঁজে।













